দিনের বেলায় যখন খেলাধুলোর মেজাজে আছে এক রকম। কিন্তু রাতে, শিকার ধরার সময় বা রেগে যাওয়ার সময় তার সঙ্গে চোখাচোখি হয়েছে কি? পোষ্য বা বাড়ির আশপাশে ঘুরে বেড়ানো মার্জারের চোখের দিকে ভাল করে তাকালেই বুঝবেন, সেই চোখ কিছুটা অন্য রকম। মানুষের চোখের কর্নিয়ার মাঝে থাকা পিউপিল গোলাকার হলেও, বিড়ালের কিন্তু নয়। বরং তা সরু এবং লম্বাটে। এই লম্বা পিউপিল বা মণি আসলে আলোক নিয়ন্ত্রক অংশ।
বিড়াল যখন খেলার মেজাজে থাকে, শান্ত ভাবে আশপাশ দেখে, তখন তাদের চোখ থাকে এক রকম। কিন্তু বিড়াল যখন শ্যেন দৃষ্টি নিক্ষেপ করে কোনও ইঁদুর বা ছোট্ট প্রাণীকে শিকার হিসাবে ধরার চেষ্টা করে, বদলে যায় চোখের ভাষা।
আসলে বিড়ালের চোখের কারিকুরি লুকিয়ে তার লম্বা, খাঁজকাটা পিউপিল বা মণিতেই। বিড়াল পোষ্য হলেও, তাদের মধ্যে শিকারি সত্তা স্বভাবজাত। তারা অতর্কিতে আক্রমণ করে শিকারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শিকার করার ক্ষমতার জন্যই তাদের পিউপিল লম্বাটে। এমন মণির জন্যই তারা শিকারের দূরত্ব নিখুঁত ভাবে পরিমাপ করতে পারে এবং কম আলোতেও দেখতে পায়। দিনের বেলা বেশি আলো পড়লে যাতে চোখ ধাঁধিয়ে না যায়, সে জন্য পিউপিলটি আরও সরু এবং লম্বা হয়ে যায়। ফলে আলো ঢুকতে পারে না। তবে রাত হলে এই মণি আরও বড় এবং গোল হয়ে যায়। বিড়ালের কর্নিয়াও মানুষের চোখের কর্নিয়ার চেয়ে বড়। বিড়ালের চোখে রাতে বেশি আলো প্রবেশ করতে পারে বলে, তারা আলো-আঁধারিতেও দেখতে পায়। তা ছাড়া, এমন চোখের মণির জন্যই তারা শিকারকে তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে দেখতে পারে।
আরও পড়ুন:
ইউনিভার্সিটি অফ উইনসকনসিনের ম্যাডিসন স্কুল অফ ভেটেরিনারি মেডিসিন-এর অধ্যাপক এবং পশুরোগ চিকিৎসক পল মিলার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, মানুষ ১৮০ ডিগ্রি দৃষ্টিকোণে দেখতে পায়, বিড়ালের ক্ষেত্রে সেই ব্যপ্তি বেশি, ২০০ ডিগ্রি পর্যন্ত তাদের দৃষ্টিসীমা থাকে। অনেকেরই ধারণা, বিড়াল অন্ধকারেও দেখতে পায়, তবে চিকিৎসক জানাচ্ছেন গাঢ় অন্ধকারে তারা ঠিকমতো দেখে না, তবে কম আলোতে তাদের দেখার ক্ষমতা রয়েছে। মানুষ কম আলোয় যতটা দেখে, তার চেয়ে অনেকটাই বেশি দেখে মার্জার। তাদের চোখে বর্ণগ্রাহী কোষের সংখ্যা মানুষের চেয়ে কম। ফলে মানুষের মতো রং দেখতে না পেলেও দু’টি রং তারা কিছুটা হলেও দেখতে পায়।
তবে বিড়ালের মণি লম্বা হলেও, একই প্রজাতির প্রাণী বাঘ-সিংহের কিন্তু তা থাকে না। কিন্তু সাপের চোখ হয় বিড়ালের মতো। তাদেরও উল্লম্ব মণি থাকে। বিড়ালের আকার বাঘ বা সিংহের চেয়ে অনেকটাই কম। বাঘ বা সিংহ লম্বা হওয়ায় শিকারকে উপর থেকে স্পষ্ট দেখতে পায়। তবে বিড়ালের উচ্চতা কম বলে তার চোখের মণি এমন। বিড়াল এখন গ্রাম বা শহরে তুলনামূলক আরামে থাকলেও, তাদের শিকারি সত্তা অটুট রয়ে গিয়েছে। এই মণি আসলে দীর্ঘ বিবর্তনের ফল।