মরসুম বদলের সঙ্গে সঙ্গে খাবারদাবারের ধরনও পাল্টাতে থাকে। ঠিক যে ভাবে গ্রীষ্মে ঠান্ডা খাবার, মরসুমি ফলের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে থাকে। কিন্তু কখনও কখনও সেগুলির মধ্যেও এমন কিছু খাবার থাকে, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। গরমের সময়ে ব্রণের সমস্যা বাড়তে থাকে অনেকের ত্বকে। কিন্তু ব্রণের নেপথ্যে কেবল আবহাওয়া নয়, কিছু খাবারের প্রভাবও থাকতে পারে। রইল সেই সমস্ত খাবারের তালিকা। তবে মাথায় রাখতে হবে, সবার শরীর এক রকমের নয়। কারও ক্ষেত্রে কোনও খাবার প্রভাব ফেলতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে না-ও পারে।
কোন খাবার থেকে ব্রণের সমস্য়া বাড়ছে? ছবি: সংগৃহীত
১. চিনি: গরমে আইসক্রিম, কুলফি, ঠান্ডা মিষ্টি পানীয়— এ সবের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে শরীরে ইনসুলিনের ওঠানামা শুরু হয়, যা ত্বকের তেল উৎপাদন বাড়াতে পারে এবং ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
২. দুগ্ধজাত পণ্য: কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দুধ বা কিছু দুগ্ধজাত পণ্য ইনসুলিন ও কিছু হরমোনের মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে, যা ত্বকের তেল উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। তা থেকে ব্রণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তবে এই বিষয়টি এখনও সব ক্ষেত্রে একই ভাবে প্রমাণিত নয় বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
দুধ বা কিছু দুগ্ধজাত পণ্যও ব্রণের সমস্যা বাড়াতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
৩. জাঙ্ক ফুড: চপ, শিঙাড়া, পকোড়া, চিপ্স বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে একই তেল বার বার গরম করে তাতে ভাজা হয় অনেক খাবার। সে ক্ষেত্রে ফ্যাটের আণবিক গঠন পরিবর্তিত হয়ে অস্বাস্থ্যকর ট্রান্স ফ্যাট তৈরি হতে পারে, যা শরীরে প্রদাহ বাড়ায় এবং ত্বকের উপরও প্রভাব ফেলে।
অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার থেকেও ব্রণ হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
৪. আম: আম নিয়ে বহু দিন ধরেই একটি ধারণা রয়েছে— বেশি আম খেলেই নাকি ব্রণ হয়! তবে আম সরাসরি ব্রণের কারণ নয়। এই ফলে প্রাকৃতিক চিনি এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনায় বেশি থাকায় অতিরিক্ত খেলে কারও কারও ত্বকে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ইনসুলিনের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে তেল উৎপাদন বেড়ে যায় এবং ব্রণ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক আগে থেকেই ব্রণপ্রবণ, তাঁদের জন্য আম সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। কারও কারও আবার আম খেলে মুখে অ্যালার্জিও হয়।
আরও পড়ুন:
৫. প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট: জিমে গিয়ে শারীরচর্চা করা বা পেশিবহুল দেহ পাওয়ার আশায় অনেকেই এখন প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট খাচ্ছেন। সেগুলির মধ্যে ওয়ে প্রোটিন খুবই জনপ্রিয় হয়েছে। কিন্তু কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কারও কারও ক্ষেত্রে এই ওয়ে প্রোটিন ত্বকের তেল উৎপাদন বাড়াতে পারে। ফলে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যেতে পারে।