Advertisement
E-Paper

তারকাদের সংসদ-বিধানসভায় পাঠানো মানে জঞ্জাল পাঠানো! মত চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামীর

তাঁরাও ভোটার। তবে তাঁদের ভাবনা-চিন্তা অনেককে দিশা দেখায়। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে তেমনই কয়েক জন তারকা ভোটারের কাছে ১৩টি প্রশ্ন নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। এ দফায় উত্তর দিলেন চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০১
ভোট নিয়ে কী বললেন আরজি কর কাণ্ডে বিতর্কিত মন্তব্যকারী চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী।

ভোট নিয়ে কী বললেন আরজি কর কাণ্ডে বিতর্কিত মন্তব্যকারী চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?

সুবর্ণ গোস্বামী: এমন এক জন ধর্মনিরপেক্ষ মানুষকে চাই, যিনি রাজ্যকে দুর্নীতিমুক্ত করবেন। মেধার ভিত্তিতে চাকরি দেবেন, শিল্প আনবেন এবং সর্বোপরী নারীদের উপরে যে অত্যাচার পশ্চিমবঙ্গ দেখছে, তা দূর করবেন।

দল দেখে ভোট দেন না কি প্রার্থী দেখে?

সুবর্ণ: দলের নীতি দেখে, ইস্তাহার দেখে ভোট দিই।

প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?

সুবর্ণ: রাজনীতির সঙ্গে কোনও কালে যোগ নেই, এমন মানুষকেও আইনসভায় পাঠানো উচিত নয়। দেশের আইন সম্পর্কে ধারণা না থাকলে কী কাজ করবেন! জেতার পরেও তাই বিধায়কেদের প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।

Advertisement

নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?

সুবর্ণ: আমি মনে করি না একজন বিধায়ক নিজে বিশেষ কিছু পরিবর্তন করতে পারেন। দল না চাইলে তিনি কিছুই করতে পারবেন না।

আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?

সুবর্ণ: রাজ্যের প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাটাই ভেঙে পড়েছে। ফলে ছোটখাটো রোগের জন্যও হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। দালালচক্রগুলোর সুবিধা হচ্ছে। এ ছাড়়া, রাজনৈতিক আনুগত্য দেখে চিকিৎসাকর্মীদের বদলি বন্ধ হওয়া উচিত। মেডিক্যাল শিক্ষা দুর্নীতিমুক্ত এবং চিকিৎসকের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।

নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?

সুবর্ণ: ভোটের সব লেনদেন নগদে নয় ডিজিটালে করতে হবে আর সেই লেনদেনেরও সর্বোচ্চ সীমা থাকবে। উপঢৌকন দিয়ে ভোট কেনার প্রথা বন্ধ করতে হবে।

ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?

সুবর্ণ: দলত্যাগবিরোধী আইন সংস্কার করে শাস্তি দিতে হবে। যাতে দল বদলালে পদ পেতে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়, প্রার্থী হতেও বাধা থাকে।

রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?

সুবর্ণ: নিজেদের যদি সভ্য বলে দাবি করি, তবে অপশব্দ আর ঘৃণাভাষণ করব না।

দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

সুবর্ণ: পিছিয়ে পড়াদের টেনে তুলে আনা, তাঁদের রুটি-রুজি, শিক্ষা, বাসস্থান নিয়ে কোন দল কী নীতি নিচ্ছে, তার উপরে ভিত্তি করে ভোট হওয়া উচিত।

ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?

সুবর্ণ: কাজ না দিলে ভাতা দেওয়াটা সরকারের কর্তব্য। কিন্তু সেটা যেন শেষ সমাধান না হয়। আসল সমাধান হবে কর্মসংস্থান। তা ছাড়া, যে মহিলারা বাড়ির কাজ করেন, সন্তান প্রসব করেন, লালন-পালন করেন, তাঁদেরও তো বেতন নেই। তাঁদের আর্থিক সাহায্য করাই উচিত।

প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?

সুবর্ণ: গণতন্ত্রে বিরোধীদের বড় ভূমিকা থাকে। কিন্তু এখন বিরোধীদের কথা বলতেই দেওয়া হয় না। কখনও বিল মাঝরাতে ধ্বনিভোটে পাশ হয়। কখনও বিরোধীদের বার করে দেওয়া হয়। এ প্রবণতা বিপজ্জনক।

তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?

সুবর্ণ: একদমই তাই। যে সকল তারকা বিধায়ক বা সাংসদ হয়েছেন, তাঁদের অনেকে তো মানুষের হয়ে প্রশ্নই করেন না। এঁদের ওখানে পাঠানো মানে জঞ্জাল পাঠানো। তবে আমি মনে করি, তারকা তাঁরাও, যাঁরা সমাজের কাজ করেন। তাঁরা রাজনীতিতে এলে প্রার্থী হতেই পারেন।

পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?

সুবর্ণ: প্রয়াত জ্যোতি বসু।

Subarna Goswami Celebrity Voter Interview
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy