স্কুলের ব্যাগটা বড্ড ভারী হয়। বই-খাতা, জলের বোতল, পেন-পেন্সিলের বাক্স, টিফিন কৌটো— ব্যাগভর্তি জিনিস থাকে। কর্মজীবনে প্রবেশ করার পর স্কুলের ব্যাগের বদলে কাঁধে তুলে নিতে হয় অফিসের ব্যাগ। সেই ব্যাগেও ভরা থাকে হাজার জিনিস। অফিসে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক মহিলারই পছন্দ টোটব্যাগ। ল্যাপটপ, টিফিন, জলের বোতল ছাড়াও কেউ কেউ নিজের ব্যাগে গোটা সংসার ভরে নেন। এই অভ্যাসে ক্ষতি হচ্ছে শরীরের। অফিসের সাজপোশাকের সঙ্গে টোটব্যাগটা খুব ভাল মানালেও শরীরের জন্য বিপদজ্জনক হয়ে উঠতে পারে ফ্যাশনের এই কায়দা।
অফিসযাত্রীদের মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ মানুষ প্রতি বছর ঘাড়ের ব্যথায় ভোগেন। অধিকাংশের ক্ষেত্রেই এক কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ অঙ্গবিন্যাসের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ক্ষেত্রে বেশিরভাগই পেশি ও অস্থিসংক্রান্ত ব্যথায় ভোগেন, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে নয়, বরং পেশি, হাড়, সন্ধি, লিগামেন্টে হয়ে থাকে। চিকিৎসকদের মতে, মহিলা অফিসযাত্রীরা ভুল ব্যাগ বাছাই করার কারণে বেশি যন্ত্রণায় ভোগেন। যে সব মহিলারা টোট ব্যাগে নিয়মিত ল্যাপটপ বহন করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কাঁধের ব্যথার ঝুঁকিটা অনেক বেশি।
আরও পড়ুন:
যখন এক কাঁধে বেশি ওজনের একটি ল্যাপটপের ভার বহন করা হয়, তখন শরীর অনিবার্যভাবে একদিকে হেলে যায়। এর ফলে, ওই পাশের ঘাড়, কাঁধ এবং পিঠের উপরের অংশের পেশিগুলিকে অন্য পাশের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। ফলে পেশিগুলি ক্লান্ত হয়ে পড়ে ও ফুলে যায়। এই অসম চাপের কারণে সার্ভিকাল স্পাইনে যন্ত্রণা শুরু হয় এবং স্নায়ুগুলির সঙ্কোচন হয়, যার ফলে শরীরে অস্বস্তি বাড়ে।
কী ভাবে সমস্যার হাত থেকে রেহাই পাবেন?
ল্যাপটপ না নিয়ে অফিস যাওয়ার উপায় নেই। তাই ব্যাগ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্টাইলের সঙ্গে খানিকটা আপস করে ব্যাগপ্যাকেই ভরসা রাখতে হবে। শুধু তা-ই নয়, খুব বেশি জিনিস ব্যাগে ভরাও চলবে না।