ডাল, ভাত, তরকারি, খিচুড়ি, নানাবিধ সব্জি— এক কালে প্রেশার কুকারে সব উপকরণ মিশিয়ে রান্না চাপিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত হতেন রাঁধুনীরা। সবই হত এই এক কুকারে। কষানোর ঝামেলা নেই, চটজলদি চাপে রান্না হয়ে যায়। এক সময় প্রায় সব বাঙালি বাড়িতেই প্রেশার কুকার ছিল রান্নাঘরের সবচেয়ে ভরসার জিনিস। কিন্তু সময় এগোচ্ছে, রান্নার ধরন বদলাচ্ছে, বার বার সিটির দিকে মন দেওয়ার সময়টুকুও আর নেই, গ্যাস বন্ধ করার পর অনির্দিষ্ট কালের জন্য ঢাকনা খোলার অপেক্ষাও এখন ঝক্কির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অন্য মানুষের জীবন সহজ করে তোলার জন্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে দৈনন্দিন যাপনের সহায়ক জিনিসপত্র আবিষ্কার হয়েই চলেছে। আর সাবেক প্রেশার কুকারের জায়গায় এখন স্মার্ট কুকার চলে এসেছে। ঠিক যে ভাবে ফোনের বদলে স্মার্টফোন, ঘড়ির বদলে স্মার্টওয়াচ, টেলিভিশনের বদলে স্মার্ট টিভি— একই ভাবে হেঁশেলের বাসনকোসনের শব্দের আগেও ‘স্মার্ট’ বসা শুরু হয়েছে। এখন অনেক পরিবারই প্রেশার কুকারের বদলে নতুন ধরনের রান্নার যন্ত্র ব্যবহার করতে শুরু করেছে।
সাবেক কুকারের থেকে কোন কোন ক্ষেত্রে আলাদা? ছবি: সংগৃহীত।
প্রেশার কুকার চালাতে হলে সব সময় বাড়তি সতর্কতার দরকার হয়। ঢাকনা ঠিক আছে কি না, চাপ ঠিকঠাক হচ্ছে কি না, ক’টা সিটি পড়ল, শিশু ও পোষ্যদের কুকারের কাছ থেকে দূরে রাখা, প্রেশার কুকার যাতে ফেটে না যায়, তার জন্য বিশেষ সাবধানতা— এই সব নিয়েই রান্না হয় রোজ রোজ। অনেকের মনেই দুশ্চিন্তা কাজ করে। বিশেষ করে নতুন যাঁরা রান্না শেখেন বা যেখানে বাড়িতে একা বয়স্ক মানুষ থাকেন, সেখানে এই যন্ত্র আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেই দুশ্চিন্তায় ইতি টানতেই স্মার্ট কুকারের আবিষ্কার।
স্মার্ট কুকারে কী কী সুবিধা মিলবে?
১. নতুন প্রজন্মের রান্নার যন্ত্রগুলি জায়গা করে নিচ্ছে বাঙালির হেঁশেলেও। এগুলির মধ্যে এমন ব্যবস্থা থাকে, যাতে চাপ আর তাপ নিজে থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়। কোনও সমস্যা হলে যন্ত্র নিজেই থেমে যায়। ফলে রান্নার সময়ে আলাদা করে দাঁড়িয়ে নজর রাখতে হয় না।
২. এই যন্ত্রগুলি ব্যবহার করাও তুলনামূলক ভাবে সহজ। শুধু প্রয়োজনীয় উপকরণ ঢেলে নির্দিষ্ট বোতাম টিপলেই রান্না শুরু হয়ে যায়। রান্না চলাকালীন অন্য কাজ করা যায়, রান্নাঘরে সারা ক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার দরকার পড়ে না। নিজের প্রয়োজন মতো সময় নির্ধারণ করে দিয়ে নিজের কাজে মন দিতে পারেন।
৩. একই সঙ্গে নানা ধরনের রান্না করা যাবে এই স্মার্ট কুকারে। প্রেশার কুকারে যা যা রান্না করার অভ্যাস, সেগুলি তো করাই যাবে, উপরন্তু সতে করা যাবে, স্লো কুকার হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। ভাপিয়ে রান্না করার পাশাপাশি রাইস কুকার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। কেউ এতে স্যুপ বানান, কেউ আবার দই পাতেন। কেবল খাবার গরম করার জন্যেও এটি কাজে লাগাতে পারেন।
৪. ভিতরের রান্নার পাত্রটি স্টেনলেস স্টিল দিয়ে তৈরি। যা টেকসই এবং নিরাপদ। এখানে উচ্চস্বরে সিটি বাজারও ভয় নেই। নীরবে ও নিরাপদে রান্না হয়ে যাবে।
স্মার্ট প্রেশার কুকার কোথায় পাওয়া যাবে, দাম কত?
ভারতে বলুন, বা কলকাতায়, বড় দোকান হোক বা অনলাইনে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে এই ধরনের কুকার। উচ্চমানের স্মার্ট কুকার পাওয়া যাবে ৮০০০-১০,০০০ টাকার মতো। তবে তার থেকেও দামি এবং আরও কিছু সুবিধা চাইলে বাজেট খানিক বাড়িয়ে দিতে হবে।
তবে প্রেশার কুকার একেবারে হারিয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। এখনও অনেক বাড়িতে এটি ব্যবহার হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে তার জায়গা দখল করছে এমন যন্ত্র, যেগুলি চালানো সহজ, ঝুঁকি কম আর সময় বাঁচায়।