Advertisement
E-Paper

মনমেজাজ চাঙ্গা করতে জাপানে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘কফিন ক্যাফে’! বিষয়টি ঠিক কী?

কফিন সেশনটি করা হয় মোট আধ ঘণ্টার জন্য। কেউ চাইলে বন্ধ কফিনের পরিবর্তে খোলা রংচঙে কফিনও বেছে নিতে পারেন। কোনও কোনও সেশনে গান ও ভিডিয়ো ব্যবহার করা হয়, কোনওগুলি আবার সম্পূর্ণ নীরবতা ও নিস্তব্ধতার মধ্যেই সম্পন্ন করা হয়, যা সাধারণত মৃত্যুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের দারুণ অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ১৮:৩৩
কেন জনপ্রিয় হচ্ছে ‘কফিন ক্যাফে’?

কেন জনপ্রিয় হচ্ছে ‘কফিন ক্যাফে’? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

মনমেজাজ ভাল করতে সালোঁয় গিয়ে সেশন নিয়েছেন নিশ্চয়ই, তবে এ বার জাাপানে জনপ্রিয় হচ্ছে কফিন সেশন। জাপানের বেশ কিছু ওয়েলনেস সেন্টার এবং অন্ত্যেষ্টি সংস্থাগুলি মানুষকে কফিনে শুয়ে আরাম করতে, ধ্যান করতে, নশ্বরতাকে অন্তর থেকে অনুভব করতে এবং জীবনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবতে সুযোগ দিচ্ছে। শুনতে অদ্ভুত লাগছে তো? জাপানে এই চল এতই বেড়েছে যে কফিন সংস্থাগুলির মধ্যে রকমারি কফিন বানানোর প্রায় প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। যদি একটি সাধারণ বাদামি রঙের কফিন কারও পছন্দ না হয়, সে ক্ষেত্রে সুযোগ রয়েছে রকমারি নকশার কফিন বেছে নেওয়ার।

কফিন সেশনটি করা হয় মোট আধ ঘণ্টার জন্য। কেউ চাইলে বন্ধ কফিনের পরিবর্তে খোলা রংচঙে কফিনও বেছে নিতে পারেন। কোনও কোনও সেশনে গান ও ভিডিয়োর ব্যবহার করা হয়, কোনওগুলি আবার সম্পূর্ণ নীরবতা ও নিস্তব্ধতার মধ্যেই সম্পন্ন করা হয়, যা সাধারণত মৃত্যুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের দারুণ অভিজ্ঞতা তৈরি করে। কফিন নির্মাতারাদের মতে, কল্পনাপ্রবণ নকশা তৈরির উদ্দেশ্য হল মৃত্যুকে কম ভীতিপ্রদ করে তোলা এবং মানুষকে জীবনের মূল্য স্মরণ করিয়ে দেওয়া।

এই চলটি শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে, যখন শতাব্দীপ্রাচীন এক অন্ত্যেষ্টি প্রতিষ্ঠান ‘ইনটু-দ্য-কফিন ক্যাফে’ নামে একটি পরিষেবা চালু করে। এর উদ্দেশ্য ছিল মৃত্যুকে ঘিরে থাকা সামাজিক নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করা এবং একই সঙ্গে মানুষকে নতুন করে জীবন শুরু করার একটি অনুভূতি দেওয়া। এমনই এক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সংস্থা কাজিয়া হোনতেনের সভাপতি বলেন, “আমরা যেমন চাই মানুষ ছবি তুলুক এবং একটি প্রাণবন্ত অভিজ্ঞতা লাভ করুক, তেমনই আমরা চাই যারা জীবনে আটকে পড়েছেন বলে মনে করেন, তাঁরাও কফিনের ভিতরে প্রবেশ করুন। কফিন থেকে বেরিয়ে আসা পুনর্জন্ম এবং নতুন করে শুরু করার একটি সুযোগের প্রতীক হতে পারে।”

আগে একটি মাত্র ছিল, তবে দিন দিন জাপানে বাড়ছে ‘কফিন ক্যাফে’-র সংখ্যা। তরুণ প্রজন্ম ছুটির দিনগুলিতে এই ধরনের ক্যাফেতে ঢুঁ মারছে। তাঁদের দাবি, এই ধরনের ক্যাফেতে গিয়েই তাঁরা জীবনকে নতুন ভাবে দেখতে পাচ্ছেন।

অনেক অংশগ্রহণকারী কফিন থেকে বেরিয়ে এসে স্বস্তি বোধ করেন এবং জীবনের প্রতি নতুন করে উদ্যম লাভ করেন। তবে, মনোবিদরা সতর্ক করেছেন যে, যদিও আয়োজকরা দাবি করেন এই ধরনের অভিজ্ঞতা উদ্বেগ কমাতে পারে এবং মানুষকে জীবনের মূল্য মনে করিয়ে দিতে পারে, কিন্তু এর মারাত্মক বিপরীত ফলও হতে পারে। মানসিক ভারসাম্য বিগড়েও দিতে পারে এমন সব সেশন।

Japan
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy