খুকখুকে কাশি হোক বা গলা ব্যথা, চায়ে একটু আদা থেঁতো করে দিলেই হল। বমিভাব কমে যায় মুখে কাঁচা আদা রাখলে। আমিষ হোক বা নিরামিষ রান্না, হেঁশেল অচল আদা ছাড়া। এত যার গুণ, সেই সব্জিটি ঘরেই ফলাতে পারেন। হাতের কাছে টাটকা আদা মিললে, বাড়বে রান্নার স্বাদ।
আরও পড়ুন:
প্রথম ধাপ: নার্সারি থেকে সরাসরি ছোট আদা গাছ কিনে আনতে পারেন। চাইলে হেঁশেলের আদা থেকেও গাছ তৈরি করতে পারেন। এ জন্য বেছে নিতে হবে একটু শুকিয়ে যাওয়া আদা। আদা তিন ইঞ্চি টুকরো করে কেটে নিতে হবে। সেটি ১-২দিন জলে ভিজিয়ে রাখলে অঙ্কুরোদগম শুরু হবে। মাটিতে ২-৩ ইঞ্চি গর্ত খুঁড়ে তার নীচে রাখতে হবে। উপরে ঝুরঝুরে মাটি দিতে হবে, যাতে জল-হাওয়া মেলে। দিতে হবে খুব সামান্য জলও। এই অবস্থায় হালকা ছায়াযুক্ত জায়গায় টব রেখে দিন। ২-৩ সপ্তাহেই গাছ বেরোতে শুরু করবে।
দ্বিতীয় ধাপ: চারা মাথা তুললে সঠিক টব এবং উপযুক্ত মাটিতে সেটিকে তুলে বসাতে হবে। আদা গাছের জন্য গভীর নয়, বরং চওড়া টবের প্রয়োজন। অবশ্যই টবের জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভাল হতে হবে। ৪০ শতাংশ বাগানের মাটির সঙ্গে ৩০ শতাংশ ভার্মি কম্পোস্ট, ২০ শতাংশ কোকোপিট এবং ১০ শতাংশ বালি দিয়ে মাটি তৈরি করা যায়। এতে মাটিতে জল জমবে, গাছও বেড়ে ওঠার রসদ পাবে।
তৃতীয় ধাপ: ছুরির সাহায্যে শিকড়-সহ আদা গাছটিকে পুরনো পাত্র থেকে তুলে মাটিতে গর্ত খুঁড়ে বসিয়ে দিন। উপর থেকে হালকা করে মাটি দিয়ে দিতে হবে। উপর থেকে অল্প জলের ছিটে দিয়ে মাটি ভিজিয়ে নিন। এই অবস্থায় টব এমন জায়গায় রাখুন যেখানে রোদ হালকা বা সরাসরি না আসে। কয়েক দিন পর গাছ মাথাচাড়া দিলে, রোদে রাখতে পারেন।
চতুর্থ ধাপ: গরমের দিন রোজই জল দিতে হবে। শীতে মাটি শুকোলে তবে জল দিন। বর্ষায় খেয়াল রাখুন টবে জল যেন না জমে থাকে। গাছ বড় হলে জৈব সার প্রয়োগ করতে পারেন।
পঞ্চম ধাপ: মোটামুটি ৮-১০ মাসেই ফলন হবে। আদা হয় মাটির নীচে। মাটি থেকে তোলার পরে আদা একটু শুকিয়ে নিন শুকনো জায়গায় রেখে। তার পরে তা ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠবে।