সাবধান হতে হবে এখনই। না হলে প্রাণ যাবে কয়েক লক্ষ ভারতবাসীর। এমনটাই জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’। প্রতি বছরের মতো এই বছরও ‘থ্রেট লিস্ট’ প্রকাশ করেছে হু। সেখানেই ভারতের সাতটি আশু বিপদকে চিহ্নিত করছে তারা। তাঁদের মতে এই অসুখগুলিই আগামী দিনে প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে ভারতে।

কিছু ভয়াল অসুখ, যাদের বাড়বাড়ন্ত আগামী কয়েক দশক ধরেই ভারতে বাড়ছে, তাদের অনেকেই এই থ্রেট লিস্টে জায়গা করে নিল। 'হু' এর মতে এক্ষুনি সতর্কতা অবলম্বন না করলে ভারতীয়দের প্রাণ কাড়বে এরা।

এর মধ্যে কিছু ব্যাকটিরিয়াঘটিত সংক্রমণ যেমন আছে, তেমনই কিছু লাইফস্টাইল ডিজিজও জায়গা করে নিয়েছে। তাই সাবধান হতে হবে এখন থেকেই। কিছু অসুখকে এড়াতে নিতে হবে সাবধানী ব্যবস্থাও। জানেন কি, কোন কোন অসুখের খাঁড়া ঝুলছে আপনার শিয়রে?

আরও পড়ুন: জিন্সের পকেটে কেন থাকে একটা ছোট বোতাম, কেনই বা নীল হল এর রং, জানেন?

মাঝে মাঝেই দেখে নিন রক্তে শর্করার মাত্রা।

ডায়াবিটিস

ভারতকে ইতিমধ্যেই ডায়াবিটিসের রাজধানী বলে চিহ্নিত করেছে বিশ্বের তাবড় চিকিৎসকমহল। প্রায় ৬কোটি ২০ লক্ষলোক এই রোগের শিকার। ঘন ঘন নাইট শিফ্‌ট, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, খাওয়াদাওয়ায় অনিয়ম ইত্যাদিকেই এই অসুখের কারণ বলে জানাচ্ছে তারা।

ক্যানসার

শুধুমাত্র ২০১৮ সালেই ৬ লক্ষ ৭০ হাজার লোককে ক্যানসারের কারণে কেমোথেরাপির দ্বারস্থ হতে হয়েছে ভারতে বলে জানাচ্ছে ক্যানসার সংক্রান্ত পত্রিকা ল্যানস্টেট। এই রোগে ভারতে ৭ লক্ষেরও বেশি লোক মারা গিয়েছেন গত বছর, জানাচ্ছে খোদ ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের রিপোর্ট। কাজেই ‘হু’ এর মাথাব্যথার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তাই এই অসুখকে সবচেয়ে বেশি চিন্তার তালিকায় রেখেছে ‘হু’।

দূষণ

সকলেই জানে দূষণে বিশ্বের অন্যতম প্রধান শহর হিসেবে নাম লিখিয়েছে দিল্লি। খুব পিছিয়ে নেই কলকাতাও।  ‘হু’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে নোংরা ২০ টা শহরের মধ্যে ১৩টাই ভারতে।  তাই দূষণজনিত অসুখকেও পিছিয়ে রাখছে না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

আরও পড়ুন: মারাত্মক ক্ষতি করে হেয়ার ড্রায়ার, তাই চুল শুকোতে আস্থা রাখুন এ সব উপায়ে

ঘন ঘন জ্বর, সঙ্গে গা-হাত-পায়ে ব্যথা হলে অবহেলা নয়।

ইনফ্লুয়েঞ্জা

ইনফ্লুয়েঞ্জার ব্যাপারে রীতিমতো সতর্কবার্তা দিচ্ছে হু। সংস্থার মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সারা পৃথিবীতে যখন তখন মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে ইনফ্লুয়েঞ্জা। অতীতে সোয়াইন ফ্লু-এর মতো রোগ প্রাণ নিয়েছে ভারতে। কাজেই এক্ষেত্রেও প্রমাদ গুণছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা।

ডেঙ্গি

 খুব সঙ্গত কারণেই ভারতের ক্ষেত্রে ডেঙ্গিকে আলাদা করে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে হু। কারণ ২০১৮ সালের নভেম্বরের মধ্যে প্রায় ১৪৪ জন মারা গিয়েছে এই রোগে। প্রায় ৯০ হাজার জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে ২০১৮-তে। ভারতে মশাবাহিত রোগগুলি নিয়ে সচেতনতার অভাব ও মশা রোখার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নিতে পারাকেই দায়ী করছে হু।

এইচআইভি

প্রায় ২১ লক্ষ ভারতীয় আজ এইচআইভি আক্রান্ত। সুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক স্থাপনে জনগণের অনীহা, যৌন পাঠ সম্পর্কে অজ্ঞতা ও যৌনতা নিয়ে নানা ভুল ধারণাই এই অসুখকে ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছে ‘হু’।

ব্যাকটিরিয়াল সংক্রমণ

বেশ কয়েকটি ব্যাকটিরিয়াল ইনফেকশনের ভয় রয়েছে ভারতে । বদলে যাওয়া আবহাওয়া, দূষণ আর অ্যান্টিবায়োটিকের ভুল ও যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন সংক্রমণকে আগের সফল ওষুধেও বাগে আনতে পারছেন না চিকিৎসকরা। ‘হু’-এর দাবি এই বিষয়গুলিতে এক্ষুনি সতর্কতা অবলম্বন না করলে বড় রকমের মাশুল দিতে হবে ভারতীয়দের।