E-Paper

মিনিয়েচার ফুলের বাগান

ছোট জায়গায় ফুলের বাগান করতে ভরসা রাখুন মিনি টগর, চায়না কামিনী বা হাজারি গোলাপে।

ঊর্মি নাথ

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৪
মিনি রঙ্গন

মিনি রঙ্গন Sourced by the ABP

বাড়ি সংলগ্ন বাগান বা ছাদ নেই, যেখানে মনের মতো করে গাছ রোপণ করা যায়! কিন্ত এক টুকরো খোলা জায়গা থাকলেই স্বপ্নপূরণ সম্ভব। হাজারি গোলাপ, চায়না কামিনী, মিনি টগর, মিনি রঙ্গন বা ডোয়ার্ফ বুগেনভিলিয়ার মতো মিনিয়েচার ফুলের গাছে সাজিয়ে ফেলতে পারেন। ফুল ফুটলে ছোট্ট গ্রিন জ়োন হয়ে উঠবে পিকচার পোর্স্টকার্ডের মতো সুন্দর। ছোট টবে মানিয়ে নিতে পারে এরা। গ্রো ব্যাগেও রোপণ করা যায়। এই পরিচর্যা খুব ঝক্কির নয়।

হাজারি গোলাপ বা বাটন রোজ়

এই গোলাপ সারা বছরই কম বেশি হয়, তবে বর্ষায় গাছ ভরে যায় লাল, গোলাপি, রানি, হলুদ বা সাদা হাজারি গোলাপে। এই প্রজাতির গোলাপের না-পসন্দ অতিরিক্ত জল। টবের উপরে মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই জল দেবেন। যদি দেখা যায় নতুন পাতার কিনারা হলদেটে হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে, তা হলে সজাগ হতে হবে। জল বেশি হলে গোড়ায় পচন ধরার ইঙ্গিত দেয়। এদের সার হিসেবে খুব ভাল সরষের খোল, কলার খোসা পচা জল, পেঁয়াজের খোসা ভেজানো জল ইত্যাদি জৈব সার। গোলাপ গাছে ছত্রাক ও রোগপোকার সমস্যা হয়। তাই আগাম সুরক্ষার জন্য সপ্তাহে একদিন নিম অয়েল জলে মিশিয়ে গোটা গাছে স্প্রে করা যায়। ছত্রাকে সমস্যা হলে সপ্তাহে একবার ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা যায়। তবে জলের পরিমাণ ঠিক থাকলে ছত্রাকের সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া যায়। হাজারি গোলাপ এমন জায়গায় রাখতে হবে, যেখানে দিনে পাঁচ থেকে ছ’ঘণ্টা সূর্যের আলো আসে।

মিনি টগর

মিনি টগরের বৈশিষ্ট্য হল ঝোপাকৃতির গাছে সবুজ পাতার ফাঁকে তারার মতো ছোট ছোট সাদা ফুল। শীত ছাড়া বাকি সময়টুকু কম-বেশি ফুল হতেই থাকে। মিনি টগরও রাখা যায় সেমি শেডে। টবে রোপনের পরে এক মাস ধরে রোজ জল দিতে হবে। তার পরে বুঝে জল, যাতে মাটি আর্দ্র থাকে। এই গাছে থোকা ফুল ঝরে যাওয়ার পরে সেই অংশটা কেটে দিন। সেখান থেকে আবার ডালপালা বার হবে এবং ফের ঝোপের আকার নেবে। ১৫ দিনে একবার সরষের খোল ও পটাশ মিশ্রণ এর উপযুক্ত সার। দীর্ঘদিন একই টবে থাকলে রুট বাউন্ড হয়ে পাতা হলুদ হয়ে যায়। তখন টব থেকে গাছ মাটিসমেত বার করে শিকড় ছেঁটে দিতে হবে। শীতকাল এর ডরমেন্ট পিরিয়ড। এ সময়েও পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে। তখন গাছে কোনও সার নয়। শুধু মাটি শুকিয়ে গেলে জল দিন।

চায়না কামিনী

মিনি, চায়না, বামন, মধু— এই প্রজাতির কামিনী ফুলের একাধিক নাম। চায়না কামিনী গাছ প্রায় সারা বছর ফুল দেয়। তবে বর্ষায় গাছ ভরে যায় সাদা ফুলে। রাতে ফুলের সুগন্ধ পাওয়া যায। হাইব্রিড বা দেশজ কামিনীর চেয়ে এদের পাতা ছোট হয় এবং ফুলের গন্ধের তীব্রতা কম। এই গাছের জন্য রোদ লাগে। ছোট জায়গায় রাখতে পারেন টেবিল কামিনী। ঠিক মতো প্রুনিং করলে ছোট টবে সুন্দর লাগে। তবে টেবিল কামিনীতে ফুল হয় না।

ডোয়ার্ফ বুগেনভিলিয়া

ছোট জায়গা বা টবের জন্য উপযুক্ত নানা রঙের ডোয়ার্ফ বা বামন বুগেনভিলিয়া। বলাকা, পিঙ্ক প্যাচ, ইভা গ্রিন লিভ, মিনি ফরমোসা ইত্যাদি এই প্রজাতির বুগেনভিলিয়া ৮-১০ ইঞ্চির টবে হবে এবং ফুল দেবে। বুগেনভিলিয়ার ফুল বলে যেটা সকলে ভাবেন, সেটাই আসলে পাতা। একসঙ্গে ফুটে থাকা রঙিন থোকাগুলিকে বলে ব্র্যাক্টস। বুগেনভিলিয়ার ছোট্ট ফুল থাকে ব্র্যাক্টসের ঘেরাটোপে। তাই নজর কাড়ে ব্র্যাক্টস, ফুল নয়। শীতের শেষে এবং বসন্তে চারপাশে রং ছড়িয়ে দেয় এই গাছ। এর পরিচর্যাও খুব বেশি প্রয়োজন হয় না। একটি টবে মাসে এক বার এক টেবিল চামচ সরষের খোল দিলেই চলে। দু’-তিন সপ্তাহ অন্তর মাটি খুঁচিয়ে দিলে ভাল। শীতকালে এক দিন অন্তর জল দেওয়া যেতে পারে। যত বেশি সূর্যের আলো পাবে, তত উজ্জ্বল রং ধরবে বুগেনভিলিয়ায়। সুন্দর দেখাতে ডোয়ার্ফ বুগেনভিলিয়ায় প্রুনিং জরুরি।

মিনি রঙ্গন

সারা বছর ফুল দেয় মিনি রঙ্গন। এই প্রজাতির রঙ্গন হাইব্রিড বা দেশজ রঙ্গনের চেয়ে কিছুটা আলাদা। এই গাছটিও সেমি শেডে রাখা যায়। কিন্তু মাঝেমাঝে রোদে এনে রাখতে পারলে ভাল। যদি দেখা যায় উপরের মাটি শুকিয়ে গিয়েছে কিন্তু ভিতরে ভেজা ভাব আছে, তা হলে উপরের মাটি আর্দ্র রাখার জন্য জল স্প্রে করা যায়। মাসে একদিন সরষের খোলের সার দিলেই যথেষ্ট। রোগপোকার উপদ্রব খুব বেশি নেই এই গাছে।

এই সব গাছগুলির টবের মাটি তৈরি করতে বাগানের মাটির সঙ্গে মিশিয়ে নিন ভার্মিকম্পোস্ট, কোকোপিট, অল্প পরিমাণে হাড় গুঁড়ো ও নিমখোল। ছত্রাকের সমস্যা আটকাতে সহায়ক নিমখোল। ছোট টবে ছাড়াও চায়না কামিনী, টেবিল কামিনী, মিনি রঙ্গন, মিনি টগর বাগানের বেড়া হিসেবে দেওয়া যায়, দেখতে সুন্দর লাগবে। এ ছাড়া চায়না কামিনী, টেবিল কামিনী, ডোয়ার্ফ বুগেনভিলিয়া বনসাই করেও রাখা যায়। এই সব গাছ রাখার পরে জায়গা থাকলে নিয়ে আসতে পারেন পিটুনিয়া, প্যানজ়ি, ডায়ানথাস, যারা ছোট টব ফুলে ভরিয়ে দেয়।


(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Button Rose Plant Dwarf Bougainvillea

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy