এক বার স্নান করতে ঢুকলে ঘণ্টাখানেকের আগে বেরোন না, এমন মানুষ অনেকেই আছেন। স্নানের সময়ে লুফা দিয়ে ভাল করে গা না ঘষলে তাঁদের স্নানটাই সম্পূর্ণ হয় না। বাজারে সিন্থেটিক লুফার ছড়াছড়ি। আবার অনেকে লুফার বদলে গা ঘষার জালিও ব্যবহার করেন। তবে স্নানের সময় অযথা ত্বক ঘষাঘষি করার কি আদৌ কোনও প্রয়োজন আছে?
চর্ম চিকিৎসকদের মতে স্নানের সময় ত্বক ঘষাঘষি না করাই ভাল। এতে ত্বক ঝকঝকে হবে, এই ধারণা একেবারেই ভুল। লুফার মতো প্রসাধনী ব্যবহার করলে ত্বকের কোনও উপকারই হয় না। চর্ম চিকিৎসকদের মতে, ত্বক নিজেই নিজেকে পরিষ্কার রাখতে পারে। ত্বক থেকে রোজ লক্ষ লক্ষ মৃত কোষ আপনা থেকেই ঝরে যায়। সাপ বছরে এক বার খোলস ছাড়ে, তবে মানুষ রোজ খোলস ছাড়ে। অর্থাৎ রোজ নতুন কোষ জন্মায় আর মৃত কোষ ঝরে পড়ে যায়। প্রত্যেক ২২-২৮ দিনের মধ্যে ত্বকের উপরিভাগ পুরোটাই বদলে যায়। লুফা দিয়ে ঘষে মৃত কোষ তো বটেই, নতুন জীবন্ত কোষগুলিকেও যদি সরিয়ে দেন, তা হলে ত্বকের ক্ষতি আরও বেশি হবে।
অতিরিক্ত ঘষাঘষি করলে ত্বকের জীবন্ত কোষ যেমন ঝরে যায়, তেমন অন্য সমস্যাও দেখা দেয়। বাজার থেকে কেনা সিন্থেটিক লুফা নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের নানা রোগ হতে পারে। কারণ, এই ধরনের লুফা ব্যবহারের পর তা ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। জালির ভিতরে গায়ের ময়লা, সাবানের টুকরো জমে এবং তা থেকে সংক্রামক ব্যাক্টেরিয়া জন্মায়।