বইয়ের সঙ্গে হোক বন্ধুত্ব। পড়ার ঘরের ছোট্ট পরিসরেই মন বসুক খুদের। সে জন্য পড়ার ঘরটা সাজাতে হবে সুন্দর করে। পড়ার টেবিল থেকে দেওয়ালের রং, সবেতেই থাকবে রুচির ছোঁয়া। তার জন্য দামি আসবাবের প্রয়োজন নেই, সাধারণ জিনিসেও ঘর সাজাতে পারেন। ঘরের পরিবেশটি হতে হবে রুচিশীল ও নান্দনিক। সে ক্ষেত্রে যতই আপনার নিজের পছন্দ থাকুক না কেন, খুদে সদস্যটির ইচ্ছেকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ঘরের অন্দরসজ্জা, তার জিনিসপত্র, দেওয়ালের রং— সব কিছুরই প্রভাব পড়ে শিশুর মনের উপরে।
শিশুর ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে প্রথমেই নজর দিতে হবে তার বয়সের উপর। খুদের বয়সের উপর ভিত্তি করে সাজান তার ঘর। আগে পড়ার টেবিলটি গুছিয়ে ফেলুন। কাঠের টেবিল হলে শুকনো কাপড় দিয়ে ধুলো ঝেড়ে ফেলুন। টেবিল যদি দেওয়াল ঘেঁষে হয়, তা হলে দেখবেন দেওয়ালেও যেন ঝুল না জমে। এ বার টেবিল, ড্রয়ারে যত অপ্রয়োজনীয় জিনিস আছে, সব একে একে সরিয়ে ফেলুন। এর পর বইগুলো গুছিয়ে রাখুন দেওয়ালের ধার ঘেঁষে। যদি কম্পিউটার থাকে, তা হলে টেবিলের একপাশে রেখে দিন। পেনগুলি টেবিলের উপর ছড়িয়ে রাখবেন না। পেন, পেন্সিল যা-ই থাকুক না কেন, সব পেনদানিতে গুছিয়ে রাখুন। তা হলে টেবিল অনেক পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি দেখতে লাগবে। যদি জায়গা কম থাকে, তা হলে টেবিলের উপরে দেওয়ালে তাক বানিয়ে নিন। সেখানে বইগুলি গুছিয়ে রাখুন। তাকে ছোট শো-পিসও রাখতে পারেন। দেখতে সুন্দর লাগবে। বই কিন্তু তাকেও অগোছালো ভাবে রাখবেন না। সমান মাপের বইগুলি পাশাপাশি রাখুন।
সবচেয়ে আগে শিশুর পড়ার টেবিল গুছিয়ে দিন। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
পড়ার টেবিলের আরও একটা আকর্ষণ হল আলোর ব্যবহার। টেবিলটি যে মাপের, সেই অনুযায়ী টেবিল ল্যাম্প কিনে নিন। ছোট টেবিলের উপরে লম্বা, বড় টেবিল ল্যাম্প দেখতে ভাল লাগে না।
পড়ার ঘরে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকা জরুরি। পড়ার টেবিলটি জানলার পাশে রাখুন। রাতে পড়ার জন্য ভালো মানের স্টাডি ল্যাম্প ব্যবহার করুন, যাতে বইয়ের পাতায় ছায়া না পড়ে।
আরও পড়ুন:
পড়ার ঘরের দেওয়ালের রঙ খুব চড়া (যেমন গাঢ় লাল বা উজ্জ্বল কমলা) না হওয়াই ভাল। হালকা সবুজ, আকাশি নীল বা ঘিয়ে রঙ একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে। সবুজ রং চোখের জন্য আরামদায়ক এবং মানসিক প্রশান্তি দেবে।
দেওয়ালের রং, ঘরে আলোর ব্যবহারও ঠিকমতো হতে হবে। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
পড়ার ঘরটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে নানা রকম গাছ দিয়ে সাজান। আসবাব কম রেখে, বরং ঘরের কোনায় ও পড়ার টেবিলে গাছ রাখুন। মানিপ্ল্যান্ট, জেড প্ল্যান্ট বা স্নেক প্ল্যান্ট দেখতে খুব ভাল লাগবে। যদি ফুলদানি থাকে, তা হলে তাজা ফুল এনে সাজিয়ে রাখুন। দেখতেও সুন্দর লাগবে, শিশুর সেখানে বসতেও ভাল লাগবে।
পড়ার মাঝে খিদে পেলে তার ব্যবস্থাও রাখুন। ছোট ছোট জারে ড্রাই ফ্রুটস রেখে দিতে পারেন টেবিলে। এতে যেমন খিদে মিটবে, তেমনই স্বাস্থ্যের দিকে নজরও রাখা হবে। ড্রাই ফ্রুটস খেলে শিশুর ভাজাভুজি খাওয়ার ইচ্ছা হবে না। টেবিলের পাশে ‘ওয়েস্ট পেপার বাস্কেট’ রাখুন। যে জিনিসের প্রয়োজন ফুরোবে সেটি কী ভাবে ফেলতে হবে তা শিখিয়ে দিন খুদেকে। তা হলে ছোট থেকেই পরিচ্ছন্ন থাকার ও চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস তৈরি হয়ে যাবে।