Advertisement
E-Paper

একটানা অফিসে বসে কাজ, পায়ে কি রক্ত জমাট বাঁধছে? বুঝে নিন তিন লক্ষণেই, সতর্ক হবেন কখন

দীর্ঘ ক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসে থাকার ফলে, রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। পায়ে তরল জমতে পারে। কোন লক্ষণে বুঝবেন, সমস্যা গুরুতর?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ১৯:০৯
3 Warning Signs of Poor Blood Circulation in Legs

কোন লক্ষণে বুঝবেন পায়ে রক্ত সঞ্চালন কমে গিয়েছে? ছবি: সংগৃহীত।

পেশাজগতে অনেকটাই বদল এসেছে বিগত দুই দশকে। কর্পোরেট সংস্কৃতিতে কাজের সময়সীমাও নির্দিষ্ট থাকে না। বহু বেসরকারি দফতরেই চেয়ারে বসে কাজ করতে করতে কখন যে অনায়াসে ৭-৮ ঘণ্টা কেটে যায়, টের পান না কর্মীরা। একটানা বসে থাকার ফলেই দেখা দেয় নানা রকম সমস্যা। এতে ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়ে। হার্টের স্বাস্থ্যের পক্ষেও টানা বসে থাকা ভাল নয়। দীর্ঘ ক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসে থাকার ফলে, রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। পায়ে তরল জমতে পারে। কোন লক্ষণে বুঝবেন, সমস্যা গুরুতর।

পা এবং গোড়ালির অংশ কি ফুলছে?

লম্বা সময় ধরে ওঠা-হাঁটার সুযোগ হয় না। হঠাৎ করেই কি মনে হচ্ছে, পায়ের পাতা ফুলে যাচ্ছে বা পা ভারী লাগছে? চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় ‘পেরিফেরাল এডিমা’। দীর্ঘ ক্ষণ পা ঝুলিয়ে রাখলে রক্তস্রোত এবং শরীরের তরল মাধ্যাকর্ষণের টানে পায়ের দিকে নামতে শুরু করে। সে সব এসে জমে শরীরের নিম্নাংশের কোষ এবং কলায়। ফলে পা ফুলতে শুরু করে। নিয়মিত একই সমস্যা হলে সতর্কতা জরুরি। এমন লক্ষণকে অবহেলা করলে বিপদ হতে পারে। রক্তনালির ভিতরে এন্ডোথেলিয়াম। তা ছাড়া শিরায় থাকা একমুখী ভালভের মাধ্যমে রক্ত হৃৎপিণ্ডে পৌঁছোয়। কোনও কারণে এন্ডোথেলিয়ামের কার্যক্ষমতা নষ্ট হলে রক্তপ্রবাহের স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হতে পারে। নির্দিষ্ট শিরার উপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে।

জালকের মতো শিরা দেখা দেওয়া: পায়ের মধ্যে লালচে, নীল বা বেগনি শিরা জালকের মতো দেখা দিলে সতর্ক হওয়া দরকার। শিরায় থাকা একমুখী কপাটিকা রক্তকে উপরের দিকে পাঠাতে এবং তা যাতে নীচে নামতে না পারে, সে ব্যাপারে সাহায্য করে। লম্বা সময় ধরে এবং দিনের পর দিন পা ঝুলিয়ে কাজ করার ফলে, কিছু শিরায় রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। কোনও কারণে এই একমুখী কপাটিকা ঠিকমতো বন্ধ না হলে রক্ত উল্টোপথে চলে আসতে পারে। ফলে শিরা ফুলে যায় এবং আঁকাবাঁকা হয়ে প্রসারিত হয়। একেই বলা হয় ‘স্পাইডার ভেন’। এ ছাড়াও ‘ভেরিকোজ় ভেন’ হতে পারে, যেখানে শিরা ফুলে নীলচে হয়ে যায়।

ঝিঁঝিঁ ধরা এবং পা অবশ হয়ে যাওয়া: পা ঝুলিয়ে বসার পরে অনেকেরই পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরে। কখনও কখনও তা এতটাই বেশি হয় যে, পা অসাড় লাগে। সাময়িক ভাবে বা এক, দুই দিন হলে বিষয়টি একরকম, কিন্তু নিয়মিত এমনটা হলে সতর্কতা জরুরি। রক্তনালি দিয়ে রক্তপ্রবাহ ঠিক না থাকলে বিশেষ কোনও স্নায়ুর উপরে চাপ পড়তে পারে। তার ফলে শরীরের ওই অংশ থেকে তথ্য মস্তিষ্কে ঠিক ভাবে পৌঁছোতে পারে না। ফলে শরীরের ওই অংশে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এর ফলে ঝিঁঝিঁ ধরতে পারে। ফলে সুচ ফোটার অনুভূতি তৈরি হয়।

ঝুঁকি কোথায়

পা ফোলা, ভেরিকোজ় ভেন বা ঝিঁঝিঁ ধরার মতো সমস্যাগুলিকে অনেকেই হালকা ভাবে নেন। কিন্তু সব সমস্যা মিললে, তা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তা ছাড়া, রক্ত সঞ্চালন কমে গেলে, রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতাও তৈরি হতে পারে।

কী ভাবে সমস্যার সমাধান সম্ভব

• টানা একই ভাবে বসে থাকা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। আধ থেকে এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত ২-৩ মিনিট দাঁড়ানো এবং হাঁটা ভাল।

• চেয়ারে বসেই পায়ের কিছু ব্যায়াম করতে পারেন। পায়ের পাতা টান করে আবার পূর্বের অবস্থায় ফেরান। এই ভাবে বার কয়েক করতে হবে। সম্ভব হলে পায়ের নীচে টুল রাখতে পারেন, যাতে সর্ব ক্ষণ পা ঝুলিয়ে না বসতে হয়।

• বসার সময় পায়ের পাতা যেন মাটিতে স্পর্শ করে থাকে। পায়ের উপর পা তুলে রাখলে বা পা ঝুলিয়ে রাখলে সমস্যা বেশি হতে পারে।

Blood Circulation
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy