Advertisement
E-Paper

সামলে রাখুন বাতের ব্যথা

বয়স বাড়লে বাত নিয়ে নানা সমস্যা শুরু হয়ে যায়। ঠিকমতো ব্যবস্থা নিলে বাতের যন্ত্রণাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।  এ নিয়ে  কথা বললেন চিকিৎসক কুণাল সুভাষ মুখোপাধ্যায়বয়স বাড়লে বাত নিয়ে নানা সমস্যা শুরু হয়ে যায়। ঠিকমতো ব্যবস্থা নিলে বাতের যন্ত্রণাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০২:১৪

প্রশ্ন: বাত বা আর্থ্রাইটিস কী?

উত্তর: বিভিন্ন হাড়ের সংযোগস্থল অর্থাৎ অস্থিসন্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে বাত হয়। এতে ব্যথা হওয়া সঙ্গে সঙ্গে চলাফেরায়ও সমস্যা হতে শুরু করে। দু’টি হাড়ের অস্থিসন্ধিতে রয়েছে কার্টিলেজ। এই কার্টিলেজগুলির ক্রমাগত ক্ষয়ের ফলে বাতের সমস্যা শুরু হয়।

প্রশ্ন: বাত কত প্রকারের হয়?

উত্তর: চিকিৎসাশাস্ত্রে বহু রকমের বাতের উল্লেখ রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ধরনের বাত হল অস্টিও-আর্থ্রাইটিস এবং রিউমটয়েড (Rheumatoid) আর্থ্রাইটিস। তবে আমাদের দেশে বেশি হয় প্রথম ধরনের বাত অর্থাৎ অস্টিও-আর্থ্রাইটিস। এই ধরনের বাত সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হয়ে থাকে। অস্থিসন্ধিতে থাকা কার্টিলেজ ক্ষয়ে যাওয়ার ফলে এই ধরনের বাত হয়। আর রিউমটয়েড বাতটি হয় সাধারণত দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিসক্রিয় হলে। এই অতিসক্রিয়তা অস্থিসন্ধির কার্টিলেজে প্রভাব ফেলে। কার্টিলেজ নষ্ট হলে বাতের ব্যথা শুরু হয়।

প্রশ্ন: এই যে বলা হচ্ছে, বাত হয় কার্টিলেজ ক্ষয়ে যাওয়ার ফলে। এই কার্টিলেজ কী?

উত্তর: অস্থিসন্ধি বা দু’টি হাড়ের সংযোগস্থলে অর্থাৎ, হাড়ের আগায় সাদা রঙের রবারের মতো দু’টি তন্তুর মতো বস্তু থাকে। এদের কাজ অস্থিসন্ধির দু’টি হাড়ের মধ্যে ঘর্ষণ কমানো। তা ছাড়া কোনও আঘাত লাগলে এগুলি ‘শক অ্যাবজরভার’ হিসাবে কাজ করে। কোনও কারণে ওই কার্টিলেজ ক্ষয়ে গেলে হাড়ের ক্ষয় শুরু হয় এবং বাতের উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে।

প্রশ্ন: আমাদের দেশে অস্টিও-আর্থ্রাইটিসের আধিক্য বেশি। এর কারণ কি?

উত্তর: ভারতে অস্টিও-আর্থ্রাইটিসে আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি। এর অন্যতম কারণ ঠিকমতো শারীরিক পরিশ্রম না করা, শরীরচর্চা না করা, দেহের ওজন বেড়ে যাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত খাওয়াদাওয়া। এই ধরনের বাতে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাঁটু।

প্রশ্ন: অস্টিও-আর্থ্রাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণগুলি কী?

উত্তর: প্রাথমিক ভাবে অস্থিসন্ধিতে ব্যথা থেকে শুরু হবে। এর পরে ধীরে ধীরে অস্থিসন্ধির সচলতা কমে যাবে। এ ভাবে চলতে চলতে কারও কারও ক্ষেত্রে অস্থিসন্ধির হাড়গুলি হালকা বেঁকেও পর্যন্ত যেতে পারে। তখন হাঁটু মুড়ে বসতে, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে, অনেকক্ষণ হাঁটাচলা করতে সমস্যা দেখা দেবে।

প্রশ্ন: বাত কাদের বেশি হয়?

উত্তর: বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, মহিলাদেরই এই বাতের রোগ বেশি হয়। সাধারণত বয়স ৪০ পেরিয়ে যাওয়ার পরে মহিলারা এই বাতের রোগ আক্রান্ত হন। ওজন বেশি থাকলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে যায়। তবে পুরুষেরাও এই রোগে আক্রান্ত হন। সাধারণত বয়স পঞ্চাশ পেরনোর পরে পুরুষদের বাতের রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়।

প্রশ্ন: বাতের রোগ কি বংশগত?

উত্তর: চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে দেখা গিয়েছে, বংশের কেউ বাতের রোগে আক্রান্ত হলে পরিবারের অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে যায়।

প্রশ্ন: খাওয়াদাওয়ার কোনও ঘাটতির কারণে কি বাতের সমস্যা হতে পারে?

উত্তর: প্রধানত ভিটামিন-ডি এবং ক্যালসিয়ামের অভাবে বাতের রোগ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তা ছাড়া ফ্যাট জাতীয় খাবার বেশি খাওয়ার ফলে ওজনও বেড়ে যায়। দেহের ওজন বাড়লে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

প্রশ্ন: এই রোগ থেকে মুক্তির উপায় কী?

উত্তর: প্রথমেই বলে রাখা দরকার বাতের হাত থেকে সম্পূর্ণ রেহাই পাওয়ার কোনও ওষুধ বা পদ্ধতি এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। ওযুধ প্রয়োগ করে বাতের সমস্যাগুলি থেকে সাময়িক রেহাই মিলতে পারে। রোগ যাতে না বাড়ে তার জন্য নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে। ফিজিওথেরাপি করতে হবে।

প্রশ্ন: নিয়মিত শরীরচর্চা করলে কী ভাবে সুফল মেলে?

উত্তর: নিয়মিত শরীরচর্চা ও ফিজিওথেরাপি করলে অস্থিসন্ধি সচল থাকবে। ব্যথাও অনেকটা কমবে। তা ছাড়া ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে অস্থিসন্ধির উপরে চাপ অনেকটাই কমে যাবে। ফলে অস্থিসন্ধির ভিতরে থাকা কার্টিলেজের আরও ক্ষয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমবে এবং ব্যথাও কমে যাবে। স্বাস্থ্যসম্মত খাওয়াদাওয়া ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনও একান্ত প্রয়োজন।

প্রশ্ন: কোনও ধরনের সাপ্লিমেন্ট প্রয়োগে কি এই রোগ থেকে রেহাই মিলতে পারে?

উত্তর: চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন কোনও তথ্য দেওয়া নেই। তবে আমরা প্রতি দিন চিকিৎসা করতে গিয়ে দেখেছি, কয়েক ধরনের সাপ্লিমেন্ট খেলে ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে।

প্রশ্ন: বেশি হাঁটাচলা করলে কি হাঁটু বা কোমরের বাত বাড়তে পারে?

উত্তর: এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বেশি হাঁটলে কখনই বাতের সমস্যা বাড়বে না। বরং যাঁদের ওজন বেশি, তাঁরা বেশি হাঁটলে তাঁদের ওজন কমবে। যা বাতের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

প্রশ্ন: বাতের ব্যথা ওষুধে না কমলে কী করণীয়?

উত্তর: বাত কোনও সময়ে ওষুধের দ্বারা নিরাময় হয় না। যদি রোগীর দৈনন্দিন কাজে অসুবিধা হয় বা প্রতি দিন ব্যথার ওষুধ খেতে হয়, তখন অস্ত্রোপচার করে অস্থিসন্ধির পরিবর্তন করা দরকার। একে ‘জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট’ বলে।

প্রশ্ন: জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট কী ভাবে করা হয়?

উত্তর: হাড়ের আগায় ঘষা লেগে ক্ষয়ে যাওয়া অংশগুলিকে বাদ দিয়ে বাইরে থেকে ধাতব অংশ বসানো হয়। একেই বলে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট।

প্রশ্ন: এটি কি ঝুঁকিপূর্ণ?

উত্তর: সাধারণ মানুষের ধারণা রয়েছে, এটি খুবই জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি বিষয়। কিন্তু বাস্তবে তা একদমই নয়। ঠিক ভাবে মূল্যায়ন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চললে এই ধরনের অস্ত্রোপচারে সাফল্যের হার অনেকটাই বেশি।

সাক্ষাৎকার: বিপ্লব ভট্টাচার্য

সাত দিনে সাত কাহনের বিভিন্ন বিভাগে ই-মেল বা চিঠি পাঠাতে:

ই-মেল: edit.southwestbengal@abp.in
চিঠি: আনন্দবাজার পত্রিকা,
৬, প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা- ৭০০০০১।
চিঠি বা ই-মেলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নাম উল্লেখ করতে ভুলবেন না

Arthritis Pain Doctor's Suggestion
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy