সকালে কাজে বেরোনোর আগে স্নান হোক বা বাড়ি ফিরে হাত-পা ধোয়া— কলের বরফশীতল জলের ছ্যাঁকা থেকে রক্ষা পেতে গিজ়ারই ভরসা। কিন্তু অনেকের বাড়িতেই গিজ়ার নেই। একাধিক মধ্যবিত্ত পরিবার ইমারশন হিটার ব্যবহার করতে অভ্যস্ত। কিন্তু বিদ্যুতের সমস্যা থাকলে গিজ়ার বা হিটার কোনওটিতেই লাভ হয় না। ছাদে রাখা জলের ট্যাঙ্কেই কয়েকটি ছোটখাটো পরিবর্তন আনতে পারেন। তা হলেই হিমশীতল ভাব কেটে যেতে পারে জলের।
১. শীতের সময়ে ঠান্ডা হাওয়ার সংস্পর্শে এসে ট্যাঙ্কের জল দ্রুত বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়। তাই শীত পড়তেই ট্যাঙ্কের চারদিকে থার্মোকলের মোটা পাত দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। ফলে জলের স্বাভাবিক তাপমাত্রা চট করে নামতে পারে না। বাইরের ঠান্ডা বাতাস ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না। শরীর যেমন থার্মাল বা গরম জামা পরে উষ্ণ রাখা হয়, ঠিক তেমনই নিয়মে ট্যাঙ্ককে মুড়ে রাখতে হবে। থার্মোকল এখানে ইনসুলেটর হিসেবে কাজ করে। ফলে ভোরের দিকেও জল তুলনামূলক ভাবে গরম থাকে। থার্মোকলের বদলে বাড়িতে বাব্ল র্যাপ থাকলে, তা দিয়েও ট্যাঙ্ক ঢেকে দিতে পারেন। তাতেও খানিক উপকার মিলতে পারে।
জলের হিমশীতল ভাব কাটানোর উপায়। ছবি: সংগৃহীত।
২. রোদ উঠলে ট্যাঙ্ক ঢেকে রাখবেন না। সূর্যের আলো পড়লে ট্যাঙ্কের জল স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা উষ্ণ হয়। ছাদের যে জায়গায় সবচেয়ে বেশি রোদ পড়ে, সেখানে ট্যাঙ্ক থাকলে বেশি সুবিধা হয়। দুপুরের রোদে জল যত গরম হবে, সন্ধ্যার পর ঢেকে দিলে সেই তাপ কিছুটা সময় ধরে থাকবে।
৩. হালকা নয়, ট্যাঙ্কের রং কালো করে দিতে পারেন। গাঢ় নীল বা গাঢ় বাদামি রংও করা যেতে পারে। এর ফলে তাপ শোষণ করার ক্ষমতা বাড়বে ট্যাঙ্কের। রোদ উঠলে তাপ শোষণ করবে বেশি পরিমাণে। ফলে জল তুলনামূলক ভাবে কম ঠান্ডা হবে।
৪. শীত পড়তেই ট্যাঙ্কের চারদিক এবং উপরের অংশ মোটা পুরনো কম্বল, চাদর, বস্তা বা পাটের কাপড় দিয়ে ভাল করে ঢেকে রাখুন। এতে ঠান্ডা বাতাস সরাসরি জলে পৌঁছোতে পারে না এবং জল তুলনামূলক উষ্ণ থাকে।
৫. অনেক সময় দেখা যায়, ট্যাঙ্কের জল খুব ঠান্ডা না হওয়া সত্ত্বেও কল খুললে হিমশীতল জল পড়ছে। কারণ ছাদের খোলা জায়গায় থাকা পাইপের মধ্যে দিয়ে আসার সময়ে জল ঠান্ডা হয়ে যায়। এই পাইপগুলির চারপাশে পাটের কাপড়, পুরনো তোয়ালে বা মোটা কাপড় পেঁচিয়ে রাখলে পাইপের ভিতরের জল এত ঠান্ডা হয় না।