বিছানায় গা এলিয়ে কিংবা সোফায় বসে ল্যাপটপ চালিয়ে অফিসের কাজ সামলাচ্ছেন? কিছুক্ষণের কাজ হলে বিষয়টি সমস্যার না-ও হতে পারে। তবে যদি টানা ৮-৯ ঘণ্টা কাজ করতে হয়, তখন কিন্তু সোফা আর বিছানা আরামদায়ক থাকে না। বরং বসার ভঙ্গির ভুলেই হতে পারে হাতে-কাঁধে ব্যথা।
ভাল টেবিল জরুরি কেন?
শুধু অফিসের কাজ নয়, মনোবিদেরা বলেন পড়ুয়াদেরও পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট টেবিল থাকা প্রয়োজন। কারণ, খাটে বসে পড়লে ঘুম পেয়ে যেতে পারে। মেরুদণ্ড সোজা রেখে বসাটাও কঠিন হয়। তবে নির্দিষ্ট টেবিলে বসে পড়াশোনার অভ্যাস করলে, পড়ায় মন দিতেও সুবিধা হয়। আর এই জন্যই দরকার স্টাডি বা পড়াশোনার টেবিল।
কাঠের টেবিল এবং চেয়ারে বসে পড়াশোনা বা অফিসের কাজ করা নতুন নয়। তবে প্রয়োজনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চেয়ার বা টেবিলের ধরনেও এসেছে বদলে। এখন বেশিরভাগ লোকজনই থাকেন ছোট্ট ফ্ল্যাটের চৌখুপির মধ্যে। সেখানে টেবিল, চেয়ার রাখারও জায়গা থাকে না সব সময়ে। সেই কারণে, টেবিল কেনার সময় ভাবনাচিন্তা প্রয়োজন।
পড়ার টেবিলের রকমারি নকশা
বসা এবং দাঁড়ানোর ডেস্ক
বসে এবং দাঁড়িয়ে দুই ভাবে কাজ করা যায় এমন টেবিলও মেলে। ছবি:সংগৃহীত।
টেবিল যাতে পড়ুয়ারাও ব্যবহার করতে পারেন আবার বাড়ির বড়রাও সেখানে ল্যাপটপ রেখে কাজ করতে পারেন সেটা মাথায় রেখে বেছে নিতে পারেন বসে এবং দাঁড়ানোর ‘ডেস্ক’। এই ধরনের টেবিলের উচ্চতা ইচ্ছামতো বদল করা যায়। ফলে খুদের পড়ার জন্য যেমন এর উচ্চতা কমিয়ে চেয়ারের সঙ্গে মানানসই করে দেওয়া যায়, তেমনই বসে কাজ করতে ইচ্ছা না করলে, দাঁড়িয়ে কাজ করার মতো উচ্চতাতেও এটি সহজে এনে ফেলা যায়। অল্প জায়গাতে ধরেও যায়।
জিনিস রাখার জায়গা-সহ পড়ার টেবিল
এই ধরনের টেবিলে কাজ করা যায়, আনুষঙ্গিক জিনিসও রাখা যায়। ছবি:সংগৃহীত।
টেবিল থাকবে, থাকবে পাল্লা দেওয়া দরজা, দেরাজ, তাকও। টেবিল শুধু কাজের জন্য নয়, বরং জিনিস রাখার জন্যও কাজে আসবে। বিভিন্ন রকম নকশার পড়ার টেবিল হয়। বাড়ি বা ঘর ছোট হলে, এই ধরনের টেবিল বিশেষ কাজের হতে পারে।
ছোট পড়ার টেবিল
দেরাজ থাকবে, তাক থাকবে, তবে আকারে হবে ছোট। ঘরের যে অংশটুকু কাজে লাগানো যায়, সেখানে আঁটতে পারে এমন পড়ার টেবিল কিনতে পারেন বা মাপমতো বানিয়ে নিতে পারেন। ছোট জায়গার জন্য উপযোগী।
ভাঁজ করা পড়ার টেবিল
ভাঁজ করা যায় এমন পড়ার টেবিলও রাখতে পারেন। ছবি:সংগৃহীত।
দেখলে মনে হবে ছোট্ট আলমারি। কিন্তু খুলে দিলেই পড়ার টেবিল। আধুনিক অন্দরসজ্জায় এমন টেবিলের কদর বাড়ছে। ঘরের মেঝে যাতে আসবাবে ভরে না থাকে, সেই জন্যই এর কদর। এই ধরনের টেবিল কিনতে পাওয়া যায় আবার দেওয়ালের মাপ অনুযায়ী বানিয়েও নেওয়া যায়।
পড়া এবং কাজের জায়গায় থাক অনুপ্রেরণাও
টেবিল শৌখিন, সুন্দর এবং কাজের উপযোগী হলেই চলবে না। সেটি গুছিয়ে রাখাও জরুরি। অগোছালো টেবিল মনের উপর রেখাপাত করে। টেবিলে বইখাতা ছড়ানো ছেটানো থাকলে পড়তে বসতে বা কাজ করতে ভাল লাগবে না। সেটি গুছিয়ে রাখা দরকার। টেবিল সাজাতে পারেন গাছ, পছন্দের ছবি বা হাতের তৈরি কোনও জিনিস দিয়ে। সেখানে লাগানো থাকতে পারে অনুপ্রেরণামূলক কোনও উক্তিও।