Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২১ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

লাইফস্টাইল

Bizarre Wedding Rituals: বরের পায়ে মাছের আঘাত থেকে কনেকে অপহরণ, বিয়ের নিয়ম এমনও হয়

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ৩০ নভেম্বর ২০২১ ১৬:৫৮
বিয়ে মানেই নানা রকম আচার-অনুষ্ঠান। জমিয়ে আনন্দ করার নানা ফিকির। তবে দেশ-বিদেশ এই ফিকিরগুলিই হয়ে ওঠে বেজায় অদ্ভুত।

স্তনে থুথু, কেনিয়া: কেনিয়ার মাসাই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিয়ের এই আচার অবিচ্ছেদ্য। মেয়ের বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার আগে মেয়ের বাবা তাঁর মাথায় এবং স্তনে থুথু ফেলেন। শুনতে অপমানজনক মনে হলেও মাসাই সম্প্রদায়ের মধ্যে আচারটি অতি স্বাভাবিক। কারণ থুথু সেখানে সৌভাগ্যের প্রতীক।
Advertisement
পায়ে মারা, দক্ষিণ কোরিয়া: এ দেশে বিয়ের পর বউ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার আগে বরকে ধরে পায়ে লাঠি দিয়ে মারা হয়। অনেক সময়ে সেটা পচা শুকনো মাছ দিয়েও মারা হয়। তবে শুনতে যতটা শাস্তির মতো মনে হচ্ছে, ততটা নয়। নিছক মজার ছলে কিছু ক্ষণের জন্য চলে এই আচার।

কান্নার ঢল, চিন: বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময়ে মেয়েদের কান্নাকাটি করতে দেখার অভ্যাস রয়েছে আমাদের। কিন্তু চিনে কান্নাকাটি শুরু হয় অনেক আগে থেকেই। বিয়ের এক মাস আগে থেকে কনে রোজ এক ঘণ্টা করে কাঁদে। দশ দিন আগে থেকে মেয়ের সঙ্গে মেয়ের মা এবং পরিবারের অন্য মহিলা সদস্যরাও যোগ দেন।
Advertisement
কালি মাখানো, স্কটল্যান্ড: এমন অদ্ভুত নিয়ম কী ভাবে শুরু হল তা ঠিক জানা নেই। কিন্তু স্কটল্যান্ডের কিছু অংশে বর কনেকে বিয়ের আগের দিন কালি মাখানোর রীতি রয়েছে। পাখির পালক, আলকাতরা, ছাই এবং ময়দা গুলে তাঁদের গায়ে মাখিয়ে রাস্তা দিয়ে ঘোরানো হয় দু’জনকে।

থালা-বাটি ভাঙা, জার্মানি: এ দেশে বিয়ের আগে যেন বর কনেকে শাস্তি দেওয়া হয়! আত্মীয়রা জড় হয়ে চিনেমাটির বাসন ছুড়ে ভেঙে ফেলেন। সেই আবর্জনা পরিষ্কার করার দায়িত্ব পড়ে বর-কনের উপর। সংসার কতটা সামলাতে পারবেন তাঁরা, তা পরখ করার জন্য এই আচার।

এঁঠো খাওয়া, ফ্রান্স: বিয়ের পর অতিথিরা বর কনেকে একটি বাথরুমের মগের মতো পাত্র উপহার দেন। বিয়ের খাওয়া-দাওয়ার পর যার পাতে যা খাবার এবং যার গ্লাসে যা পানীয় বেঁচে থাকে, তা সব মিশিয়ে এই পাত্রে দেওয়া হয় বর-কনেকে। এই রীতির মূল লক্ষ্য বিয়ের রাতের জন্য স্ফূর্তি সঞ্চয় করা।

শৌচালয় নিষিদ্ধ, ইন্দোনেশিয়া: ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়শিয়ার বর্নেয়ো সম্প্রদায়ে এই নিয়ম রয়েছে। বিয়ের পর তিন দিন পর্যন্ত বর-কনেকে ঘর থেকে বেরোতে দেওয়া হয় না। এমনকি, বাথরুমেও যেতে নিষেধ করা হয়। খুব কড়া নজরদারিতে রাখা হয় দু’জনকে। নিয়ম ভাঙলে নাকি বিয়ে ভাঙা বা সন্তানের মৃত্যুর মতো দুর্ভাগ্যজনক কোনও ঘটনা ঘটতে পারে।

গণচুম্বন, সুইডেন: এ দেশে বিয়ের পর বরকে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হয়। অতিথিরা সকলেই তারপর কনেকে চুমু খেতে পারেন। অনেক জায়গায় ছেলেদেরও এমন ‘সৌভাগ্য’ হয়। অন্য মহিলা অতিথিরাও বরকে চুমু খাওয়ার সুযোগ ছাড়েন না।

কনে অপহরণ, কাজাখস্তান: কিরগিস্তান এবং কাজাখস্তানের বিয়ের এই আচার আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। যাঁকে বিয়ে করতে চান, তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে তিন দিন রাখতে পারলেই সেই মেয়েকে বিবাহিত বলে ঘোষণা করা হয়। তবে তাঁকে গলায় এক বিশেষ স্কার্ফ পরে বোঝাতে হবে যে তিনি বিবাহিত। এই আচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছে বহু বছর ধরেই। কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নারী-নির্যাতনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে এই আচার।

কনেকে তির মারা, চিন: চিনের এক সম্প্রদায়ের মধ্যে এই নির্মম নিয়ম আছে। বর কনেকে তিন বার একটা ভোঁতা তির মারবে। তার পর সেগুলি ভেঙে ফেলতে হবে এমন ভাবে যাতে কনের না লাগে। তির যতই ভোঁতা হোক, মারলে, লাগবে তো বটেই।