Advertisement
E-Paper

ওঁরা গঙ্গাজলে শুদ্ধ করেছেন, আমরা আইনি পথে সংগঠনকে ফের মুক্ত করব: রতনকে চ্যালেঞ্জ পিয়ার?

“আমি যদি স্বজনপোষণ করে স্বামী অনুপ সেনগুপ্ত, ছেলে বনি সেনগুপ্তকে আনি, তা হলে শতদীপ সাহা কী করছেন? তিনি রতন সাহার পুত্র নন?”

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ১৯:২৭
সাংবাদিক বৈঠকে ইমপা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত।

সাংবাদিক বৈঠকে ইমপা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। নিজস্ব ছবি।

প্রত্যেক বার তিনি বৈঠক ডাকেন ইমপা-র অফিসে। এই প্রথম সংগঠনের বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত সাংবাদিকদের মুখোমুখি প্রেস ক্লাবে! সোমবার সকালেই বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বিক্ষুব্ধ প্রযোজকেরা। তাঁদের অন্যতম সদস্য শ্যামল দত্তের দাবি, “উনি পরাজয় মেনে নিয়েছেন! ইমপা-র অফিসে পা রাখতে সাহস পাচ্ছেন না!”

এ দিন সেই কটাক্ষের জবাব দিয়ে সাংবাদিক বৈঠক শুরু করলেন পিয়া। বললেন, “২২ মে-র ঘটনা আপনারা ভুলে যাননি। আমরাও ভুলিনি। একদল ‘বহিরাগতের’ তাণ্ডবে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। পুলিশ উপস্থিত থেকেও ওঁদের আটকাতে পারেনি। পরিবারের সদস্যেরা তাই আপাতত অফিসে বৈঠক করতে নিষেধ করেছেন।” তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিকদের কাছে। বলেছেন, “কিসের পরাজয়? কমিটির সদস্যদের ছাড়াই ভোট হয়ে গেল নাকি?” তার পরেই পিয়া অকপট। জানিয়েছেন, ভয় তিনি পাচ্ছেন। কারণ, আগের দিন লোক বাড়াতে অভিনেতা, খেলোয়াড়, জনসংযোগ আধিকারিকদের পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ প্রযোজকেরা নিয়ে এসেছিলেন। তাঁরা শালীনতার সীমা ছাড়িয়েছিলেন। বার বার একই ঘটনা তাঁর শরীর এবং মনের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই নিজেকে সামলাতেই এই পন্থা।

এ দিন পিয়ার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী চাঙ্কি জয়সওয়াল। তিনি স্পষ্ট করে দেন বিক্ষুব্ধদের তোলা ‘অবৈধ’ প্রসঙ্গটি। তাঁর কথায়, “হাই কোর্টের বিচারপতি অরিন্দম মুখার্জি পিয়া সেনগুপ্তকে বৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত করেছেন। পিয়ার এই কার্যকালের মেয়াদ ২০২৭ পর্যন্ত। তিনি সিলেক্টেড নন, ইলেক্টেড প্রার্থী। ধ্বনিভোট দিয়ে কোনও বৈধ নির্বাচিত প্রার্থীকে সময়ের আগে পদ থেকে সরানো যায় না।” কথাপ্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, এর আগে একাধিক বার বিষয়টি নিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিক্ষুব্ধ প্রযোজকেরা। কিন্তু আইনি ভাবে তাঁরা জিততে পারেননি। নির্বাচনেও তাঁরা জিততে পারেননি। ফলে, ২০২৭-এর আগে পিয়াকে সরানো মানে আইন লঙ্ঘন করা। আইনজীবীর কথার সূত্রেই এ দিন রসিকতার সুর পিয়ার কথায়। তিনি মৃদু হেসে বলেন, “ওঁরা গঙ্গাজলে অফিস শুদ্ধ করেছেন। আমরা আইনিপথে ফের সংগঠনকে মুক্ত করব।”

এ দিন বিক্ষুব্ধ প্রযোজকদের সমস্ত অভিযোগের জবাব দেন পিয়া। স্বজনপোষণ প্রসঙ্গ উঠতেই তোপ দাগেন, “আমি যদি স্বজনপোষণ করে স্বামী অনুপ সেনগুপ্ত, ছেলে বনি সেনগুপ্তকে আনি, তা হলে শতদীপ সাহা কী করছেন? তিনি রতন সাহার পুত্র নন?” আরও অভিযোগ, কোনও প্রযোজক ছবি তৈরির কথা পিয়াকে জানালেই তিনি পাল্টা বলতেন পুত্র বনিকে সেই ছবিতে নেওয়ার কথা। এ প্রসঙ্গে তাঁর জবাব, “আমাদের সংগঠনের অন্যতম সদস্য প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা এসভিএফ প্রযোজনা সংস্থার অন্যতম কর্ণধার। বনির আখের গোছাতে ওঁকে ধরব। শ্রীকান্তদাকে না ধরে বাকিদের বলতে যাব কেন?”

আপাতত দিন কয়েক অফিসে বসবেন না পিয়া। আগামী দিনে সংগঠনের কাজকর্ম তা হলে কী ভাবে হবে? তিনি আর রতন সাহা— উভয়েই ভিন্ন কক্ষে বসবেন? বর্তমান সভাপতির বক্তব্য, “অন্যদের কথা জানি না। আমি সভাপতি হিসাবে যে ভাবে কাজ সামলাচ্ছি, সে ভাবেই সামলাব।” এ-ও জানিয়ে দেন, রতনবাবুকে তিনি ‘অস্থায়ী সভাপতি’ মানেন না। বলেন, “আমার অসুস্থতাকেও যাঁরা ‘অভিনয়’ তকমা দেন, তাঁদের নিয়ে আর একটি কথাও নয়।” কিন্তু রতনবাবুর যে অভিমান, তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে ‘ভগ্ন কমিটি’র কেউ এলেন না! শুনে ফের চিলতে হাসি পিয়ার ঠোঁটে। বললেন, “ওঁরা বেআইনি। ওঁদের নিয়ে কথা বলে নিজের বিপদ বাড়াব?”

EIMPA Satadeep Saha Piya Sengupta
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy