মেকআপ করার সময়ে সকলের মন নিজের সাজেই থাকে। কিন্তু মেকআপ প্রডাক্ট কেনা থেকে শুরু করে তার ব্যবহারবিধি ঠিক না জানলে রোগবালাই বাসা বাঁধতে পারে শরীরে। তাই মেকআপেও হাইজিন বজায় রাখা জরুরি।

 

কেনার সময়ে

লিপস্টিক, ব্লাশার, ফাউন্ডেশন... যে কোনও মেকআপ প্রডাক্ট কেনার সময়ে সিল্‌ড প্যাক কিনবেন। অনেক সময়ে দোকানে টেস্টার থেকেই অনেকে মেকআপ প্রয়োগ করে দেখেন, তাকে মানাচ্ছে কি না। খেয়াল রাখতে হবে, ওই টেস্টার কিন্তু আপনি ছাড়াও অনেকে ব্যবহার করেছে। ফলে যদি কারও স্কিন ডিজ়িজ় থাকে, তা ছড়ানোর প্রবণতা থাকে। তাই টেস্টারে ড্রপার থাকলে তা ব্যবহার করুন। অন্যথায় নিজের চোখেই ভরসা রাখা ভাল। 

 

হাত ধুয়ে মেকআপ

মেকআপ করার আগে হাত ধুয়ে নেবেন। এমনকি কোনও মেকআপ আর্টিস্টের কাছে সাজলেও তাঁকে হাত ধুয়ে নিয়ে বা হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার লাগিয়ে মেকআপ শুরু করতে বলুন। অনেকেরই ধূমপানের নেশা থাকে। আবার অনেকে মোবাইল ঘাঁটেন। সে ক্ষেত্রে আপনার ত্বক একাধিক ব্যাকটিরিয়ার সংস্পর্শে আসবে।

 

প্যালেট ব্যবহার করুন

সরাসরি লিপস্টিক বা ব্লাশার থেকে ব্রাশ দিয়ে মেকআপ অ্যাপ্লাই করে আবার সেই ব্রাশ প্রডাক্টে ডুবিয়ে ব্যবহার করা ঠিক নয়। তার চেয়ে বরং একটা আলাদা প্যালেট রাখুন। মেকআপ শুরুর আগে সেই প্যালেট স্যানিটাইজ় করে নিয়ে সেখানেই মেকআপ মেশান ও ব্যবহার করুন। মেকআপের বটলে বা কৌটোয় আঙুল ঢুকিয়ে প্রডাক্ট বার করবেন না। বরং প্যালেট নাইফ ব্যবহার করতে পারেন।

 

এক্সপায়ারি ডেট খেয়াল রাখুন

প্রত্যেক মেকআপ প্রডাক্টের এক্সপায়ারি ডেট থাকে। অনেকেই বছরের পর বছর একই লিপস্টিক ব্যবহার করে যান। বেশি পুরনো প্রডাক্ট ব্যবহার করলে তাতে ব্যাকটিরিয়া জন্মায় সহজে। ফলে তার থেকে অসুখ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই যে কোনও মেকআপ প্রডাক্ট যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্যবহার করে নেওয়াই ভাল। আর পুরনো হলে তা জমিয়ে না রেখে ফেলে দিন। প্রত্যেকটি প্রডাক্টের এক্সপায়ারি ডেটও মাথায় রাখবেন। সাধারণত ক্রিম বেসড প্রডাক্টের চেয়ে পাউডার বেসড প্রডাক্ট চলে বেশি দিন। খেয়াল রাখবেন, মাসকারা তিন থেকে ছ’মাস, ফাউন্ডেশন ও কনসিলার ছ’মাস থেকে এক বছর, পাউডার বেসড ব্লাশার, আইশ্যাডো আর লিপস্টিক দু’বছর এবং লিপ গ্লস এক বছর পর্যন্ত ভাল থাকে।

 

শেয়ার করবেন না

বিয়েবাড়ি বা অফিসে, কলেজে বন্ধুরা লিপস্টিক, কাজল শেয়ার করেই থাকে। মেকআপ হাইজিন মেনে চললে তা কিন্তু উচিত নয়। একান্তই শেয়ার করতে হলে বন্ধুকে দেওয়ার আগে মুছে আর ব্যবহারের পরে আবার মুছে রাখতে হবে। তবে শেয়ার না করলেই ভাল। বড় জোর অন্য প্যালেটে ফাউন্ডেশন, আইশ্যাডো বা ব্লাশার মিশিয়ে শেয়ার করতে পারেন। কিন্তু মেকআপের বটল বা টিউবে সরাসরি সকলের বডি কনট্যাক্ট হলে সংক্রমণের ভয় থাকে। মনে রাখবেন, এগজ়িমা, কনজাংক্টিভাইটিস ইত্যাদি অসুখ খুবই ছোঁয়াচে। এ ছাড়া ব্রণর সমস্যাও আছে। ফলে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মেকআপ প্রডাক্ট শেয়ার করার আগে সচেতন হওয়া জরুরি।

 

রাখবেন কোথায়

লিপস্টিক, কাজল ইত্যাদি মেকআপ প্রডাক্ট ফ্রিজে রাখতে পারেন। এতে ব্যাকটিরিয়ার গ্রোথ হয় না। লিপস্টিক ভালও থাকে দীর্ঘদিন। 

 

মেকআপ তুলতে হবে

কম-বেশি যেমনই মেকআপ করুন না কেন, রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে তা ভাল করে তুলে ফেলতে হবে। মেকআপ তুলে হাওয়ায় মুখ শুকিয়ে টোনার লাগিয়ে নিন।

 

পরিষ্কার করার পদ্ধতি

• মেকআপ ব্যাগ কাপড়ের হলে সাবানজলে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। অন্য কোনও মেটিরিয়ালের হলে ওয়াইপ দিয়ে ভাল করে মুছে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিন।

• মেকআপ ব্রাশ পরিষ্কার করার জন্য বাটিতে ঈষদুষ্ণ জল নিতে হবে। এর মধ্যে হালকা শ্যাম্পু গুলে নিন। অল্প আমন্ড অয়েল মেশান। এ বার মেকআপ ব্রাশগুলি এই জলে ডুবিয়ে রাখুন। মিনিট দশ-পনেরো পরে ব্রাশগুলি তুলে নিন। এতে ব্রাশের গায়ে লেগে থাকা মেকআপ আলগা হয়ে আসবে। এর পরে কল খুলে তার নীচে নিজের হাতের উল্টো দিকে ব্রাশ ঘষে মেকআপ তুলে নিন। পরিষ্কার তোয়ালেতে ব্রাশগুলি মুড়ে একটু অপেক্ষা করুন। জলটা শুষে নিলে হাওয়ায় ব্রাশ শুকিয়ে এয়ারটাইট প্যাকেটে ভরে রাখুন।

• টুইজ়ার এবং ল্যাশ কার্লারও ব্যবহারের পরে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। এই ধরনের জিনিসে ব্যাকটিরিয়া বাসা বাঁধলে কিন্তু চোখে ইনফেকশনের ভয় থাকে। হালকা সাবানজলে টুইজ়ার ও ল্যাশ কার্লার ডুবিয়ে পরিষ্কার করে নিতে পারেন। আইসোপ্রপাইল অ্যালকোহলও ব্যবহার করা যায়।

• মেকআপ পেনসিল, বিশেষত রঙিন কাজল বা লিপ ক্রেয়ন পরিষ্কার রাখতে তা শার্প করে নিতে পারেন। এতে উপরের স্তর পরিষ্কার হয়ে যাবে।

উৎসব, অনুষ্ঠান, অফিস... যেখানেই যান, সাজার সময়ে মাথায় রাখবেন হাইজিন।

মডেল: ডিম্পল আচার্য; ছবি: অমিত দাস; মেকআপ: উজ্জ্বল দত্ত

পোশাক: চান্দ্রি মুখোপাধ্যায়