Advertisement
E-Paper

মুখে কালো ছোপ? ত্বকচর্চায় নয়, ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে পুষ্টিতে! কী ভাবে দাগহীন হবে ত্বক

চিকিৎসকদের একাংশের মত, ত্বকের রং বদলের নেপথ্যে অনেক সময়েই লুকিয়ে থাকে শরীরের ভিতরে পুষ্টির ঘাটতি। অর্থাৎ সমস্যা কেবল ত্বকের নয়, স্বাস্থ্যেরও। সে ক্ষেত্রে কী করা উচিত?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ২০:৩৫
ত্বকে কালো কালো দাগের নেপথ্যে কী রয়েছে?

ত্বকে কালো কালো দাগের নেপথ্যে কী রয়েছে? ছবি: সংগৃহীত।

মুখে হঠাৎ কালচে ছোপ, চোখের নীচে দাগ, ঠোঁটের চারপাশের রং বদল— বেশির ভাগ সময়েই কাঠগড়ায় তোলা হয় রোদ, দূষণ বা নিম্নমানের প্রসাধনীকে। তার পর শুরু হয় সিরাম, ফেসপ্যাক, নামীদামি ট্রিটমেন্টের খোঁজ। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশের মত, ত্বকের এই রং বদলের নেপথ্যে অনেক সময়েই লুকিয়ে থাকে শরীরের ভিতরে পুষ্টির ঘাটতি। অর্থাৎ সমস্যা কেবল ত্বকের নয়, স্বাস্থ্যেরও।

দাগছোপে ভর্তি মুখ।

দাগছোপে ভর্তি মুখ। ছবি: সংগৃহীত

বিশেষ করে, ভারতীয় নারীদের ক্ষেত্রে হাইপারপিগমেন্টেশন বা ত্বকের নির্দিষ্ট অংশ কালচে হয়ে যাওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। কারণ ভারতীয়দের ত্বকে মেলানিন উৎপাদন স্বাভাবিক ভাবেই বেশি হয়। পাশাপাশি, অস্বাস্থ্যকর বা অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, নিরামিষ এবং ভিগান ডায়েট, সুরক্ষার পরোয়া না করেই রোদে বেরোনো, সারা ক্ষণ ব্যস্ততা, প্রদাহ, হরমোনের ওঠানামা এবং পুষ্টির অভাবেও দ্রুত দাগছোপ দেখা দিতে পারে মুখে ও দেহে। তাই খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। কিন্তু তার আগে জেনে নিতে হবে, কোন কোন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিতে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৫ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির কারণে ত্বকে দাগছোপের সমস্যা

ভিটামিন বি ১২: শরীরে এই ভিটামিনের পরিমাণ কমে গেলে শুধু দুর্বলতা বা ক্লান্তিই নয়, ত্বকের বিভিন্ন জায়গায় কালচে দাগও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে মুখ, হাত বা আঙুলের গাঁটের রং গাঢ় হয়ে যেতে পারে। এই ভিটামিন ত্বকে মেলানোসাইট নিয়ন্ত্রণের জন্য অপরিহার্য, আর এর ঘাটতিতে মেলানিন উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। ফলে ত্বকে কালো ছোপ ফুটে ওঠে। নিরামিষাশী এবং ভিগানদের মধ্যে এই ঘাটতি তুলনামূলক বেশি দেখা যায় বলেও অনেকের মত। কারণ, ভিটামিন বি ১২-এর মূল উৎস প্রাণীজ খাবারে।

ভিটামিন ডি: শরীরে ভিটামিন ডি পর্যাপ্ত পরিমাণে শরীরে না পৌঁছোলে ত্বকের সুরক্ষাস্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগনি রশ্মি থেকে ত্বককে সহজে রক্ষা করা যায় না। আর নানা জায়গায় কালো ছোপ পড়তে থাকে। ত্বকে কালো দাগছোপ পড়লে সূর্য থেকে ভিটামিন ডি পেতেও সমস্যা হয়।

আয়রন: শরীরে আয়রন কমে গেলে রক্তাল্পতা তৈরি হয়। তার প্রভাব পড়ে ত্বকেও। ত্বক নিষ্প্রভ দেখাতে শুরু করে, চোখের নীচে কালচে ভাব বাড়তে পারে, এমনকি মুখের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্যও কমে যায়। আয়রনের অভাবেই ত্বকে অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস ও সোরিয়াসিসের মতো সমস্যা দেখা দেয় বলে দাবি একাধিক গবেষণায়।

ফোলেট বা ভিটামিন বি ৯: ডিএনএ সংশ্লেষ এবং কোষের মেরামতির জন্য ফোলেটের গুরুত্ব অপরিসীম। এর ঘাটতি হলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগনি রশ্মি খুব দ্রুত ত্বকে কালো ছোপ তৈরি করতে পারে। অসমান ভাবে দাগ তৈরি হয় সারা গায়ে ও মুখে। ত্বক ক্লান্ত এবং বিবর্ণ দেখাতে পারে।

জ়িঙ্ক: ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য জ়িঙ্ক প্রয়োজনীয়। এটি ত্বকের প্রদাহ কমাতে এবং ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। শরীরে জ়িঙ্ক কমে গেলে ব্রণের দাগ দীর্ঘ দিন থেকে যেতে পারে, ত্বকে জ্বালা হতে পারে এবং পিগমেন্টেশনও বাড়তে পারে।

তাই শুধু ক্রিম বা সিরামের উপর ভরসা না করে খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসব্জি এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবারের ভূমিকা নিয়ে সতর্ক হতে হবে। তবেই মিলবে দাগহীন, কোমল ত্বক।

Pigmentation Skin Care Nutrition defficiency
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy