বারান্দায় রোদ আসে না তেমন। ঘিঞ্জি আশপাশ। তা সত্ত্বেও বাড়ির দেওয়াল জুড়ে অসংখ্য অপরাজিতা ফুটেছে রাজন্যার বাড়িতে। লাউ, কুমড়ো, সব গাছই হচ্ছে। কোন কৌশলে এমন সম্ভব?
গাছপালা নিয়ে যাঁরা চর্চা করেন, তাঁরা বলছেন, এর নেপথ্যে যেমন পরীক্ষা-নিরীক্ষা থাকে, তেমনই থাকে কৌশল। বারান্দায় রোদ না আসলে গোলাপ, জবা-সহ অনেক ফুলের গাছই ঠিকমতো বেড়ে উঠতে পারে না। তবে এমন বারান্দার জন্য দরকার আর এমন কৌশল, যাতে গাছ আলো-হাওয়া পায়। সে কারণেই বেছে নেওয়া যায় লতানে গাছ, যা দড়ি বা কঞ্চি বেয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে বাড়ি বা দেওয়ালের এমন সব জায়গায়, যেখানে রোদ-হাওয়া দুই-ই আসে।
এমন পন্থাতেই সাফল্য আসতে পারে, বলছেন বাড়িতে যাঁরা গাছ করেন তাঁরাই। মাথায় রাখা দরকার দু'টি বিষয়। এক, মাটি যেন আলগা হয়, জল নিকাশি ব্যবস্থা ভাল হয়। আর দুই, গাছ যেন আলো-হাওয়া পায়। এমন বারান্দায় বাগান করতে হলে বেছে নেওয়া ভাল স্বল্প সূর্যালোকে বেড়ে উঠতে পারে যে সব গাছ, সেগুলি। তালিকায় থাকতে পারে পিস লিলি, পোথোস, রবার। গাছের তালিকায় আর কী?
মর্নিং গ্লোরি: চোঙের মতো দেখতে মর্নিং গ্লোরি ফুটে থাকলে, বাড়ি রঙিন হয়ে উঠবে। রোদ না পেলে টবে বসানো গাছটিকে দড়ি, কঞ্চি আটকে আলোর দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করুন। গোলাপি, বেগনি নানা রঙের ফুল হয়। এই গাছ কিন্তু কম আলোয় বেড়ে ওঠে না, দরকার হয় যথেষ্ট আলো-হাওয়ার। মাটিতে যাতে জল না বসে, শিকড় ভাল ভাবে বাড়ে, সে কারণে সাধারণ বাগানের মাটির সঙ্গে মিশিয়ে নিন কোকোপিট। একটু বালি মিশিয়ে নিলে টবে জল জমতে পারবে না।
বোগেনভেলিয়া: উজ্জ্বল রঙের বোগেনভেলিয়া পরিচিত কাগজফুল নামে। বেগনি, গোলাপি ফুল ফুটে থাকলে, ভোল পাল্টে যাবে বাড়ির। বহু রকমের বোগেনভেলিয়া হয়। ফুল ফোটার জন্য আদর্শ সময় বসন্ত। গাছ বসাতে চাইলে বর্ষার পরের সময়টাই বেছে নিতে পারেন। তবে গাছের বেড়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত রোদের দরকার। আর মাঝেমধ্যে কাণ্ড, শাখা-প্রশাখা ছাঁটতে হবে।
কুমড়ো-লাউ: কম আলো আসে, এমন বারান্দায় ফলাতে পারেন কুমড়ো-লাউ। এই গাছগুলির জন্য পর্যাপ্ত সূর্যালোকের দরকার হয়। তবে আলো আসে এমন স্থান পর্যন্ত কায়দা করে দড়ির সাহায্যে গাছের ডালপালাগুলি যাতে প্রসারিত হয়, তা দেখতে হবে। এই গাছের মাটিতেও জল জমলে সমস্যা। টবের মাটির উপরিভাগ শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত গাছ জল না দেওয়াই ভাল।
আর কী খেয়াল রাখা প্রয়োজন?
ফুল এবং ফল পেতে হলে গাছে পরাগসংযোগের প্রয়োজন। এই কাজের জন্য পাখি, পতঙ্গের সাহায্য দরকার। গাছে কীটনাশক প্রয়োগ করলে পাখি, পতঙ্গ কমে যাবে। পরিবেশেরও ক্ষতি হবে। তার চেয়ে জৈব সার বা প্রাকৃতিক উপায়ে পোকামাকড়ের হানা ঠেকানোর চেষ্টা করা ভাল। নিমতেল, সাবানজল এই ধরনের জিনিসের ব্যবহারে পোকামাকড় ঠেকানো যায়।