বাড়িতে সবুজের ছোঁয়া থাকলে তা যেমন চোখের পক্ষে আরামদায়ক, তেমনই পরিবেশের জন্যও ভাল। বাগান করার পরিসর এখন কমছে। তাই কেউ গাছ সাজাচ্ছেন ঘরে, কেউ একফালি বারান্দাতেই বাগান করছেন।তবে সমস্যা হয়, বাড়িতে গাছপালা দেখভালের কেউ না থাকলে। ঘন ঘন যাঁদের সফর করতে হয়, তাঁদের পক্ষেও বাগান করা বা গাছের যত্ন নেওয়া কঠিন। তবে মুশকিল আসান হতে পারে এমন গাছ রাখলে, যেগুলি অল্প পরিচর্যা বা প্রায় বিনা যত্নেই বেড়ে উঠবে।
স্নেক প্ল্যান্ট
লম্বাপাতার এই গাছটি ঘরের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, ঘরের পরিবেশও ভাল রাখে।দূষণ কমাতে সাহায্য করে। তা ছাড়া, ঘরে গাছ থাকলে, গরমের দিনে ঘর ঠান্ডাও থাকে। পরিচর্যাও সহজ। বিশেষ সার প্রয়োগের দরকার হয় না। মাটির উপরিভাগ পুরোপুরি শুকিয়ে না গেলে জল দেওয়ার দরকার হয় না। কম আলো বা বেশি আলো— ঘরের যে কোনও জায়গায় মানিয়ে নেয়। তবে খেয়াল রাখা দরকার অল্প হলেও প্রাকৃতিক আলো-হাওয়া পায় গাছটি। ভাল হয়, সলতের সাহায্যে জল শোষণ করবে এমন পাত্রে গাছ রাখলে। সে ক্ষেত্রে বেড়াতে গেলেও গাছে জল দেওয়ার কথা ভাবতে হবে না।
জ়েড জ়েড প্ল্যান্ট
এই গাছটিও পাতা বাহারি। অল্প যত্নেই বেড়ে ওঠে। এই গাছ জল জমিয়ে রাখতে পারে। সফরের আগে একবার জল দিলে ২-৩ সপ্তাহ জল না দিলেও কোনও সমস্যা হয় না। কম আলোতেই এই গাছ বেড়ে ওঠে।
অ্যালো ভেরা
অ্যালো ভেরা বা ঘৃতকুমারী গাছের ভেষজ গুণ রয়েছে। এই গাছটিও প্রায় বিনা যত্নেই বেড়ে ওঠে। এই ধরনের গাছে রোজ জল দিলে বরং ক্ষতি হয়। সপ্তাহে এক, দু’বার জল দেওয়াই যথেষ্ট। জানলার পাশে বা যেখানে সরাসরি রোদ আসে, সেখানে রাখলে ভাল হয়।
পোথোস
এটি লতানো গাছ এবং খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে। সপ্তাহে একবার জল দিলেই চলে। যদি অনেক দিনের জন্য কেউ বাইরে যান তবে এটি একটি জলের বোতলে বা পাত্রে সাজিয়ে রাখতে পারেন, এতে শুকিয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
স্পাইডার প্ল্যান্ট
দেখতে খুব সুন্দর এবং এটিও খুব কম যত্নে বেড়ে ওঠে। এই গাছটি বেশ কয়েক দিন জল ছাড়া অনায়াসেই কাটিয়ে দিতে পারে। সরাসরি রোদে না রেখে ঘরের ভেতরে উজ্জ্বল কোনও জায়গায় রাখুন।