Advertisement
E-Paper

ক্যাফেপ্রেমীরা বেছে নিচ্ছেন নতুন ধরনের জাপানি চা ‘হোজিচা’! মাচার এই তুতো ভাইটি কেমন?

স্বাস্থ্যসচেতনদের দুনিয়ায় জোর খবর, ট্রেন্ডিং চা হিসাবে মাচাকে এখন জোর টক্কর দিচ্ছে হোজিচা। দুধ আর সামান্য মিষ্টি মেশানো ‘হোজিচা লাটে’ ক্যাফেগুলোতেও পাওয়া যাচ্ছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৩৬

ছবি: সংগৃহীত।

চা প্রেমীরা হঠাৎ করেই মেতেছিলেন মাচা-য়। স্বাস্থ্যকর জোরালো গন্ধ আর একটু অন্য রকম স্বাদের ঘন সবুজ রঙের চা স্বাস্থ্য সচেতন এবং ক্যাফেগামীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠে ছিল বিগত কয়েক বছরে। মাচা খেতে পারুন বা না পারুন মাচার সঙ্গে ছবি তুলে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন অনেকেই। জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়েছিল যে, কুকি থেকে কুলফি হয়ে প্যাঁড়া, বরফি, মতিচুর এমনকি পায়েসও তৈরি হচ্ছিল। মাচা ফ্লেভারে নাম দেওয়া হচ্ছিল ক্ষীর-মাচা! সেখান থেকে আচমকাই মাচার খ্যাতিতে ভাগ বসাতে এল আরও এক চা। হোজিচা।

স্বাস্থ্যসচেতনদের দুনিয়ায় জোর খবর, ট্রেন্ডিং চা হিসাবে মাচাকে এখন জোর টক্কর দিচ্ছে হোজিচা। দুধ আর সামান্য মিষ্টি মেশানো ‘হোজিচা লাটে’ ক্যাফেগুলোতেও পাওয়া যাচ্ছে।। যাকে মাচারই তুতো ভাই বলা চলে। কারণ, দু’টিই স্বাস্থ্যকর গ্রিনটি-র প্রকারভেদ। শুধু তাই নয়, মাচা যেমন চিন এবং জাপানের মিলিত সংস্কৃতির ফসল, তেমনই হোজিচা-ও জাপানের প্রিয় পানীয়।

তবে মাচার সঙ্গে এর কিছু তফাতও রয়েছে। মাচার স্বাদে এক রকমের তেঁতো ভাব রয়েছে। হোজিচার গন্ধ মাটির মতো সোঁদা আর স্বাদেও মাচার থেকে ভাল বলে মত চা-প্রেমীদের। আর তাই এটিই এখন তাঁদের নতুন পছন্দ।

Advertisement

হোজিচা কী?

হোজিচা মূলত জাপানি ‘সেনচা’ বা ‘বানচা’ চা পাতাকে উচ্চ তাপমাত্রায় রোস্ট করে বা সেঁকে তৈরি করা হয়। যেখানে সাধারণ গ্রিন টি-কে বাষ্পায়িত করা হয়, সেখানে হোজিচাকে চিনামাটির পাত্রে কয়লার আগুনে বাদামি রঙ না হওয়া পর্যন্ত সেঁকা হয়। ওই প্রক্রিয়ায় চায়ের পাতার ক্লোরোফিল নষ্ট হয়ে তামাটে বা বাদামি রঙ হয়ে যায়।

হোজিচার উপকারিতা

মানসিক শান্তি: এতে থাকা ‘এল-থিয়ানিন’ নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড মানসিক চাপ কমাতে এবং মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে।

হজমশক্তি বৃদ্ধি: জাপানে ভারী খাবারের পর হোজিচা খাওয়ার প্রচলন আছে। এটি মেটাবলিজম বৃদ্ধিতে এবং হজমে সহায়তা করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যাটাসিনের মতো অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে, যা কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি-র‍্যাডিক্যালের হাত থেকে বাঁচায় এবং বার্ধক্য রোধে সাহায্য করে।

হার্টের সুরক্ষা: নিয়মিত হোজিচা পান করলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে। রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতেও সাহায্য করে।

ভিটামিন সি: রোস্ট করার পরেও হোজিচায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে, যা ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

মাচা বনাম হোজিচা

১. কম ক্যাফিন

মাচা তৈরি হয় সরাসরি গুঁড়ো করা পাতা থেকে। তাই এতে ক্যাফিনের পরিমাণ বেশি থাকে। অন্য দিকে, হোজিচা তৈরির সময়ে চা পাতা একটু বেশি তাপে রোস্ট করা হয় বলে ক্যাফিনের মাত্রা অনেকটা কমে যায়। ফলে যাঁরা ক্যাফিন সহ্য করতে পারেন না বা মাইগ্রেন এবং অন্যান্য রোগের কারণে ক্যাফিন নিয়ন্ত্রণ করেন অথবা রাতে ঘুমোনোর আগে চা খেতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য হোজিচা আদর্শ। এমনকি, শিশু এবং বয়স্করাও অনায়াসে পান করতে পারেন এই চা। হোজিচার স্বাদে এক রকমের আরামদায়ক ভাব রয়েছে। যারা গ্রিন টি-র উপকারিতা পেতে চান কিন্তু তিতকুটে স্বাদের কারণে খেতে পারেন না, তাদের জন্য হোজিচা সেরা বিকল্প হতে পারে।

২. স্বাদ

মাচা কিছুটা তেতো বা কষাটে স্বাদের হয়, যা সবার ভাল নাও লাগতে পারে। হোজিচার স্বাদ অত্যন্ত মৃদু, মিষ্টি এবং এতে বাদামের মতো একটি ফ্লেভার পাওয়া যায়। কষাটে ভাব নেই বললেই চলে।

৩. হজমের সমস্যা

অনেক সময় খালি পেটে মাচা খেলে অ্যাসিডিটি বা অস্বস্তি হতে পারে। হোজিচা ‘লো-অ্যাসিডিক’, তাই হজম করতে অসুবিধা হয় না।

green tea Matcha Tea
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy