উইম্বলডনে সার্বিয়া বনাম গ্রিস ম্যাচ। নোভাক জোকোভিচের বিরুদ্ধে মাঠে স্টেফানোস সিৎসিপাস। খেলায় জোকোভিচ জিতলেন, তবে তার পরে আলোচনা হল একটি সবুজ রঙের জ্যাকেট নিয়ে।
সেই জ্যাকেট পরতে চেয়েছেন জোকোভিচ। এ-ও জানিয়েছেন, দরকারে নিজের দামি সাদা জ্যাকেটটি দিয়ে দিতেও তিনি রাজি। বাজি ধরে যদি আরও একটি ম্যাচ খেলতে হয়, তা-ও খেলবেন! কিন্তু জ্যাকেটটি তাঁর চাই।
নোভাক জোকোভিচের উইম্বলডনের সাদা জ্যাকেট
জ্যাকেটটি পরে উইম্বলডনে টেনিসের ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন রোরি ম্যাকিলরয়। রোরি নর্দার্ন আইরিশ গল্ফ তারকা। গত বছর এবং এ বছর পর পর জিতেছেন দু’টি ‘মাস্টার্স’। যা আদতে গল্ফের গ্র্যান্ডস্ল্যাম। উইম্বলডনে তিনি এসেছিলেন সাদা শার্ট, সি-গ্রিন টাইয়ের উপর একটি ফরেস্ট গ্রিন রঙের জ্যাকেট পরে। খেলা শেষে মঞ্চে কথা বলার সময় সেই জ্যাকেটটিই চেয়ে একরকম ‘বায়না’ই করে বসলেন নোভাক। বললেন, ‘‘রোরি, কি দারুণ তোমার জ্যাকেটখানা, ওটা কি মাস্টার্সের জ্যাকেট?... আমি ওই জ্যাকেট চাই। দরকারে আমি তোমার সঙ্গে খেলব। আমার জ্যাকেটের বদলে তোমার জ্যাকেট। গল্ফ খেললে চলবে না। আমরা টেনিস খেলব।’’ অর্থাৎ জোকার নিশ্চিত করতে চেয়েছেন, জ্যাকেটটি যাতে বাজির লড়াইয়ে তাঁর হাতেই আসে। কারণ, গল্ফে তিনি রোরির সঙ্গে পেরে উঠবেন না।
জোকোভিচের ‘বায়না’-র অবশ্য যথেষ্ট কারণও আছে। ওই জ্যাকেট কোনও ট্রফির চেয়ে কম নয়!
সবুজ জ্যাকেটে রোরি ম্যাকিলরয়।
সিঙ্গল ব্রেস্টেড ওই ক্লাবব্লেজ়ার পরার সুযোগ পান তাঁরাই, যাঁরা গল্ফের ‘গ্র্যান্ড স্ল্যাম’ মাস্টার্স জেতেন। সবুজ জ্যাকেটটি পরিয়ে দেওয়া হয় জয়ী গল্ফারকে। তবে সেটি বরাবরের জন্য তাঁর হয়ে যায় না। তিনি সেটি নিজের কাছে রাখতে পারেন কেবল এক বছরের জন্য। তার পরে ফিরিয়ে দিতে হয় জর্জিয়ার অগস্টা ন্যাশনাল গল্ফ ক্লাবে। যেখানে প্রতিবছর এপ্রিলে মাস্টার্সের আয়োজন হয়। আর সেখানে যোগ দিতে পারেন তাঁরাই, যাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয় ক্লাবের তরফে। খেলোয়াড়দের র্যাঙ্ক দেখে, তাঁদের আগের কেরিয়ার দেখে তবেই তৈরি হয় আমন্ত্রিতের তালিকা। মাস্টার্স জয় এবং তার সবুজ জ্যাকেটের তাই আলাদা কদর খেলার জগতে।
মাস্টার্সের বৈগ্রাহিক সবুজ জ্যাকেট।
সবুজ রঙের ওই জ্যাকেটের বিশেষত্ব এর বাঁ দিকের বুক পকেটের উপর সুতো দিয়ে বোনা এমব্লেম। সবুজ রঙের আমেরিকার ম্যাপের উপর একটি গল্ফ ফ্ল্যাগস্টিক আর তাতে উড়ন্ত লাল পতাকা। গোটাটাই গাঢ় সবুজ কাপড়ে হলুদ সুতোর বৃত্তের মধ্যে। এ ছাড়া ওই জ্যাকেটের বোতামগুলি পিতলের। জ্যাকেটটি তৈরি হয় উল এবং ডাবলিনে তৈরি পলিয়েস্টারের মিশ্রণে। এক একটি জ্যাকেট তৈরি করতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। শুধু বানাতেই খরচ পড়ে ভারতীয় মুদ্রায় ৩০ হাজারের কাছাকাছি।