কেনাকাটা করতে ভালবাসেন অথচ জীবনসঙ্গী মোটে সে পথে পা বাড়াতে নারাজ। অগত্যা বাড়ির টুকিটাকি জিনিস থেকে পুজোর বাজার একলা হাতেই সারতে হয় সব। অনেক সাধ্যসাধনার পর যাও বা তিনি রাজি হন, সারা রাস্তা মোটেও উপভোগ করেন না। ফলে কেনাকাটার মেজাজও দফারফা।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় দরদাম করার অভ্যাস বা অনেক দোকান ঘুরে শেষে একটা জিনিস কেনার স্বভাবের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন না আপনার সঙ্গী। আর সেখানেই শুরু হয় মনোমালিন্য। তাই কেনাকাটায় সঙ্গী খুঁজতে হয় কোনও বন্ধু বা সহকর্মীকে অনুরোধ করতে হয়। কখনও একাই যেতে হয় কেনাকাটা সারতে। তবে পছন্দ-অপছন্দের বিষয়ে আরও এক জনের মতামত পেলে যে কেনার কাজটা সহজ হয় তা কে না জানে!

তবে কেনাকাটায় সঙ্গীর আগ্রহ বাড়িয়ে তুলতে পারেন আপনিও। শপিং মল হোক বা বাজার এলাকা, জিনিসপত্র কিনতে আপনার সঙ্গীও যাতে সহজেই যেতে রাজি হন, তার জন্য আপনাকেও মেনে চলতে হবে কিছু কৌশল। জানেন সে সব?

আরও পড়ুন: লিভ ইন সম্পর্ক বেছে নিতে চলেছেন? অবশ্যই মাথায় রাখুন এ সব

সব বোঝা একের কাঁধে নয়, ব্যাগ ভাগাভাগির অভ্যাস তৈরি করুন।

  • প্রচুর দোকান ঘুরে একটা জিনিস কিনলেন, এমন অভ্যাস থাকলে তা আগে ত্যাগ করুন। দরকারে প্রতিটা জিনিস কেনাকাটার জন্য আগেভাগেই একটা নির্দিষ্ট সময় সেট করে রাখুন। খুব ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে না হলেও চেষ্টা করুন সেই সময় অনুযায়ী কেনাকাটা করতে।

  • শুধুই নিজের জিনিস বা বাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনবেন না, সঙ্গী গেলে তাঁরও কাজে লাগবে এমন কিছু কিনুন। তাঁর শখের কোনও জিনিসও কিনতেই পারেন।

  • দোকানে গিয়ে এমন দরদাম করবেন না যাতে সঙ্গী লজ্জায় পড়েন। অনেকই দরদামে অভ্যস্ত নন বা খুব একটা দরদাম পছন্দও করেন না। সঙ্গীও তেমন ধাতের হলে ও তাঁকে সঙ্গে নিয়ে কেনাকাটা করতে বেরলে এই অভ্যাসে রাশ টানুন।

  • কেনাকাটার মাঝে মাঝেই বিরতি নিন। শপিংয়ের মাঝে একটা সিনেমা দেখতে পারেন বা দু’জনের পছন্দের কোনও রেস্তরাঁয় খাওয়াদাওয়ার পরিকল্পনাও করতে পারেন।

  • শুধুমাত্র প্যাকেটবন্দি জামাকাপড় বা কেনাকাটার ব্যাগ বওয়ানোর জন্য সঙ্গীকে সঙ্গে নেবেন না। ওজন বুঝে জিনিসপত্র ভাগাভাগি করে নিন।

আরও পড়ুন: মাখন, বাদাম থেকে কফি, সবই খান নিয়ম মেনে, নিয়ন্ত্রণে থাকবে এই রোগ

গুরুত্ব দিন সঙ্গীর পছন্দ-অপছন্দকেও। 

  • মনে রাখবেন, শপিং একঘেয়ে জীবনের মাঝে অনেকটা দমকা হাওয়ার মতো। তাই সংসারের বাইরে বেরিয়েও সাংসারিক বিষয় নিয়ে কচকচি বা জটিলতা নিয়ে আলোচনায় যাবেন না।

  • অনেকটা হাঁটাহাঁটির অভ্যাস ত্যাগ করুন। অনেক জিনিস অনেক ক্ষণ ধরে কেনাকাটার পরিকল্পনা থাকলে মাঝে মাঝেই কোনও না কোনও যানবাহনের সাহায্য নিন।

  • নিজের জিনিস কেনার সময় সঙ্গীর পছন্দকে কতটা গুরুত্ব দেন ও তাঁর ইচ্ছা আপনার কাছে কতটা জরুরি সেটুকুও তাঁরল কাছে প্রকাশ করুন। নিজের গুরুত্ব বুঝলে অনেক সময় তিনি রাজিও হবেন কেনাকাটায় যেতে।

  • কেনাকাটার খরচ যদি সঙ্গী বহন করেন, তা হলে তাঁর পক্ষে কতটা খরচ করা সম্ভব সে সম্পর্কে ধারণা রাকুন। লাগামছাড়া খরচ কোনও দিনই সমর্থনযোগ্য নয়। এই অভ্যাসও সঙ্গীর কাছে বিরক্তিকর হতে পারে।