তারুণ্য ধরে রাখতে এবং বার্ধক্যের ছাপ বিলম্বিত করতে প্রাকৃতিক উপাদানের জয়জয়কার সবসময়ই ছিল। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের মতে, ‘লাউ’-এর রস একটি অসাধারণ অ্যান্টি-এজিং বা বয়স ধরে রাখতে সাহায্যকারী পানীয় হতে পারে। তার নানা কারণও আছে।
১. শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট: লাউয়ের রসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং জিংক। এই উপাদানগুলো ত্বকের কোষের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং ফ্রি র্যাডিক্যালসের বিরুদ্ধে লড়াই করে, যা অকাল বার্ধক্য রোধে অত্যন্ত কার্যকর।
২. আর্দ্রতা বজায় রাখা: লাউয়ের প্রায় ৯২ শতাংশই জল । নিয়মিত এই রস পানে শরীর ভেতর থেকে আর্দ্র থাকে। পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বা টানটান বজায় রাখে এবং বলিরেখা বা চামড়া কুঁচকে যাওয়া রোধ করে।
৩. ডিটক্সিফিকেশন বা বিষমুক্তকরণ: লাউয়ের রস প্রাকৃতিক ডিটক্স হিসেবে কাজ করে। এটি শরীর থেকে টক্সিন বা দূষিত পদার্থ বের করে দেয়। রক্ত পরিষ্কার থাকলে তার প্রতিফলন ঘটে ত্বকে, যা ত্বককে রাখে সতেজ ও উজ্জ্বল।
৪. কোলাজেন উৎপাদন: এতে থাকা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান ত্বকের অন্যতম প্রোটিন ‘কোলাজেন’ উৎপাদনে সহায়তা করে। কোলাজেন ত্বককে ঝুলে পড়া থেকে রক্ষা করে এবং টানটান ভাব বজায় রাখে।
৫. হজম প্রক্রিয়া ও মানসিক প্রশান্তি: হজমের গোলমাল এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ বার্ধক্যের গতি ত্বরান্বিত করে। লাউয়ের রস হজমশক্তি উন্নত করে এবং এর শীতলকারক গুণাগুণ স্নায়ুকে শান্ত রাখে, যা পরোক্ষভাবে চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ পড়তে দেয় না।
সতর্কতা: লাউয়ের রস খাওয়ার আগে নিশ্চিত করুন সেটি তেঁতো কিনা। তেঁতো লাউয়ের রসে ‘কুকুবিটাসিন’ নামের বিষাক্ত উপাদান থাকতে পারে যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।