Advertisement
E-Paper

বিধি মেনে শংসাপত্রের পরীক্ষায় ডাক্তার-মন্ত্রী

খাতা-কলম নিয়ে পরীক্ষায় বসলেন স্বয়ং মন্ত্রী। শুধু বসাই নয়, দেড়শো নম্বরের ‘কোয়ালিফাইং টেস্ট’-এ রীতিমতো ভাল নম্বর পেয়ে পাশও করলেন। এবং তার পরে বললেন, ‘‘আমরা যখন মন্ত্রী, নীতি নির্ধারক, তখন সরকারি নিয়ম প্রথম আমাদের মানা উচিত। তবেই তো বাকিরা মানবেন।’’ নিজে মহিলা, স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞ, দুই কন্যাসন্তানের মা। রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা কিছু দিন আগেও ‘প্রি কনসেপশনাল অ্যান্ড প্রি নেটাল ডায়গনোসিস টেকনিক্‌স অ্যাক্ট’ (পিসিপিএনডিটি)-এর আওতায় আল্ট্রাসোনোগ্রাফির মাধ্যমে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ আটকাতে গঠিত সরকারি কমিটিতে ছিলেন। তিনিই এ বার যোগ্য ও বৈধ সোনোলজিস্ট হিসেবে সরকারি শংসাপত্র পাওয়ার স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত পরীক্ষায় বসেছিলেন। পাশ করেছেন ১০০ নম্বরের থিওরি ও ৫০ নম্বরের প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষায়। কন্যাভ্রূণ হত্যা রোধে স্বাস্থ্য দফতরের প্রচেষ্টায় সামিল হতেই মন্ত্রীর এই পদক্ষেপ।

পারিজাত বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০১৫ ০০:৩৪

খাতা-কলম নিয়ে পরীক্ষায় বসলেন স্বয়ং মন্ত্রী। শুধু বসাই নয়, দেড়শো নম্বরের ‘কোয়ালিফাইং টেস্ট’-এ রীতিমতো ভাল নম্বর পেয়ে পাশও করলেন। এবং তার পরে বললেন, ‘‘আমরা যখন মন্ত্রী, নীতি নির্ধারক, তখন সরকারি নিয়ম প্রথম আমাদের মানা উচিত। তবেই তো বাকিরা মানবেন।’’

নিজে মহিলা, স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞ, দুই কন্যাসন্তানের মা। রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা কিছু দিন আগেও ‘প্রি কনসেপশনাল অ্যান্ড প্রি নেটাল ডায়গনোসিস টেকনিক্‌স অ্যাক্ট’ (পিসিপিএনডিটি)-এর আওতায় আল্ট্রাসোনোগ্রাফির মাধ্যমে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ আটকাতে গঠিত সরকারি কমিটিতে ছিলেন। তিনিই এ বার যোগ্য ও বৈধ সোনোলজিস্ট হিসেবে সরকারি শংসাপত্র পাওয়ার স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত পরীক্ষায় বসেছিলেন। পাশ করেছেন ১০০ নম্বরের থিওরি ও ৫০ নম্বরের প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষায়। কন্যাভ্রূণ হত্যা রোধে স্বাস্থ্য দফতরের প্রচেষ্টায় সামিল হতেই মন্ত্রীর এই পদক্ষেপ।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষা? কন্যাভ্রূণ হত্যা রোখার সঙ্গে এর সম্পর্ক কী? কেনই বা শশী পাঁজাকে সেই পরীক্ষায় বসতে হল?

নিয়মের তোয়াক্কা না-করে যত্রতত্র যে কেউ আল্ট্রাসোনোগ্রাফি যন্ত্র কিনে টাকার বিনিময়ে দেদার ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ করছেন— এমন অভিযোগ উঠছিল অনেক দিন ধরেই। স্বাস্থ্য দফতরের পিসিপিএনডিটি কমিটি প্রথম-প্রথম কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক, নার্সিংহোমে আচমকা অভিযানও চালিয়েছিল। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই অভিযানে ভাটা পড়ে। সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিও নিয়মিত স্বাস্থ্য দফতরে আল্ট্রাসোনোগ্রাফির তথ্য পাঠাতে গড়িমসি করছিল। শেষে ইউএসজি যন্ত্রের বেহিসেবি ব্যবহারে কিছুটা অন্তত রাশ টানতেই পরীক্ষায় পাশের এই নতুন নিয়ম ঠিক করেছে স্বাস্থ্য দফতর।

ঠিক হয়েছে, স্ত্রীরোগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বা ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসক ও রেডিওডায়াগনসিস-এ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ও ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসকেরা আগের মতো এখনও আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করতে পারবেন। কিন্তু সাধারণ এমবিবিএস পাশ চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে নিয়ম বদলে যাবে। যে সব এমবিবিএস চিকিৎসক বহুদিন ধরে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করছেন, এ বার থেকে তাঁদের রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। পাশ করলে একটি সরকারি শংসাপত্র পাবেন। একমাত্র তখনই তাঁরা আল্ট্রাসোনোগ্রাফি চালিয়ে যাওয়ার বৈধতা পাবেন। প্রতি বছরই ওই পরীক্ষা নেওয়া হবে। আবার যে সব এমবিবিএস পাশ চিকিৎসক নতুন আলট্রাসোনোগ্রাফি শুরু করবেন, এ বার থেকে তাঁদের স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ মাসের একটি সার্টিফিকেট কোর্স করতে হবে। তার জন্য বাছাইয়ের ইন্টারভিউ হবে আগামী ১২ ও ১৩ জুন।

সাধারণ এমবিবিএস-দের আলট্রাসোনোগ্রাফি চালিয়ে যাওয়ার শংসাপত্র দিতে প্রথম পরীক্ষাটি হয়েছিল গত ৮ ফেব্রুয়ারি। ফল প্রকাশ হয়েছে তার ১৫ দিনের মধ্যে। ৭৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছেন ৭০ জন। তাঁদেরই অন্যতম শশী পাঁজা। দীর্ঘদিন দক্ষিণ কলকাতার এক ইনফার্টিলিটি সেন্টারে চিকিৎসক হিসেবে জড়িত। সেখানে বহুদিন ধরেই আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করেন তিনি। এখন অতটা সময় দিতে না-পারলেও যখনই ফাঁক পান, সেন্টারে চলে যান। স্বাস্থ্য দফতরের নতুন নিয়মে স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় তাঁর পাশ করা প্রয়োজন ছিল। অন্যথায় আইনত তিনি আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করতে পারবেন না। দেরি না করে ৮ ফেব্রুয়ারির প্রথম পরীক্ষাতেই বসে যান শশী। থিওরি পরীক্ষা দেন সল্টলেকে স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে, প্র্যাক্টিক্যাল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে।

রাজ্যের আর এক মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও মন্ত্রিত্ব সামলে পিএইচডি করেছিলেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। রাত জেগে পড়তেন তিনি। শশী পাঁজা কী ভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন?

শশী উত্তর দেন, ‘‘তেমন কিছু পড়তে পারিনি। তবে এত দিন ধরে কাজটা হাতেকলমে করছি, বিশেষ অসুবিধা হয়নি। রেজাল্ট বেরোনোর সময়ে স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তারা বললেন, ‘ম্যাডাম আপনার পরীক্ষা খুব ভাল হয়েছে। ভাল ভাবে পাশ করেছেন।’ নম্বর আলাদা করে এখনও জানতে পারিনি।’’

কিন্তু চিকিৎসকদের জন্য এই নতুন নিয়মে কি ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণে লাগাম টানা যাবে? শশীদেবীর কথায়, ‘‘একটা চেষ্টা তো হোক। একটা বেড়া অন্তত থাকুক। এই শংসাপত্র চালু হলে অন্তত রাম-শ্যাম যে কারও একটা ইউএসজি যন্ত্র কিনে বসে পড়াটা অনেকটা কমবে।’’ প্রসঙ্গত, তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারেরও এই পরীক্ষায় বসার কথা ছিল। আবেদন করেছিলেন। পরে ব্যক্তিগত কিছু সমস্যায় এ বারে বসেননি।

parijat bandyopadhyay shashi panja quallifying exam sex determination baby sex determination ultrasonography
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy