সদ্য চাকরি পেয়েছেন অনন্যা নন্দ। সরকারি কলেজে অধ্যাপনার পাকা চাকরি, মাসমাইনে ভালই। কিন্তু তবুও মাসের শেষে খালি হয়ে যাচ্ছে হাত। কোনও কোনও মাসের শেষে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা বাতিল করতে হচ্ছে কোনও অজুহাত দিয়ে।

শহরের এক নামজাদা বেসরকারি সংস্থায় অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত অলোক বিশ্বাসের সমস্যাও অনেকটা একই।  ছেলের স্কুলের মাইনে, সংসারের যাবতীয় খরচ করার পরে মাসের মাঝখানেই পকেট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। কিছুতেই যেন কুলিয়ে ওঠা যাচ্ছে না।

শুধু অনন্যা বা অলোকবাবু নন। এই সমস্যা হাতেগোনা কয়েক জন ছাড়া আমাদের প্রত্যেকেরই। বিশেষজ্ঞরা কিন্তু বলেছেন ভুল অন্যত্র। লক্ষ টাকা রোজগার করেও শান্তিতে থাকা যাবে না, ‘ভুলটি’ চিহ্নিত করতে না পারলে। কোথায় ওই হাতেগোণা লোকগুলি আলাদা? আর্থিক পরামর্শদাতাদের সাফ উত্তর, পার্থক্যটা টাকার অঙ্কে নয়, পরিকল্পনার দক্ষতায়।

আরও পড়ুন: কিছুতেই ভুঁড়ি কমছে না? এই সব নিয়ম মেনে চললেই বাজিমাত

পরিকল্পনার দক্ষতায় লগ্নি বাড়ান।

তা হলে কী ভাবে এই দিশাহীনতা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে? রইল পরামর্শ।

লক্ষ্য স্থির করুন: প্রথম থেকেই একটি লক্ষ্য তৈরি  করা উচিত। নিজের অর্জিত টাকা নিয়ে মজা করুন। কিন্তু, তার পাশাপাশি একটি ‘ফিনান্সিয়াল গোল’ অবশ্যই তৈরি করুন। এর ফলে, সঞ্চয়সঢ্চয় লগ্নির ঠিক দিশায় থাকে।

‘এমারজেন্সি ফান্ড’ তৈরি করা: সঞ্চয় ও  লগ্নির পাশাপাশি একটি এমন ফান্ড রাখুন, হঠাৎ প্রয়োজন হলে যেখান থেকে টাকা খরচ করতে পারবেন। এই কাজ করেন না বেশির ভাগ মানুষ।

ইনসিওরেন্স করা: প্রথম জীবনেই যদি অন্তত দু’-একটা ইনসিওরেন্স করা যায়, তা হলে পরবর্তী কালে গিয়ে অসুবিধা হয় না। কিন্তু, এই ব্যাপারটি নিয়ে অনেকেই সে ভাবে ভাবেন না।

আরও পড়ুন: সারাদিন মন খাই খাই করে? অজান্তেই এই রোগের শিকার হননি তো?

 দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

এমন ফান্ড রাখুন, প্রয়োজন হলে যেখান থেকে টাকা খরচ করতে পারবেন।

অবসরের পরের কথা ভাবুন এখনই: প্রথম জীবনে প্রায় প্রত্যেকেই ভাবেন, ‘বুড়ো বয়সের জন্য সময় আছে তো’। কিন্তু, সময় কখন বয়ে যায় তা ভাবতেও পারবেন না।

লোন বা ক্রেডিটের হিসেব রাখুন: কোথাও থেকে লোন নেওয়ার আগে অবশ্যই সব রকম তথ্য জেনে নিন। কেনাকাটার ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু সময় মতো লোন শোধ করার আর্থিক সক্ষমতা থাকলে তবেই কিনুন। নিজেকে মাত্রায় বাঁধুন।

আগাম পরিকল্পনা: ফুর্তির আড়বহর নিজেই ঠিক করুন। তার বাজেট মাসের শুরুতেই আলাদা রাখুন। আপনার রোজের খরচে হাত দেবেন না। উইকেন্ড প্ল্যানের জন্যে ইমার্জেন্সি ফান্ড নষ্ট করবেন না। প্রয়োজনে পরিকল্পনা বদলান। বাইরে খাওয়ার পরিকল্পনা কাটিয়ে ঘরেই আয়োজন করা যেতে পারে মাসের শেষ সপ্তাহটায়। অ্যাপ ক্যাব নেওয়ার চেয়ে সাধারণ বাস,ট্রেন, মেট্রোতে ভরসা রাখুন।