বসন্ত মানেই রঙের উৎসব। বাইরে প্রকৃতি এই সময় নানা রঙে সাজে। তাজা পাতার সবুজ, পলাশের আগুন রং, শিমুলের লাল, রাধাচূড়ার হলুদ— আরও নানা রঙে রঙিন হয়ে থাকে চারপাশ। সেই রূপের বদল যাঁরা শহরে বসে বাইরে তাকিয়ে দেখতে পান না। তাঁরা ঘরের ভিতরেই আনতে পারেন বসন্ত। তাতে ঘর দেখতে যেমন সুন্দর লাগবে, তেমনই গৃহবাসীদের মনমেজাজও হবে ফুরফুরে। ঘরকে বসন্তের রঙে রাঙাতে ৫টি বদল আনতে পারেন।
১. তাজা ফুলের ছোঁয়া
বসন্তের আসল আমেজ হল ফুল। ঘরের কোণে, ডাইনিং টেবিলে বা জানালার পাশে মাটির পাত্র বা কাচের ফুলদানিতে সাজিয়ে রাখুন তাজা ফুল। গাঁদা, গোলাপ বা রজনীগন্ধার পাশাপাশি পলাশ বা শিমুল মাটির সরায় সাজিয়ে রাখতে পারেন।
২. হালকা ও উজ্জ্বল রঙের পর্দা-চাদর
শীতের ভারী পর্দা বা গাঢ় রঙের চাদর বদলে ফেলার এটাই সময়। বসন্তের তরতাজা ভাব আনতে সুতির হালকা কাপড় বেছে নিন। পর্দা বা কুশন কভারে বাসন্তী, লেবু হলুদ, কচি কলাপাতা বা হালকা কমলা রঙের ছোঁয়া রাখুন। এতে ঘরে প্রাকৃতিক আলো বেশি খেলবে এবং ঘর বড় দেখাবে।
৩. ইনডোর প্ল্যান্টস
ঘরের ভেতরে ছোট-বড় ইনডোর প্ল্যান্ট রাখলে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকা যায়। জানালার পাশে মানিপ্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট বা অ্যালোভেরা রাখতে পারেন। মাটির টবগুলোতে চাইলে নিজেই আলপনা বা উজ্জ্বল রং করে নিতে পারেন, যা ঘরকে আরও সুন্দর করে তুলবে।
৪. প্রাকৃতিক সুগন্ধি ও মোমবাতি
বসন্তের সন্ধ্যাকে মায়াবী করতে সুগন্ধির ব্যবহার করতে পারেন। লেমনগ্রাস, জেসমিন বা ল্যাভেন্ডারের সুগন্ধে ভরা মোমবাতি বা এসেনশিয়াল অয়েল ডিফিউজার ব্যবহার করুন। এটি শুধু ঘরকে সুগন্ধিতই করবে না, সারাদিনের ক্লান্তিও দূর করবে।
৫. মাটির শোপিস
বসন্তের সাজের সঙ্গে মাটির জিনিস বা লোকজ শিল্প খুব ভাল মানায়। দেয়াল সাজাতে শীতল পাটি বা রঙিন নকশিকাঁথার ফ্রেম ব্যবহার করতে পারেন। টেবিলের ওপর ছোট মাটির ঘোড়া, পুতুল বা পটচিত্র রাখলে ঘরে এক রকমের শান্তিনিকেতনী ‘বসন্ত উৎসব’-এর আমেজ আসবে।