নারীদের পাশাপাশি পুরুষেরাও ইদানীং রূপসচেতন হচ্ছেন। ত্বকের যত্ন যে মহিলাদের পাশাপাশি পুরুষদেরও দরকার— তা নিয়ে সমাজমাধ্যমে চর্চাও বেড়েছে। কিন্তু সকলেই যে তা নিয়ে সচেতন, এমন নয়। অনেকেই ভাবেন, বাড়ি ফিরে মুখে সাবান ঘষে স্নান করে নিলেই যথেষ্ট।
কিন্তু ত্বক নিয়ে সমস্যা পুরুষদেরও হয়। মুখে ব্রণ-ফুস্কুড়ি হলে তার সমাধান শুধু সাবান দিয়ে মুখ ধোয়া হতে পারে না। তখন কী করণীয়? চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, প্রথমে দেখা দরকার সমস্যা কেন হচ্ছে। বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছে মেয়েদের শরীরে, হরমোনের মাত্রায় যেমন বদল আসে, তেমনটি হয় পুরুষদেরও। হরমোনের ভারসাম্যহীনতার জন্য ব্রণ হলে আগে তা ঠিক করা প্রয়োজন। আবার পেট পরিষ্কার না হলেও, এমনটা হতে পারে। তাই শরীরের যত্নও জরুরি। পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত জল খাওয়া প্রয়োজন। তার সঙ্গে দরকার ত্বকের প্রাথমিক যত্ন।
· ক্লিনজ়িং-এর শর্ত নারী-পুরুষ সকলের জন্যই প্রযোজ্য। দিনের শেষে বাড়ি ফিরে শুধু জল দিয়ে মুখ ধোয়া যথেষ্ট নয়। মুখে জমে থাকা ধুলো-ময়লা পরিষ্কার না হলে ত্বকের সংক্রমণের ঝুঁকি থাকেই। বেছে নিন ত্বক বান্ধব ফেসওয়াশ। ত্বকের ধরন তৈলাক্ত হলে, জেল বেসড বা তেলমুক্ত ফেসওয়াশ বেছে নিতে হবে। তবে তাতে যেন প্যারাবেন, অ্যালকোহল না থাকে।
আরও পড়ুন:
· ক্লিনজ়িংয়ের পরে টোনার ব্যবহার করলে ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য ঠিক থাকে। ব্রণ বা ফুস্কুড়ির সমস্যা থাকলে ভাল হয় নিমের টোনার। বাজারচলতি নিম টোনার যেমন আছে, তেমনই বাড়িতেও নিমপাতা জলে ফুটিয়ে ছেঁকে বোতলে ভরে রাখতে পারেন।
· পরের ধাপ হল ময়েশ্চারাইজ়ারের ব্যবহার। তৈলাক্ত ত্বক মানেই কিন্তু তা আর্দ্র না-ও হতে পারে। বেশি করে জল খেলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে। তবে ত্বকের ধরন তৈলাক্ত হলে যে কোনও ক্রিম-ময়েশ্চারাইজ়ার নয়, এমন ত্বকের জন্য যেগুলি বিশেষ ফর্মুলায় তৈরি, তার মধ্যে থেকে বেছে নিতে হবে।
· মাসে এক বা দু’দিন ফেস প্যাক ব্যবহার করলেও ত্বক উজ্জ্বল হয়। চন্দন-নিমের ফেসপ্যাক পাওয়া যায়। তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যায় মুলতানি মাটিও গোলাপজল দিয়ে গুলে মেখে নিতে পারেন।
ব্রণের সমস্যা: ত্বক নিয়ম করে পরিষ্কার রাখলে ব্রণের সমস্যা বশে থাকার কথা। তবে তার পরেও যদি ব্রণ থাকে, এটা-ওটা না মেখে সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভাল। ত্বকের ধরন বুঝে তাঁরা সঠিক মলম দিতে পারবেন। একই সঙ্গে খাওয়াদাওয়ায় বদল আনাও জরুরি। তৈলাক্ত বা বেশি ভাজাভুজি খাওয়ার প্রবণতার জন্যও ব্রণের সমস্যা বাড়ে।