ঘরের দেওয়ালে ছবি ছাড়া বাঁধিয়ে রাখা যায় আর কী কী? ফোটোগ্রাফ, হাতে আঁকা ছবি কিংবা পোস্টার দিয়েই বেশির ভাগ ঘরের দেওয়াল সেজে ওঠে। কিন্তু তার বাইরে বেরিয়ে অন্য রকম ভাবেও সাজাতে পারেন ফ্রেম।
—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
ছবির বদলে…
ঘরের দেওয়াল, শো-কেস কিংবা টেবিল… কোথায় ফ্রেম রাখবেন, তা ঠিক করে নিন আগে। লিভিং বা ডাইনিং স্পেসে দেওয়াল জুড়ে একটি বড় ফ্রেম রাখতে পারেন। আবার অনেক ছোট ছোট ফ্রেম দিয়ে মেমোরি ওয়ালের মতোও তৈরি করতে পারেন। অতিথিরা এলে প্রথমেই যে দেওয়ালে চোখ পড়ে, সেখানে টাঙানোর জন্য অনেকেই বেছে নেন রুচিশীল কোনও আর্টওয়ার্ক। হাতে বোনা কাঁথা, নকশা করা কাপড় ইত্যাদিও ফ্রেম করে রাখতে পারেন এই জায়গায়। অনেক সময়ে পুরনো হয়ে যাওয়া দামি শাড়ি কিংবা শালও এই ভাবে সংরক্ষণ করে রাখা যায়। জয়পুরি, রাজস্থানি কাজের কাপড় ফ্রেম করে বাঁধিয়ে দেওয়ালে টাঙালে সেই ঘরের চেহারাই পাল্টে যায়। বিহারের মধুবনী পেন্টিং, ওড়িশার রঘুরাজপুর কিংবা পুরুলিয়ার পটচিত্র বেছে নিতে পারেন। দামি টেবল-রানার, ভাল হাতের কাজের আসন ইত্যাদি রোজ ব্যবহার করতে না চাইলে কিংবা পুরনো হয়ে গেলে ফ্রেম করে ঘর বা সিঁড়ির পাশের দেওয়াল সাজাতে পারেন।
—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
ছোটদের ঘরে
কমবয়সি ছেলেমেয়েদের ঘর সাজাতে ফ্রেমিংয়ের জন্য বেছে নিতে পারেন নামী ফিল্ম পোস্টার, বিখ্যাত কোনও আলোকচিত্রীর ফোটো সিরিজ়। বাচ্চা ছোট হলে তার নিজের হাতে আঁকা ছবি বাঁধিয়ে রাখতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ছবি পাল্টানো যায়, এমন কাঠের ফ্রেম বেছে নিতে পারেন। কিছু দিন পর পর ছবি পাল্টে দিতে পারবেন তা হলে। ইন্টিরিয়র ডিজ়াইনার ঊর্বশী বসু যেমন বললেন, “বাচ্চার ছোট থেকে বড় হওয়ার টাইমলাইন ফ্রেম করে তার ঘরে সাজাতে পারেন। কেউ কোনও নির্দিষ্ট থিম ধরেও সাজাতে পারেন, যেমন— নদী, পাহাড় বা বন্যপ্রাণের উপরে কোনও সিরিজ়।”
স্মৃতি অমলিন
অনেকেই নিজেদের বিয়ের কিংবা মধুচন্দ্রিমার ছবি দিয়ে বেডরুম সাজান। বাচ্চার বেড়ে ওঠার ছবির সিরিজ় দিয়েও সাজানো হয় শোয়ার ঘরের দেওয়াল। অন্য রকম ভাবে সাজাতে ফ্রেমের মধ্যে ভরে ফেলুন বিয়ের নানা স্মারক। সিঁদুরদানের ছবির পাশে কাজললতা, কুনকে, গাছকৌটো রেখে বাঁধিয়ে নিন। এতে বিয়ের স্মৃতি ফ্রেমবন্দি হয়ে থাকবে আজীবন। শিশুর ছবির বদলে তার ছোটবেলায় ব্যবহার্য রুমাল, ছোট জামা, বিব কিংবা টুপি সাজিয়েও ফ্রেমিং করা যায়। সঙ্গে রইল তার ছবিও। আপনার সন্তান কোনও বিষয়ে একাধিক পদক জিতলে সেই মেডেল বাঁধিয়ে সাজিয়ে রাখা যেতে পারে। বাচ্চার হাত-পায়ের ছাপ মোল্ড-কাস্ট করেও বাঁধিয়ে রাখা যায়। একই ভাবে অনেকে কোনও সাফল্যের শংসাপত্র, দুষ্প্রাপ্য চিঠি বা অটোগ্রাফ, বংশলতিকা… ইত্যাদি অনেক মূল্যবান জিনিস স্টাডিতে বাঁধিয়ে রাখেন।
—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
শখ-আহ্লাদ
আর্ট কালেক্টরদের বাড়িতে গেলে যেমন নামীদামি পেন্টিং ফ্রেম করা চোখে পড়ে, তেমনই অনেকে শখে বাঁধিয়ে রাখেন প্রজাপতি বা অন্য কোনও বাহারি পতঙ্গ। সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুযায়ী রাসায়নিক দিয়ে তাকে সংরক্ষণ করে বাঁধিয়ে রাখতে হয়। একই ভাবে ফুলও সংরক্ষণ করে, ফ্রেম করে রাখা যায়। যাঁদের ডাকটিকিট জমানোর শখ, তাঁরা দুষ্পাপ্য, দামি ডাকটিকিট ফ্রেম করে রাখেন। সুতো, কুরুশ বা উলে তৈরি হাতের কাজ অনেকে গোল কাঠের ফ্রেমে রেখে তা দিয়েও দেওয়াল সাজান।
—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
হরেকরকম
কাঠের ফ্রেমের পরিবর্তে এখন ফাইবার বা ইউপিভিসি ব্যবহৃত হয়। কাঠের মধ্যে সহজলভ্য পাইন কাঠের ফ্রেম। ফাইবার গ্লাস বা উডেন মাউন্টে কিছু বাঁধিয়ে রাখলে তা দীর্ঘ দিন পর্যন্ত টিকে থাকে। রেজ়িন ফ্রেমিংয়ের চাহিদাও দিনে দিনে বাড়ছে।
রঙেও এসেছে বদল। সাদা বা প্রিন্টেড ফ্রেম জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেকে নকশাদার কাপড় বা অন্য ধরনের ফ্যাব্রিকও ব্যবহার করেন ফ্রেমিংয়ের জন্য। খুব পুরনো কোনও অয়েল পেন্টিং কিংবা ছবির ফ্রেম নির্দিষ্ট সময় অন্তর পাল্টানো প্রয়োজন, না হলে ভিতরের জিনিসটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
বাঁধাইয়ের উদ্দেশ্য শুধু ঘর সাজানো নয়, সেই বিশেষ জিনিসটির যত্ন ও সংরক্ষণও। ঘরের শোভাবর্ধনের পাশাপাশি এটি পরিচয় দেবে আপনার ব্যক্তিত্ব ও রুচিবোধের।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)