E-Paper

তালিকা দেখেই পরবর্তী কৌশল সব দলের

তালিকা থেকে ‘অন্যায়’ ভাবে ভোটারের নাম বাদ গেলে ২ তারিখ জেলায় জেলায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিপিএম।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০৮

—প্রতীকী চিত্র।

প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকার দিকে সতর্ক নজর রাখছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরে শীর্ষ নেতৃত্বের কৌশল, ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’। মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারের হিসেব শাসক দলের সংগ্রহে রয়েছে। সেই সঙ্গে জমে থাকা আবেদনের মীমাংসার বিষয়টি দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করতে চাইছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে নতুন করে মন্তব্যে নারাজ বিজেপি নেতৃত্বও। অন্যায় ভাবে কোনও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেলে আগামী ২ মার্চ ও তার পরেও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিপিএম। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) সঙ্গে দেখা করে ত্রুটিমুক্ত তালিকার দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।

রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ে ‘ন্যায্য ভোটারের’ অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যে হেতু দেশের সর্বোচ্চ আদালতের ‘তত্ত্বাবধানে’ এখন এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, তাই নতুন করে আর সুর চড়াননি শাসক নেতারা। সেই বার্তা দিয়েই মন্ত্রী ব্রাত্য বসু শুক্রবার বলেছেন, “এসআইআর-কে সামনে রেখে মহারাষ্ট্র, বিহারের মতো এখানেও বিজেপি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু ন্যায্য ভোটারের অধিকার রক্ষাই দলের অগ্রাধিকার।” আর এক মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেছেন, “বিচারবিভাগীয় অফিসারেরা যা করবেন, তাকেই সুপ্রিম কোর্ট মান্যতা দিতে বলেছে। ফলে, তাঁরা সে ভাবেই কাজ করবেন।”

তালিকা ঘিরে অশান্তির আশঙ্কাও উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “কেন গোলমাল হবে? বরং, বৈধ ভোটার বাদ গেলে বা ভিন্ রাজ্যের ভূতুড়ে ভোটার ঢোকানো হলে বুঝতে হবে, বিজেপির চাপে নির্বাচন কমিশন প্ররোচনা তৈরি করতে চাইছে। সেই ফাঁদে কেউ যেন পা না দেন।”

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এ দিন বলেছেন, “চূড়ান্ত ভোটার তালিকা না-দেখে মন্তব্য করব না। কিন্তু ৭ নম্বর ফর্ম যা আমাদের কর্মীরা জমা দিতে গিয়েছিলেন কিন্তু পুলিশের সহায়তায় তৃণমূল ছিঁড়ে বা পুড়িয়ে দিয়েছে, লুট করে নিয়েছে, সেগুলো জমা না-নিলে ভোট হবে না!” তাঁর আরও বক্তব্য, “বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির বিএলএ-২’দের নাম ব্যবহার করে সমাজের বিশিষ্ট জন, বয়স্ক মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তাঁদের ডেকে পাঠিয়ে হয়রানি করা হল। পুরো ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অনাস্থা তৈরি করা হল। এটা কমিশন দেখুক।”

তালিকা থেকে ‘অন্যায়’ ভাবে ভোটারের নাম বাদ গেলে ২ তারিখ জেলায় জেলায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিপিএম। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর মতে, “ভোটার ছাড়াই ভোট হবে, কার্যত এই রকম মনোভাব নিয়ে কমিশন চলেছে! আর রাজ্য সরকারও এসআইআর প্রক্রিয়ায় যথাযথ সহায়তা করেনি। এর পরে তালিকা থেকে অন্যায় ভাবে ন্যায্য ভোটারের নাম বাদ গেলে প্রবল প্রতিবাদ হবে।”

ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকার দাবিতে এ দিন সিইও দফতরের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল প্রদেশ কংগ্রেস। কিন্তু তাদের দাবি, কলকাতা পুলিশের অনুমতি না-পাওয়ায় সেই কর্মসূচি স্থগিত রাখতে হয়েছে। প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, দলের নেতা তাপস মজুমদার, তপন আগরওয়াল, আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, রোহন মিত্রেরা সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করেন। শুভঙ্কর বলেন, “চূড়ান্ত তালিকায় উপযুক্ত নথি থাকা প্রকৃত কারও নাম না-থাকলে কী হবে, তালিকা বেরোনোর পরে ফর্ম ৬, ৭, ৮-এর বাস্তবায়ন কী ভাবে হবে, এমন নানা প্রশ্ন করেছি।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

SIR TMC BJP CPIM Congress

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy