প্রিয়জনের দিকে বাড়ানো ডান হাতে গোলাপ অথবা আংটি আর বাঁ হাঁটু মুড়ে বসে সঙ্গীর উত্তরের অধীর অপেক্ষায়— সিনেমা হোক বা বাস্তব, প্রেম প্রস্তাবের কথা ভাবলেই সবার আগে এমন ছবিই ভেসে ওঠে মনের আয়নায়। তবে সময় বদলেছে। ভালবাসা প্রকাশের ধরন বা বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার ভঙ্গি আগের চেয় পাল্টেছে। এ দিকে বাতাসে বসন্তের ছোঁয়া। চলছে প্রেমের সপ্তাহ। এরই মাঝে প্রিয়জনকে প্রেম বা বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভাবছেন? কী ভাবে প্রেমের প্রস্তাব দিলে ইতিবাচক উত্তর পাবেন, ভেবে পাচ্ছেন না? শিখে নিতে পারেন বলিপাড়ার নায়ক-নায়িকাদের থেকে।
রণবীর-আলিয়া
রণবীর কপূর এবং আলিয়া ভট্ট, দু’জনেই বেশ অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তারকা যুগল বলেছেন এক বিশেষ অরণ্যের প্রতি তাঁদের ভালবাসার কথা। আফ্রিকার সেই মাসাইমারা অরণ্যেই প্রেমিকা আলিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন রণবীর। সাজসজ্জার বাহার নেই, বাজির ঝলকানি নেই, কোনও রকম জাঁকজমক ছাড়া বনভূমির মাঝখানে রণবীর হাঁটু মুড়ে বসে আলিয়াকে জানান বাকি জীবনটা তিনি নায়িকার সঙ্গেই কাটাতে চান।
রণবীর-দীপিকা
প্রায় তিন বছর আগেই তাঁদের বাগ্দান সেরে ফেলেছিলেন তাঁরা। তবে গোটা দুনিয়ার কাছে খবরটি চাপা ছিল। সালটা ২০১৫। দীপিকা পাড়ুকোনকে নিয়ে মলদ্বীপে ছুটি কাটাতে যান রণবীর সিংহ। নায়ক আগে থেকেই ভেবে রেখেছিলেন, দীপিকাকে প্রেমপ্রস্তাব দিয়ে চমকে দেবেন। ভাবনা মতো দীপিকাকে নিয়ে স্যান্ড ব্যাঙ্ক অ্যাডভেঞ্চারের জন্য বেরিয়ে পড়েন রণবীর। বালুচর, চারিদিকে সমুদ্র— এমন পরিবেশেই দীপিকাকে মনের কথা বলেন তিনি। সঙ্গে হিরের আংটিও উপহার দেন নায়িকাকে।
সিদ্ধার্থ-কিয়ারা
আধুনিক মেয়ে হলেও কিয়ারা আডবাণী কিন্তু বিয়ের ব্যাপারে তাঁর বাবা-মায়ের সিদ্ধান্তকেই গুরুত্ব দিতে চেয়েছিলেন। তিনি সিদ্ধার্থ কপূরকে জানিয়েছিলেন বিয়ের ব্যাপারে সবার আগে তাঁরা বাবা-মাকে রাজি করাতে হবে। প্রেমিক সিদ্ধার্থ নায়িকার বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিয়ের অনুমতি পেয়ে কিয়ারাকে নিয়ে রোমে ছুটি কাটাতে যান। সেখানে এক বিলাসবহুল রেস্তরাঁয় হাঁটু মুড়ে কিয়ারাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। চারদিকে মোমের রোশনাই, তারই মাঝে ভায়োলিন বাজছে, মুহূর্তটা রিয়্যাল হলেও ছিল একেবারে রিলের মতো।
নিক-প্রিয়ঙ্কা
আংটির দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রিয়ঙ্কা চোপড়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেবেন বলে সেই দোকান খুলিয়ে আংটি কেনেন নিক জোনাস। গ্রিসে একসঙ্গে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন নিক-প্রিয়ঙ্কা। নায়িকা ভেবেছিলেন, জন্মদিন উপলক্ষেই সফরের পরিকল্পনা করছেন নিক। তবে হঠাৎ করেই হিরের আংটি হাতে নিয়ে নিক প্রিয়ঙ্কাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন। কিছু ক্ষণের জন্য একেবারে থতমত খেয়ে যান অভিনেত্রী। তবে নিকের এই কাণ্ডে বেশ খুশিই হয়েছিলেন অভিনেত্রী।
সইফ-করিনা
কোনও রকম বিশেষ পরিকল্পনা ছাড়াই করিনা কপূরকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন সইফ আলি খান। ‘টশন’ ছবির ‘ছলিয়া’ গানের শুটিং চলছিল তখন। এরই মাঝে হঠাৎ এক দিন করিনাকে সইফ বলেন, ‘‘আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই, এখানে একটা চার্চ আছে, চলো বিয়েটা এখানেই সেরে ফেলি।’’ সইফের মুখে এমন কথা শুনে কিছুটা অবাকই হয়েছিলেন নায়িকা। তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘‘তুমি কি পাগল হয়ে গিয়েছো?’’ সঙ্গে সঙ্গে হ্যাঁ না বললেও কিছু দিনের মধ্যেই সইফের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান করিনা।