ত্বক পরিচর্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রসাধনী হল সানস্ক্রিন। চিকিৎসকদের মতে, কেবল মেয়েদেরই নয়, শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা— যে কোনও মরসুমেই বাইরে বেরোনোর আগে ছেলেদেরও সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। সানস্ক্রিন কেবল ট্যান পড়ার হাত থেকে রেহাই দেয় এমনটা নয়, সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি ইউভিএ (আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি এ) এবং ইউভিবি (আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি বি)-র ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করাই সানস্ক্রিনের মূল কাজ। সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। এ ছাড়া, ত্বকে অকালে বয়সের ছাপও পড়ে না। সানস্ক্রিন কেবল এক বার মেখে বেরোলেই হল না। ঘণ্টা দুয়েক পর পর ব্যবহার করতে হবে। তাই অনেকে গাড়িতেই রেখে দেন সানস্ক্রিন। এই ভুলটা করলে সমস্যা আছে।
গরমে গাড়িগুলি অত্যধিক গরম হয়ে যায়। এতে কিন্তু সানস্ক্রিনে থাকা নানা রাসায়নিক উপকরণগুলির গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। সানস্ক্রিনে থাকে জ়িঙ্ক অক্সাইড আর অ্যাভোবেনজ়োনের মতো উপকরণ যা ত্বককে অতিবেগনি রশ্মির হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করে। অত্যধিক তাপে এই উপকরণগুলির গুণ নষ্ট হয়ে যায়।
অত্যধিক তাপের কারণে সানস্ক্রিনের মধ্যে থাকা জল আর তেল আলাদা হয়ে যায়। ফলে সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা কমে যায়। অত্যধিক পাতলা হয়ে গেলে তা ত্বকে ভালভাবে মেশেও না।
সানস্ক্রিন ভাল রাখার জন্য তার মধ্যে বেশ কিছু প্রিজ়ারভেটিভ ব্যবহার করা হয়। অত্যধিক তাপে সানস্ক্রিন থাকলে সেই প্রিজ়ারভেটিভগুলি নষ্ট হয়ে যায়। আর তখনই সানস্ক্রিনটি ব্যাক্টেরিয়ার আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়। সেই সানস্ক্রিন ত্বকে মাখা মোটেও ভাল নয়।
সানস্ক্রিন অনেক সময় প্লাস্টিকের বোতলে ভরা থাকে। অত্যধিক তাপে প্লাস্টিকের বোতল গলে যেতে পারে। সানস্ক্রিনের সঙ্গে প্লাস্টিক মিশে গেলে তা আর ব্যবহারের যোগ্য থাকে না।