রূপচর্চার জগতে জনপ্রিয়তা বেড়েছে রকমারি থেরাপি, যন্ত্রনির্ভর ফেশিয়ালের। ত্বক ভাল রাখতে লোকজন মাখেন ত্বকবান্ধব অ্যাসিড সমৃদ্ধ নানা রকম সিরাম (রেটিনল, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড, নিয়াসিনামাইড)। তবে যখন আধুনিক এই জিনিসপত্র ছিল না, তখনও কিন্তু ত্বকের যত্ন নিতেন মহিলারা। ভরসা থাকত মুলতানি মাটি, গোলাপ, কেশর, হলুদ, চন্দন, নিমের মতো প্রাকৃতিক উপাদান এবং ভেষজে। এখনও কেউ কেউ প্রাকৃতিক সেই পন্থাই মানেন।
চাইলে প্রকৃতির এই সম্পদকে আপনিও কাজে লাগাতে পারেন রূপচর্চায়। গরমের মরসুম মানে ঘাম, ময়লায় তৈলাক্ত হয়ে যায় ত্বক। যাঁদের ত্বকের ধরন তৈলাক্ত তাঁদের আবার ব্রণ, ফুসকুড়ির সমস্যাও দেখা যায়। এমন ত্বকের যত্নে বেছে নিতে পারেন মুলতানি মাটি।
মুলতানি মাটি মূলত এক ধরনের খনিজসমৃদ্ধ মাটি, যা অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সিলিকেট দিয়ে গঠিত। এই মাটি দেখতে ধূসর, বাদামি। জলীয় পদার্থ বা তেল খুব সহজে শোষণ করতে পারে মুলতানি মাটি। আগেকার দিনে মুখ পরিষ্কার করতে ব্যবহার করা হত এই মাটি। মাটির পরত মুখে লাগালেই আরাম বোধ হয়। প্রদাহ কমে। এখনও বাজারে মেলে এই মাটি। তা দিয়ে কী ভাবে প্যাক বানাবেন?
মুলতানি মাটি, বেসন, গোলাপজল, চন্দন: মুলতানি মাটির সঙ্গে বেসন, চন্দন এবং গোলাপ জল মিশিয়ে মুখে লাগান। তবে তার আগে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। মুখ থেকে অতিরিক্ত তেল টেনে বার করবে এই ফেস প্যাক। প্যাক ব্যবহারে ত্বকের কালচে ভাবও কমবে। আরাম হবে ত্বকে।
মাটি, নিমপাতা বাঁটা, গোলাপ জল: মুলতানি মাটি গোলাপ জল দিয়ে গুলে নিন। যোগ করুন নিমপাতা বাঁটা। নিমপাতায় রয়েছে অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান। মুখের ছোটখাটো সংক্রমণ দূর করবে এই প্যাক।
মুলতানি মাটি এবং পেঁপে: পাক পেঁপেও ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। মুলতানি মাটি জল দিয়ে গুলে নিন। যোগ করুন পাকা পেঁপের ক্বাথ। ত্বকের ধরন সাধারণ বা অল্প তৈলাক্ত হলে এই প্যাকটি মাখুন। শুষ্ক ত্বকেও ব্যবহার করা যায়। সে ক্ষেত্রে ১ চা-চামচ মধু মিশিয়ে নিন।