সীমান্ত এলাকাগুলিতে কেন বিশেষ করে জনবিন্যাস পাল্টে যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে ডেমোগ্রাফি মিশনের অন্তর্গত উচ্চস্তরীয় কমিটিকে আজ নির্দেশ দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
গত বছর স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে জনবিন্যাসের চরিত্র বদল ঠেকাতে নরেন্দ্র মোদী ডেমোগ্রাফি মিশন গঠনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। সেই মতো গত ২৬ মে ওই কমিটি গঠন করা হয়। আজ ওই কমিটির সঙ্গে বৈঠকে অমিত শাহ দেশের সব সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে, বিশেষ করে পূর্ব সীমান্তের জেলাগুলিতে জনবিন্যাসের চরিত্র ও কাঠামোতে কী পরিবর্তন হয়েছে, তা সমীক্ষা করে দেখার উপরে জোর দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র সূত্রের মতে, ধারাবাহিক অনুপ্রবেশের ফলে পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি যেমন পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলির জনবিন্যাসের চরিত্র স্বাধীনতার পর থেকে অনেকটাই পাল্টে গিয়েছে। সেটা দেশের সুরক্ষার জন্য বড় ধরনের বিপদ বলে মনে করে বর্তমান সরকার।
কেন্দ্রীয় সূত্রে বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসন ও অন্যান্য কারণবশত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনসংখ্যার পরিবর্তন, অস্বাভাবিক হারে বসতি স্থাপন ও জনসংখ্যার স্থানান্তরিত হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে যাওয়ার বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন করে এই পরিবর্তনের কারণ খতিয়ে দেখবে ওই কমিটি। ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা রোখার প্রশ্নে উপযুক্ত নীতিগত, আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপর সুপারিশও করবে তারা। জনবিন্যাসের পরিবর্তনের কারণে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলি নিয়েও বিশদে আলোচনা করবে কমিটি।
সূত্রের মতে, আজকের বৈঠকে সীমান্ত এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন মেট্রো শহর, শিল্পশহর ও জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেও কেন জনবিন্যাস পাল্টে যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার উপর জোর দিয়েছেন শাহ। স্বরাষ্ট্র সূত্র বলছে, পূর্ব সীমান্ত দিয়ে ধারাবাহিক অনুপ্রবেশের প্রভাব যেমন পার্শ্ববর্তী বিহারের সীমাঞ্চল ও ঝাড়খণ্ডের ছোটনাগপুরের জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় পড়েছে, তেমনই দেশের বিভিন্ন শিল্প করিডর, সস্তা শ্রমের প্রয়োজন রয়েছে এমন শহরগুলিতেও জনবিন্যাসের চরিত্র পাল্টে যাচ্ছে। এ ধরনের বদল কোনও ভাবেই নিছক জন্ম বা মৃত্যুহার কম-বেশি হওয়া দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। তাই জাতীয় গড়ের চেয়ে জন্মহার যেখানে বেশি, সেখানে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়গুলির মধ্যে কী ভাবে জনসংখ্যা পরিবর্তিত হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে কমিটিকে। পাশাপাশি, ওই কমিটি দেশে বসবাসকারী অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ, আটক ও তাদের নিজের দেশে ফেরানোর প্রশ্নেও স্থায়ী ব্যবস্থার সুপারিশ করবে বলে কথা রয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)