Advertisement
E-Paper

চোখের পাতায় কম্পন টের পাচ্ছেন? বুক ধড়ফড়ও বেড়ে গিয়েছে? নির্দিষ্ট খনিজের ঘাটতি রয়েছে কি শরীরে

পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা, হাড়ের গঠন এবং হৃৎস্পন্দনকে সুস্থ রাখার জন্যেও ম্যাগনেশিয়ামের গুরুত্ব রয়েছে। খনজটির ঘাটতি রয়েছে কি না, বুঝবেন কী ভাবে?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ১৯:২০
কোন খনিজের অভাবে এমন উপসর্গ দেখা যায়?

কোন খনিজের অভাবে এমন উপসর্গ দেখা যায়? ছবি: সংগৃহীত।

সারা দিন ক্লান্তিতে ধুঁকছে শরীর, বুক ধড়ফড় করেই চলেছে— এ সমস্ত বিচ্ছিন্ন উপসর্গ না-ও হতে পারে। কখনও কখনও নেপথ্যে থাকতে পারে একটি সাধারণ খনিজের ঘাটতি। আর তা হল, ম্যাগনেশিয়াম। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক খনিজ, যা শরীরের প্রায় ৩০০টিরও বেশি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কাজ করে। পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা, হাড়ের গঠন এবং হৃৎস্পন্দনকে সুস্থ রাখার জন্যেও ম্যাগনেশিয়ামের গুরুত্ব রয়েছে।

শরীরের একাধিক জরুরি কাজের সঙ্গে জড়িত এই খনিজ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সচেতন হয়েছেন অনেকে। ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি নানা সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে। কিন্তু এই খনিজের অভাব হলে শরীরে কেমন প্রভাব পড়ে, তা অনেক সময়েই চিহ্নিত করতে পারেন না লোকে। তাই উপসর্গ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি হওয়া দরকার। কেবল শারীরিক বা মানসিক নয়, চোখ এবং মুখেও ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতির প্রভাব পড়ে।

চোখে নানা রকমের সমস্যা দেখা দেয় ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে।

চোখে নানা রকমের সমস্যা দেখা দেয় ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে। ছবি: সংগৃহীত

চোখের পাতায় কম্পন: গত কয়েক দিন ধরে চোখের পাতায় কম্পন লক্ষ করছেন? অনেকেই কুসংস্কারের জেরে লক্ষণ এড়িয়ে যান, কিন্তু এই সমস্যার মূলে থাকতে পারে এই খনিজের ঘাটতি। এই রোগকে বলে মায়োকাইমিয়া। চোখের পাতার পেশিতে সঙ্কোচন হতে থাকে। ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতির অতি সাধারণ এক উপসর্গ এটি।

চোখের তলায় কালি: দিনভর চোখ ফোলা থাকা, চোখের তলায় কালি পড়াও এই খনিজের ঘাটতির কারণে হতে পারে। শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে রক্তের সরবরাহ ও সঞ্চালনে প্রভাব পড়ে। চোখের তলার ত্বক যেহেতু স্পর্শকাতর, তাই সেই অংশের ত্বক কালচে দেখায়। যদি ঘুম পর্যাপ্ত হয়, তার পরও এই সমস্যা থাকে, তা হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত। অন্য দিকে ম্যাগনেশিয়াম শরীরে তরলের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করতে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তাই এই খনিজের মাত্রা কমে গেলে চোখের তলায় তরলের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে ফোলা দেখায়।

অতি শুষ্ক ত্বক: হাইড্রেশন, কোষের মেরামতি, প্রদাহ কমানো— এই ধরনের কাজের ক্ষেত্রেও ম্যাগনেশিয়ামের অবদান রয়েছে। এই খনিজের অভাবে ত্বকের নানা সমস্যা প্রকাশ্যে আসে। অস্বস্তি, লালচে ভাব, শুষ্কতা, রুক্ষতা সব ভিড় করে তখন।

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা: ম্যাগনেশিয়াম স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। এর ঘাটতি হলে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ, অস্থিরতা, খিটখিটে ভাব বা ঘুমের সমস্যা বাড়তে পারে। অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না যে, মানসিক চাপের নেপথ্যে শরীরের পুষ্টির অভাবও ভূমিকা নিতে পারে। শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের পরিমাণ ঠিকঠাক থাকলে মাথা ঠান্ডা থাকে, বুক ধড়ফড় কম হয়, প্যানিক অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে। তার মূল কারণ, মস্তিষ্কে গামা-অ্যামিনোবিউটাইরিক অ্যাসিড (গাবা) নামক নিউরোট্রান্সমিটার এবং ম্যাগনেশিয়ামের যুগলবন্দি উত্তেজনা কমিয়ে স্নায়ুকে ঠান্ডা করার জন্য কার্যকরী।

কোন ধরনের খাবার খাওয়া উচিত?

কোন ধরনের খাবার খাওয়া উচিত? ছবি: সংগৃহীত

পেশিতে টান: পেশির সঙ্কোচন ও প্রসারণের জন্য ম্যাগনেশিয়ামের প্রয়োজন। যদি দেখা যায়, কারও দীর্ঘ দিন ধরে পেশিতে টান ধরছে, তা হলে বুঝতে হবে, ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি রয়েছে শরীরে। হঠাৎ পায়ে টান ধরা বা পেশিতে অস্বস্তি থাকলেও সচেতন হতে হবে। নেপথ্যে একই কারণ থাকতে পারে।

মাইগ্রেনের ব্যথা: মাইগ্রেনের ব্যথার সঙ্গে স্নায়ুর সম্পর্ক রয়েছে। আবার স্নায়ুর কার্যকারিতার জন্য ম্যাগনেশিয়ামের গুরুত্ব রয়েছে। ফলে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হলে মাইগ্রেনের জন্য মাথাব্যথা হতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, ঘন ঘন মাথাব্যথা হলে ম্যাগনেশিয়াম পরীক্ষা করানো উচিত। যদিও সব মাইগ্রেনের কারণ এক নয়, তবু এই খনিজের ভারসাম্য মস্তিষ্কের স্নায়ুর কার্যকলাপের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

কী কী খাবার থেকে ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যেতে পারে?

· কলা

· অ্যাভোকাডো

· কুমড়োর বীজ, চিয়া বীজ

· বাদাম (আমন্ড, কাজু, চিনেবাদাম)

· শাকসব্জি (পালংশাক)

· ডাল (ব্ল্যাক বিন্‌স, এডামামে)

· ডার্ক চকোলেট

· ব্রাউন রাইস

Magnesium Magnesium Deficiency
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy