শীতকালে ঘরের লাগোয়া বারান্দাটিকে যদি ফুলের সাজে সাজাতে চান, তবে ফুলের গাছ লাগাতে পারেন। বাজারে নানা ধরনের বাহারি টব পাওয়া যায়। তাতে অল্প যত্নের কিছু ফুলের চারা বসালে শীত এবং বসন্তেও ফুলে ভরে থাকবে আপনার প্রিয় বারান্দা। বিনা পরিশ্রমে মন ভাল রাখার এমন একটি সুযোগ ছাড়বেন কেন! তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। শীতের ফুল গাছের জন্য দিনে অন্তত ৪-৫ ঘণ্টা সরাসরি রোদের প্রয়োজন। তাই বারান্দার যে দিকে রোদ বেশি থাকে, সে দিকেই টবগুলো সাজিয়ে রাখুন। এই মরসুমে কোন কোন রঙিন ফুলের গাছ অল্প আয়াসেই বেশি ফলন দেবে জেনে নিন।
১. গাঁদা
গাঁদা গাছকে যত্ন করতে হয় সবচেয়ে কম। খুব বেশি সারের প্রয়োজন হয় না এবং পোকা-মাকড় কম ধরে। একটু বেশি রোদ এবং সামান্য জল পেলেই সুন্দর ফুল হয়। আর এই শীতে গাঁদার উষ্ণ কমলা বা হলুদ রং মন ভাল করার পাশাপাশি আপনার বারান্দাতেও খানিক উষ্ণ ছোঁয়া আনবে।
খেয়াল রাখতে হবে: এ গাছের গোড়ায় জল জমতে দেবেন না। মাঝেমধ্যে শুকনো ফুলগুলো ছিঁড়ে ফেলবেন।
২. পিটুনিয়া
বারান্দার গ্রিলে ঝোলানো টব সাজানোর জন্য পিটুনিয়া আদর্শ। ঝাঁকে ঝাঁকে ফুটে থাকা রঙিন এই ফুলের দিকে তাকালেই রঙের ছোঁয়া লাগে মনে। সাদা, বেগনি, গোলাপি এবং লাল—নানা রঙের পাওয়া যায়। এর জন্য খুব বেশি বড় টবের প্রয়োজন নেই। অল্প জায়গাতে অনেক ফুল ফোটে এবং পুরো টব প্রায় ঢেকে ফেলে।
খেয়াল রাখতে হবে: গাছে সরাসরি রোদ লাগে এমন জায়গায় রাখুন এবং জল দেওয়ার সময় ফুলের ওপর জল না দেওয়াই ভালো।
৩. ক্যালেন্ডুলা
শীতের সূর্য আপনার বারান্দায়! তবে সূর্যমুখী ফুল নয়। সূর্যমুখীর মতো দেখতে ফুল ক্যালেন্ডুলা। হলুদ অথবা গাঢ় কমলা রঙের পাপড়ি। মাঝে গাঢ় খয়েরি রঙের রেণু। শীতের শুরুতে লাগালে বসন্ত পর্যন্ত প্রচুর ফুল পাওয়া যায়। এ গাছ বেশ শক্তপোক্ত হয়। আবার এর ঔষধি গুণও রয়েছে।
খেয়াল রাখতে হবে: মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই জল দিন।
৪. চন্দ্রমল্লিকা
উজ্জ্বল রঙের ফুল চন্দ্রমল্লিকা। শীতে যাঁরা ফুলের বাগান সাজান, তাঁরা নানা রঙের চন্দ্রমল্লিকা গাছ বসাবেন না, তা হতেই পারে না। শীতকালীন এই ফুলটিও ঝাঁকে ঝাঁকে ফোটে। একবার ফুটলে এই ফুল প্রায় ২০-২৫ দিন পর্যন্ত সতেজ থাকে।
খেয়াল রাখতে হবে: এই গাছের জন্য একটু বেশি রোদের প্রয়োজন হয়। খুব বেশি জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
৫. প্যানসি
এই ফুল দেখতে অনেকটা প্রজাপতির মতো। আবার চট করে সব বাগানে দেখাও যায় না। উজ্জ্বল রঙের এই ফুল যেখানে ফুটবে সেখানেই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। গাছের উচ্চতা খুব বাড়ে না। উজ্জ্বল রঙের আভায় ভরিয়ে রাখে চারপাশ।
খেয়াল রাখতে হবে : প্যানসি আর্দ্র মাটি পছন্দ করে, তাই মাটি সব সময়েই সামান্য ভিজে থাকলে ভালো হয়।