প্রতি দিন কয়েকটি করে চুল ওঠা এক রকম, কিন্তু মাথায় চিরুনি দিলেই যদি চুল ওঠে, শ্যাম্পু করলেই গোছা গোছা চুলে স্নানঘর ভরে যায়, তা হলে অবহেলা করা উচিত নয়। চুল ঝরা যে শুধু ভুল তেল বা শ্যাম্পু ব্যবহারের জন্য হয়, তা নয়। বরং নেপথ্যে থাকতে পারে নানা কারণ। সেই কারণেই কখনও কখনও চুল ঝরা আটকাতে চিকিৎসকের সহায়তা প্রয়োজন।
ত্বকের রোগের চিকিৎসকদের কথায়, দৈনন্দিন জীবনে সাধারণ ভুল বা ভ্রান্ত ধারণাই চুল ঝরার সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সতর্ক হওয়া দরকার।
নিয়ম করে চুল ধোয়া: ভিজে চুল বাঁধলে চুল পড়বে ভেবে অনেকেই নিয়মিত চুল ধুয়ে স্নান করেন না। সমস্যা হতে পারে সেখানেই। মাথার ত্বকে তেল, ময়লা, ধুলো জমতে থাকে।চুলে জল না দিলে সেই ময়লা চুলের গোড়া আলগা করে দিতে পারে। সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। রোজ কেউ শ্যাম্পু না করলেও ভাল করে মাথার ত্বক ধোয়া উচিত। ভিজে চুল যাতে বাঁধতে না হয়, সে জন্য আগে থেকে স্নান করতে পারেন।
সতর্ক হতে দেরি হলে বিপদ: চুল উঠতে উঠতে একবারে পাতলা হয়ে যাওয়ার পর টনক নড়লে হবে না। বরং চিকিৎসকদের মতে, মাথা অনেকটা ফাঁকা হয়ে যাওয়ার আগেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। একটা বয়সের পর ফলিকলের কার্যকারিতা কমে যায়। তা হওয়ার আগেই সতর্কতা জরুরি।
চুল বাঁধা: টেনে পনিটেল করা, বিনুনি বা খুব শক্ত করে চুল বাঁধলে গোড়ায় টান পড়ে। তা ছাড়া টেনে বাঁধার ফলে কপাল চওড়াও হয়ে যায়। টেনে চুল বাঁধলে ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা থেকে ট্র্যাকশান অ্যালোপেসিয়া হতে পারে। সতর্ক না হলে, নতুন করে চুল গজানো কঠিন।
বায়োটিন: চুল ভাল রাখতে বায়োটিন জরুরি। বায়োটিনের ঘাটতি হলে চুলের বৃদ্ধি থমকে যেতে পারে। তবে চুল ঝরার সঙ্গে এর সম্পর্ক কম। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা না কি অযত্ন, তা বুঝে সমাধানের প্রয়োজন। বায়োটিন শ্যাম্পু মাখলে বা সাপ্লিমেন্ট নিলেই যে চুল ঝরার সমস্যা কমবে এমন নয়।
অযত্ন এবং কেশসজ্জা: চুল আঁচড়ানো অনিয়মিত হলে কিংবা অতিরিক্ত তাপ দিয়ে কেশসজ্জা করলেও চুলের ক্ষতি হয়। তা থেকেও চুল ঝরতে পারে। কেশসজ্জার জন্য অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারেও সমস্যা হয় অনেক সময়।