রাইপুরের সভা মঞ্চ থেকে মঙ্গলবারই খাতড়া মহকুমা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চ থেকেই অভাব-অভিযোগ শুনে চটজলদি সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন। দলের কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি আধিকারিকদেরও বার্তা দিয়েছেন, ‘নিজেদের কাজ, নিজেরা ভালভাবে করুন’। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের ২৪ ঘন্টার মধ্যে সদ্য উদ্বোধন হওয়া সেই ব্লাড ব্যাঙ্কের জন্য রক্তদান করলেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সম্পাদক, মহকুমা হাসপাতালের সুপার-সহ চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশ।
প্রায় দু’বছর আগে খাতড়া হাসপাতালে ব্লাড ব্যাঙ্ক তৈরির ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ছ’মাসের মধ্যে ব্লাড ব্যাঙ্কের নতুন ভবন-সহ পরিকাঠামো তৈরি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলের ছাড়পত্র দীর্ঘদিন ধরে না পাওয়ায় ব্লাড ব্যাঙ্ক চালু হয়নি। সম্প্রতি সেই ছাড়পত্র আসার পরে মুখ্যমন্ত্রী এর উদ্বোধন করেছেন। খাতড়া হাসপাতালের সুপার রমেশ কিস্কু জানিয়েছেন, ব্লাড ব্যাঙ্কে এই মুহূর্তে ৩০০ ইউনিট রক্ত মজুত রাখা যাবে। সুপার বলেন, “ব্লাড ব্যাঙ্ক সচল রাখার জন্য আমরাই প্রথম রক্তদান শিবির করলাম।’’ শিবিরে ভারত সেবাশ্রম সংঘের সম্পাদক দিলীপ মহারাজ, প্রগ্রেসিভ ডক্টর অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক জয়মাল্য ঘর ছাড়াও হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা রক্তদান করেছেন। ব্লাড ব্যাঙ্কের মধ্যেই অনুষ্ঠিত এ দিনের শিবিরে ২১ জন রক্ত দেন।
গরমের সময় বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের সঙ্কট ফি-বছরের চেনা ছবি। রক্তের অভাবে রোগী ও তাঁদের আত্মীয়-পরিজনদের হন্যে হয়ে ঘুরতে হয়। এই সময়ে মূলত রক্তদান শিবিরের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণেই এই সঙ্কট দেখা দেয়। খাতড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ দিনের উদ্যোগ তাই প্রশংসা পাচ্ছে রক্তদান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মানষজনের কাছে। তঁদের বক্তব্য, নিজেদের হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের জন্য নিজেদের রক্ত দেওয়া সত্যিই ভাল উদ্যোগ। এই কাজ আরও অনেক সংগঠনকে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করাতে উৎসাহ জোগাবে।
জয়মাল্যবাবু নিজেও বলছেন, “মহকুমা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে জঙ্গলমহলের থ্যালেসেমিয়া আক্রান্ত-সহ বিভিন্ন রোগীরা রক্ত পাবেন। এর জন্য ব্লাড ব্যাঙ্কে পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত মজুত থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিভিন্ন ক্লাব সংগঠনকে রক্তদান শিবির করার জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তার আগে আমরাই রক্তদান করে পথচলা শুরু করে দিলাম।’’