শীত বাড়লেই বাড়ির বয়স্কদের জন্য দুশ্চিন্তা বাড়ে। পশ্চিমবঙ্গেও অনেকে ঘর গরম রাখার জন্য বৈদ্যুতিক হিটার কিনছেন। যাতে বয়স্কেরা ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে না পড়েন। কিন্তু এই হিটারগুলি শরীর ও ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। আবার অনেকেই বিদ্যুৎ খরচের জন্য হিটার ব্যবহার করতে চান না, কারও বা কেনার সামর্থ্য নেই। কিন্তু কয়েকটি কৌশল প্রয়োগ করলে হিটার ছাড়াও শীতকালে ঘর উষ্ণ রাখা সম্ভব।
ঘর গরম রাখার ৫ পন্থা—
১. রোদের সঠিক ব্যবহার: শীতের দিনে রোদের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। সকালে রোদ উঠলে জানলা ও পর্দা খুলে রাখুন। সূর্যের আলো সরাসরি ঘরের ভিতরে ঢুকলে দেওয়াল আর মেঝে ধীরে ধীরে গরম হয়। দুপুরের পর যখন রোদের তেজ কমে আসে, তখন জালা ও পর্দা বন্ধ করে দিন। এতে দিনের বেলায় জমে থাকা উষ্ণতা সহজে বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে না।
২. ফাঁক বুজিয়ে দিন: ঘরের দরজা আর জানলার নীচে বা পাশে ছোট ফাঁক থাকলে সেখান দিয়েই সবচেয়ে বেশি ঠান্ডা বাতাস ঢোকে। এই ফাঁকগুলি বুজিয়ে দেওয়া দরকার। পুরনো তোয়ালে বা মোটা কাপড় ভাঁজ করে দরজার নীচে গুঁজে দিন। ছোট ছোট এই কৌশলে ঘরের তাপমাত্রা ধরে রাখা যায়।
হিটার ছাড়াই ঘর উষ্ণ রাখুন। ছবি: সংগৃহীত।
৩. গালিচা ব্যবহার করুন: শীতে মেঝে থেকে ঠান্ডা উঠে আসে সবচেয়ে বেশি। তাই খালি মেঝে যথাসম্ভব ঢেকে রাখা ভাল। কার্পেট, মোটা গালিচা বা পাটের দড়ি দিয়ে তৈরি মাদুর ব্যবহার করলে পায়ের তলায় ঠান্ডা কম লাগে এবং ঘরও তুলনামূলক ভাবে উষ্ণ থাকে। বিছানা বা সোফার পাশে গালিচা থাকলে শরীরের উষ্ণতা ধরে রাখা সম্ভব।
৪. রান্নাঘর উষ্ণ রাখুন: শীতের সময় রান্নাঘর থেকেও ঘরের উষ্ণতা বাড়ানো যায়। রান্নার সময়ে গ্যাসের আগুন আর গরম জল থেকে যে উষ্ণতা তৈরি হয়, তা দিয়ে গোটা বাড়ি গরম রাখা যেতে পারে খানিক পরিমাণে। রান্নার সময় রান্নাঘরের দরজা খোলা রাখলে সেই উষ্ণতা ঘরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। তা ছাড়া হেঁশেলের জানালা বন্ধ রাখলে সেই উষ্ণতা বাইরে যেতে পারে না।
আরও পড়ুন:
৫. বিছানা উষ্ণ রাখুন: শীতের সময়ে বিছানা কী ভাবে রাখছেন, তার উপর ঘরের উষ্ণতা নির্ভর করে। মোটা কম্বল, চাদর ইত্যাদি দিয়ে স্তর তৈরি করলে বিছানা গরম থাকে। ভিতরের উষ্ণতা বাইরে বেরোতে পারে না, বাইরের ঠান্ডা বাতাস ভিতরে ঢুকতে পারে না।