Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৫ জুন ২০২২ ই-পেপার

URL Copied

লাইফস্টাইল

কোন মাস্ক কতটা সুরক্ষিত, মাস্ক পরার সময় কী কী বিষয় খেয়াল রাখতেই হবে

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ২৩ জুলাই ২০২০ ১৬:৫৮
করোনার গ্রাস থেকে বাঁচতে মাস্ক পরাটা একেবারে বাধ্যতামূলক। কিন্তু, পরবেন কোনটা? কাপড়ের মাস্ক, সার্জিক্যাল মাস্ক থেকে এন-৯৫। বাজারে মাস্কের ছড়াছড়ি। কিন্তু কোন মাস্ক কতটা নিরাপদ? কত বারই বা ব্যবহার করা যাবে তা? গ্রাফিক: তিয়াসা দাস।

করোনা-হানার মাস ছয়েক পরেও মাস্ক নিয়ে ধোঁয়াশা যেন কাটতেই চাইছে না। এ নিয়ে কিছু মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। রয়েছে সিএসআইআর-ইন্ডিয়া-র ভাইরাস রিসার্চ ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী শুভজিৎ বিশ্বাসের পরামর্শ। এক ঝলকে সে সব জেনে নিন। —ফাইল চিত্র।
Advertisement
ভাল্‌ভ-যুক্ত এন-৯৫ মাস্ক পরা যে নিরাপদ নয়, সম্প্রতি এমনটা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। মন্ত্রকের পরামর্শ, ভাল্‌ভের ফিল্টার বাইরে থেকে ভাইরাস ঢোকা আটকে দেয় বলে মাস্ক পরিহিতের সুবিধা হলেও তা অন্যদের বিপাকে ফেলতে পারে। কারণ, ভাল্‌ভ-যুক্ত এন-৯৫ মাস্ক পরা ব্যক্তিরা করোনাভাইরাসের বাহক হলে, তাঁর নিঃশ্বাসের মধ্যে দিয়ে তা বেরিয়ে অন্যদের সংক্রমিত করতে পারে।

ভাল্‌ভ নেই, এমন এন-৯৫ মাস্ক পরা যেতেই পারে। এই ধরনের মাস্ক করোনাভাইরাসের পাশাপাশি বায়ুবাহিত ধূলিকণা ও সূক্ষ্ম জলকণা থেকে সুরক্ষা দেয়। ভাল্‌ভ নেই এমন এন-৯৫ মাস্কের ভাইরাস প্রতিরোধের কার্যকারিতা তাই অনেক বেশি, প্রায় ৯৫ শতাংশ।
Advertisement
ভাল্‌ভহীন এন-৯৫ মাস্ক ছাড়াও এফএফপি (ফিল্টারিং ফেস পিস)-২, এফএফপি-১ এবং এফএফপি-৩ মাস্কও তুলনামূলক ভাবে বেশ সুরক্ষিত। এফএফপি-২ মাস্কের কার্যকারিতা প্রায় ৯৪ শতাংশ। অন্য দিকে, প্রায় আশি শতাংশ ভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারে এফএফপি-১ মাস্ক। তবে এফএফপি-৩ মাস্কের কার্যকারিতা এ সবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৯৯ শতাংশ। ছবি: এপি।

এন-৯৫ বা এফএফপি জাতীয় মাস্ক তো পরলেন। কিন্তু, তা ঠিক কত বার ব্যবহার করা যাবে? বিজ্ঞানীদের একাংশের দাবি, জলে ধোয়া হলে এ ধরনের মাস্কের কার্যকারিতা হ্রাস পেয়ে যায়। এবং পাঁচ বারের বেশি তা কখনই ব্যবহার করা উচিত নয়।

এন-৯৫ বা এফএফপি জাতীয় মাস্ক তুলনামূলক ভাবে দামি হওয়ায়, তার বদলে অনেকেই সার্জিক্যাল মাস্ক পরেন। সার্জিক্যাল মাস্কের কার্যকারিতা ৯৫ শতাংশের বেশি হলেও তা এক বারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয় বলে চিকিৎসকদের মত। এই ধরনের মাস্ক বড় জলকণা বা দেহ বর্জিত বিপজ্জনক তরলের ছিটে থেকে সুরক্ষা দেয়। সুরক্ষা দেয় করোনাভাইরাসের হাত থেকেও। ছবি: পিটিআই।

এন-৯৫ বা এফএফপি অথবা সার্জিক্যাল মাস্ক ছাড়াও কাপড়ের বিভিন্ন ধরনের মাস্কে বাজার ছেয়ে গিয়েছে। তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কাপড়ের মাস্কে কতটা সুরক্ষিত থাকা যায়, তা শতাংশের হিসাবে বলা সম্ভব নয়। তবে একেবারে কোনও মাস্কের সুরক্ষা না থাকার থেকে বরং কাপড়ের মাস্ক পরা ভাল।

তবে মাস্কের বদলে গামছা, রুমাল বা ওড়না দিয়ে নাক-মুখ ঢাকা একেবারেই সুরক্ষিত নয়। কাপড়ের মাস্কে বায়ুবাহিত ধূলিকণা এবং সূক্ষ্ম জলকণা থেকে আংশিক সুরক্ষা প্রদান করে। —ফাইল চিত্র।

কাপড়ের মাস্ক এক বারের বেশি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে প্রতি বার ব্যবহারের পর তা গরম জলে ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। এবং কাপড়ের মাস্ক ছিঁড়ে গেলে তা ব্যবহার করা উচিত নয়। ছবি: সংগৃহীত।

নানা ধরনের মাস্ক নিয়ে কথা তো হল। তবে মাস্ক ব্যবহার করলেই হল না। তা ব্যবহার করার আগে-পরে কিছু নিয়মও মেনে চলতে হবে। ছবি: এপি।

যে কোনও ধরনের মাস্ক পরার আগে সাবান বা অ্যালকোহলযুক্ত স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে। এর পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হাতে মাস্ক পরতে হবে। ছবি: সংগৃহীত।

সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করে মাস্ক পরলেই হল না। ব্যবহার করার আগে অবশ্যই দেখে নিতে হবে, মাস্ক যেন ছেঁড়া বা ফাটা না হয়। ছবি: সংগৃহীত।

মাস্ক পরলেও অনেকেই তা নিয়ে সতর্ক নন। ভুলে যাবেন না, মুখ-নাক রক্ষা করার জন্যই মাস্ক পরেছেন। তাই তা দিয়ে যেন সব সময় নাক-মুখ ঢাকা থাকে, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনেকেই মাস্ক পরে তা নাক বা থুতনির নীচে তা ঝুলিয়ে রাখেন। এটা করা একেবারেই উচিত নয়। ছবি: এএফপি।

বার বার মাস্কে হাত দেওয়া একেবারেই বাঞ্ছনীয় নয়। সেই সঙ্গে মনে রাখবেন, মাস্কের সামনের অংশ স্পর্শ করা যাবে না। নিতান্তই যদি মাস্কের সামনে হাত দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করে নিন। মাস্ক স্পর্শ করার পরে ফের হাত পরিষ্কার করুন। ছবি: সংগৃহীত।

নোংরা বা ভেজা মাস্ক যাতে কোনও ভাবেই ব্যবহার করতে না হয়, সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সেই সঙ্গে অন্যের ব্যবহৃত মাস্কে হাত দেবেন না। ছবি: সংগৃহীত।