১. মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?
ভাইচুং: কারও নাম নেওয়াটা মুশকিল। কিন্তু এমন এক ব্যক্তিকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে দেখতে চাই, যিনি রাজ্য এবং দেশের উন্নতিসাধনের চেষ্টা করবেন মন থেকে।
২. দল দেখে ভোট দেন না কি প্রার্থী দেখে?
ভাইচুং: দু’টিই দেখি। কারণ দল এবং প্রার্থী, উভয়ের লক্ষ্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
৩. প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?
ভাইচুং: আমার মনে হয় না, ডিগ্রি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। গোটা বিশ্বের জন্য এটা প্রমাণিত যে, প্রচণ্ড শিক্ষিত রাজনীতিকেরা দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অসৎ হন। তাই পরীক্ষা নিয়ে লাভ নেই। প্রার্থী হওয়ার জন্য সততা, উদারতা এবং স্বচ্ছতার প্রয়োজন কেবল। আর জেতার পর অনেক বিষয়ে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। প্রথমত, নিজের দলের জন্য, এলাকায় কাজ করার জন্য সঠিক লোক বেছে নেওয়ার প্রয়োজন। জেতার পর পর সব বিষয়ে অবহিত হওয়া সম্ভব নয়, তাই সঠিক লোকেদের বেছে নিলে কাজ করতে সুবিধা হবে, জানতে সুবিধা হবে। এটারই প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। ভাল নেতা বা নেত্রী তিনি-ই, যিনি সঠিক লোক বেছে নেন নিজের দলের জন্য। ফুটবলের ক্ষেত্রেও এটাই সত্য। ভাল দল এ ভাবেই তৈরি হয়।
৪. নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?
ভাইচুং: অ-নে-ক কিছু! ভারতের মতো দেশে একটি-দু’টি নয়, অনেক কিছুরই পরিবর্তন দরকার। যেমন, শিক্ষাদান। প্রথমেই শেখানো দরকার নির্বাচন সম্পর্কে। কেন এক-একটি ভোট এত মূল্যবান, সেটা বোঝানোর দরকার সবাইকে। যাতে প্রত্যেকে নিজের ভোটের মাহাত্ম্য বুঝে ভোট দিতে যান, এবং সঠিক ব্যক্তিকে বেছে নেন।
৫. আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?
ভাইচুং: দরকার। শিশুদের খেলাধুলো করার সুযোগ বাড়াতে হবে, তরুণ ভোটারদের বিভিন্ন খেলায় অংশ নেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করতে হবে। তার জন্য স্কুল-কলেজে খেলাধুলোকে বাধ্যতামূলক করা দরকার। ইংরেজি এবং গণিতের মতোই গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ক্রীড়ার গুরুত্ব রয়েছে। এটা নিয়ে বেশি করে নেতা-নেত্রীদের কথা বলা উচিত।
৬. নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?
ভাইচুং: আইনের বইতে সব লেখাই আছে। সেগুলিকে ভাল করে অনুসরণ করলেই ভোটের প্রক্রিয়া দুর্নীতিমুক্ত থাকতে পারে। টাকা এবং পেশির জোর থেকে এই প্রক্রিয়াকে মুক্ত করা দরকার। কিন্তু এটা বলা সহজ, করা কঠিন। তবে ব্যালট পেপারে ফিরে গেলে বোধহয় খানিক সমস্যা কমতে পারে। তার কারণ, প্রযুক্তিকে ভরসা করা যায় না আর আজকাল। গোটা পৃথিবীতে যে ভাবে প্রযুক্তির ক্ষমতা বেড়েছে, তা ভয়াবহ। যুদ্ধের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। তাই আমার মতে, এই যুগে দাঁড়িয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রযুক্তিকে ভরসা করা উচিত নয়।
৭. ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?
ভাইচুং: গণতান্ত্রিক দেশে দলবদলের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত। কারও মনে হতেই পারে, দলের মতাদর্শ আর আগের মতো নেই। তিনি বেরিয়ে যেতেই পারেন। কিন্তু যদি বাড়তি সুবিধার লোভে কেউ দলবদল করে ভোটে দাঁড়ান, তা হলে জনতাই তার জবাব দিয়ে দেবে ভোটবাক্সে।
৮. রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?
ভাইচুং: শুধু রাজনীতি নয়, কোথাওই খারাপ শব্দের প্রয়োগ প্রয়োজন নেই। পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অপশব্দের ব্যবহার করেন। এর থেকে জঘন্য কী আর হতে পারে!
৯. দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
ভাইচুং: এ ভাবে একটাকে বেছে নেওয়া কঠিন। সবই গুরুত্বপূর্ণ।
১০. ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?
ভাইচুং: ভারতের মতো দেশে ভাতা-র প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে অন্য দেশের তুলনা করলে চলবে না। এ দেশে মাত্র ৫-১০ শতাংশ মানুষ পুঁজি নিয়ন্ত্রণ করে। ৮০ কোটি মানুষ রেশনের লাইনে দাঁড়ান রোজ। সেটা বন্ধ করে দিলে মানুষ না খেতে পেয়ে মরে যাবে। তা হলে ভাতা ছাড়া সকলের পেটে ভাত জোগানোর উপায় আর কীই বা আছে? কিন্তু এই ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা এবং সততার প্রয়োজন।
১১. প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?
ভাইচুং: কখনওই না। যে দল ক্ষমতায় আছে, তাদের জন্য বিরোধীশূন্য হওয়া কখনওই কাম্য নয়। তাদের উন্নতির জন্যই বেশি প্রয়োজন।
১২. তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?
ভাইচুং: ভারতের ক্ষেত্রে তা-ই বটে। কিন্তু এটা বদলানো দরকার এ বার। তারকারা যদি রাজনীতিতে আসতে চান, সবটা জেনে-বুঝে, কাজ করার উদ্দেশ্য নিয়ে আসা উচিত।
১৩. পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?
ভাইচুং: অশোক ভট্টাচার্য।