প্রেম ভাঙার পর কেউ নিজেকে ঘরবন্দি করেন, কেউ বা বন্ধুদের কাছে আশ্রয় নেন, কেউ আবার সম্পূর্ণ ভুলে থাকতে চান। আঘাতের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এক এক জনের কাছে এক এক রকমের টোটকা থাকে। উদ্দেশ্য সকলেরই একটি, কষ্ট কমানো। তবে এই সময়ে কেউ কেউ নেশাকেও অবলম্বন করে ফেলেন। আর সেখানেই হয়ে যায় ভুল। নিজের ক্ষতি না করে কী ভাবে ব্রেকআপ সামলানো যায়? বলিউড নায়িকা অনন্যা পাণ্ডের টোটকা এখানেই কাজে আসতে পারে।
নতুন প্রজন্ম এই অনুভূতিগুলির সঙ্গে যুঝতে নয়া পন্থা অবলম্বন করে। তাতে আছে একটু নিজের মতো করে বাঁচার চেষ্টা। অনন্যার কথায়, ‘‘আমি কাঁদি, আইসক্রিম খাই, অরিজিৎ সিংহের দুঃখের গান শুনি, আর তার পর খানিক বাদে সবটা ভুলে যাই।’’ মন হালকা করার এই টোটকা কী ভাবে কার্যকরী? আপনিও এমন ভাবেই নিজেকে সামলাতে পারবেন কি?
ব্রেকআপের কষ্টের সঙ্গে যুঝবেন কী ভাবে? ছবি: সংগৃহীত
এই অভ্যাসগুলি শুনতে গেলে মনে পড়বে একাধিক সিনেমার দৃশ্য। কিন্তু বাস্তবেও অনেকেই এমনই ভাবে নিজেদের সামলানোর চেষ্টা করেন। মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, এটি এক প্রকার আত্মনিয়ন্ত্রণের উপায়।
১. পছন্দের খাবার খেলে মেজাজ সাময়িক ভাবে ভাল হতে পারে। প্রেমে আঘাত পাওয়ার পর মস্তিষ্ক ডোপামিন বা ‘হ্যাপি হরমোন’ ক্ষরণ করতে পারে না। কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। তখন আইসক্রিমের মতো খাবার তাৎক্ষণিক আনন্দ দিতে পারে। মিষ্টি, ফ্যাটযুক্ত এবং ঠান্ডা খাবার তখন বেশ স্বস্তিদায়ক। স্নায়ুর উত্তেজনাকেও প্রশমিত করতে পারে তা। কিন্তু এটি কেবল তাৎক্ষণিক স্বস্তির জন্য কার্যকর। দীর্ঘ মেয়াদে শুধু খাবারের উপর নির্ভর করলে তা মোটেও মন ভাল করতে পারবে না। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যের জন্যও ভাল নয় একটানা মিষ্টি খাবার খাওয়ার এই অভ্যাস।
২. দুঃখের গান শুনলে অনুভূতির সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে, একাকিত্ব কমায়। ব্রেকআপের পর মানুষ মনখারাপের বা দুঃখের গান শোনেন, কারণ এই গানগুলি তাঁদের মনের কষ্টকে সায় দেয়। যখন নিজের দুঃখ ভাষায় প্রকাশ করতে পারেন না, তখন বিষণ্ণ সুর বা কথা তাঁদের হয়ে সেই কাজটা করে দেয়। এতে মনে হয় যে, আরও হয়তো কেউ একই রকম ভাবে কষ্ট পাচ্ছে। যেন কেউ তাঁদের বুঝতে পারছে। তবে মনে রাখা ভাল, সারা ক্ষণ এমন গান শুনলে মন ভাল হওয়ার বদলে উল্টে আরও বেশি খারাপ হয়ে যেতে পারে।
আইসক্রিম খেয়ে মন ভাল করতে পারেন। ছবি: সংগৃহীত
৩. মন খুলে কেঁদে নিলে চাপা আবেগ বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে, মনোবিদদের মতে, এই ধরনের আচরণ তীব্র মানসিক অস্বস্তির সময়ে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।
আরও পড়ুন:
মনোবিদদের মতে, ব্রেকআপের কষ্টের সঙ্গে যুঝতে হলে নিজের অনুভূতিগুলি স্পষ্ট ভাবে স্বীকার করে নেওয়া উচিত। আপনি ঠিক কী অনুভব করছেন, তা চিহ্নিত করতে পারলে মস্তিষ্কের অস্থিরতা কমে আসে। এই কঠিন সময়ে খাওয়াদাওয়া, ঘুম এবং হালকা ব্যায়ামের মতো দৈনন্দিন কাজগুলি ঠিক মতো করা জরুরি, যা আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে। তবে ঘন ঘন পুরনো স্মৃতি মনে করা বা প্রাক্তনের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলুন, তবে সারা ক্ষণ কেবল দুঃখের কথা বলবেন না। আর যদি দেখেন, অনেক দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও কষ্ট কমছে না, তবে চিকিৎসক বা মনোবিদের সাহায্য নেওয়া উচিত। তাই অনন্যার এই টোটকা কার্যকরী হতে পারে, যদি পরিমিতিবোধ থাকে। সাময়িক স্বস্তির সঙ্গে সঙ্গে নিজের অনুভূতিকে বোঝা, গ্রহণ করা— এই জায়গাটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।