প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আদালতের এজলাসে চলল অদ্ভুত এক নাটক। এক মধ্যবয়সি মহিলা আদালতের কক্ষে ঢুকে সটান বিচারকের আসনে বসে সদর্পে ঘোষণা করলেন ‘‘অর্ডার অর্ডার। আজ আমিই জেলা জজ।’’ মহিলার এই আদেশে হতচকিত হয়ে পড়েন, আদালতের কর্মচারী, আইনজীবী থেকে শুরু করে বিচারপ্রার্থীরাও। সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে ঘটনাটি ঘটেছে, শুক্রবার, বারাণসী জেলা আদালত চত্বরে। এই নজিরবিহীন ঘটনার একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমেও। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, মেরুন রঙের সালোয়ার-কামিজ পরা ওই মহিলা চেয়ারে বসে অবিকল বিচারকের কায়দায় হাতুড়ি ঠুকে সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন। বারাণসী জেলা আদালতে বিচারকের চেয়ারে বসে ‘আজ আমিই জেলা জজ’ ঘোষণা করার পর সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি চিৎকার করে বলছিলেন, “অর্ডার অর্ডার! আমার সামনে সাক্ষী ও প্রমাণ হাজির করুন!” পুলিশ হস্তক্ষেপ করার আগে পর্যন্ত এই বিশৃঙ্খলা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে। কর্তৃপক্ষ পরে জানিয়েছেন ওই মহিলা সম্ভবত মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়ে একটি তদন্ত শুরু করেছেন কর্তৃপক্ষ।
Varanasi: Woman sat in district judge’s chair, banged gavel, shouted “Order! Order!” and declared “Today I’m the judge, present evidence.” Police detained her. pic.twitter.com/fcoZVpmMwL
— Ghar Ke Kalesh (@gharkekalesh) June 12, 2026
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত মহিলা প্রথমে আদালতের কর্মীদের কাছে বিচারকের আসার সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তার পর সোজা বিচারকের এজলাসের দিকে হেঁটে গিয়ে তাঁর চেয়ারে বসেন। বিচারকের ডেস্কে পড়ে থাকা মামলার নথিগুলোও খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। তাঁর এই আচরণ আদালতকক্ষে উপস্থিত জনতার মধ্যে বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে তোলে। আদালতের কর্মচারী ও আইনজীবীরা তাঁকে চেয়ার ছেড়ে যেতে রাজি করানোর জন্য বেশ কয়েক বার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি নামতে অস্বীকার করেন এবং যিনিই তাঁর কাছে যান, তাঁর উপর চিৎকার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভিডিয়োটি ‘ঘর কা কলেশ’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করার পর বহু বার দেখা হয়েছে। প্রায় আড়াই হাজার লাইক পড়েছে ভিডিয়োয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত জেলা জজ যজুবেন্দ্র বিক্রম সিংহ ছুটিতে থাকাকালীন এই ঘটনাটি ঘটে। অবশেষে, ক্যান্টনমেন্ট থানার মহিলা পুলিশকর্মীরা হস্তক্ষেপ করে মহিলাকে আদালতকক্ষ থেকে বার করে দেন। কী ভাবে নিরাপত্তা তল্লাশি এড়িয়ে বিচারকের আসনে প্রবেশ করতে সক্ষম হলেন, তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর মহিলাকে মুক্তি দিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে।