• আরুণি মুখোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

রোজগার হোক ইউটিউবেই

মন্দার বাজারে ইউটিউব কিন্তু বিকল্প রোজগারের পথ। কাজ শুরুর আগে বিশদে জেনে নিন

video

টানা লকডাউনে সারা দেশে এখন মন্দার পরিস্থিতি। পেশাদার মডেল থেকে বহুজাতিক সংস্থার চাকুরে— কর্মহীন বহু মানুষ। প্রত্যেক দিন পরিস্থিতি হয়ে উঠছে জটিল থেকে জটিলতর। যদিও মানুষের খরচ তো কমছে না! এই পরিস্থিতিতে ইউটিউব হয়ে উঠতে পারে বাড়তি আয়ের দিশা। 

আলোচনার শুরুতেই যে প্রশ্নটা আসবে, সেটি হল, ইউটিউবারদের রোজগার হয় কী ভাবে? অনেকের ধারণা রয়েছে যে, চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা বাড়লেই বোধহয় ইউটিউবের তরফ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা জমা পড়বে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। বিষয়টা একেবারেই তা নয়। এমনকি, আপনার পোস্ট করা ভিডিয়োয় কত সংখ্যক ‘ভিউজ়’ হল, প্রত্যক্ষ ভাবে তার উপরেও আপনার রোজগার নির্ভর করে না। বরং আপনার পোস্ট করা ভিডিয়োয় বিজ্ঞাপন আসছে কি না, সেটাই মোদ্দা কথা। 

• ইউটিউবে মোটামুটি চার রকমের বিজ্ঞাপন দেখা যায়। স্কিপেব্‌ল ও নন-স্কিপেব্‌ল অ্যাড, ব্যানার অ্যাড এবং ডিসপ্লে অ্যাড। এই প্রতিটি ধরনের বিজ্ঞাপনের দরও বিভিন্ন রকম। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে বিজ্ঞাপনের দরও আলাদা। 

• এর মধ্যে নন-স্কিপেব্‌ল বিজ্ঞাপনের দরই সবচেয়ে বেশি। উদাহরণ হিসেবে, নতুন ইউটিউবার হিসেবে ভিডিয়োয় ১০ লক্ষের কাছাকাছি ‘ভিউজ়’ পেলে আপনি বিজ্ঞাপন থেকে পাঁচ-ছ’হাজার টাকা রোজগার করতে পারবেন। তবে পুরো বিষয়টাই কিন্তু আপেক্ষিক। কোন সংস্থা এবং কোন দেশের সংস্থা বিজ্ঞাপন দিচ্ছে ও ইউটিউবে আপনার জনপ্রিয়তা কতটা— এগুলির উপরেই পুরো বিষয়টা নির্ভরশীল।  

• ইউটিউবাররা মূলত দু’ভাবে রোজগার করে থাকেন। এক, চ্যানেলে পোস্ট করা ভিডিয়োয় বিজ্ঞাপনের কমিশন থেকে আসা অঙ্ক। দ্বিতীয়ত, পেড-প্রোমোশন। অনেক সময়ে, কোনও কোনও ব্র্যান্ড তাদের প্রডাক্টকে আরও বেশি জনপ্রিয় করে তোলার জন্য ‘সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার’দের খোঁজ করে। বলা বাহুল্য, এ ক্ষেত্রে তারা অনেক সময়েই বেছে নেন ইউটিউবারদের। সে ক্ষেত্রে সংস্থার তরফে ইউটিউবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তাদের প্রডাক্টের প্রচার করতে বলা হয়। এর বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি অঙ্কের টাকা পান ইউটিউবাররা। কিন্তু সেই টাকার অঙ্কটা কত, তা নির্ভর করে ইউটিউবারের জনপ্রিয়তা ও তাঁর ভিডিয়োয় ‘ভিউজ়’ কত তার উপরে।

• যাঁরা ইউটিউবে নতুন চ্যানেল খোলার কথা ভাবছেন, তাঁরা প্রথমেই ‘টার্গেট অডিয়েন্স’ ঠিক করে নিন। এ ক্ষেত্রে, ভিডিয়োয় ইংরেজিতে কথা বললে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের মানুষের কাছে আপনার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হবে এবং সেই অনুসারে বিজ্ঞাপনও পেয়ে যাবেন। প্রসঙ্গত, আপনার তৈরি ভিডিয়োটি যদি ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার মতো এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষ বেশি দেখেন, তা হলে আপনি বিজ্ঞাপনের এক রকম দর পাবেন। আবার আপনার সেই ভিডিয়োটিই যদি আমেরিকা, কানাডা কিংবা ইউরোপের মানুষ বেশি দেখেন, তা হলে বিজ্ঞাপনের দর আলাদা হবে। তাই চেষ্টা করুন, ইংরেজিতেই ভিডিয়ো করার। আরও বেশি বিজ্ঞাপন পেতে গেলে আপনাকে ইউটিউবে আবেদন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে শর্ত হল, চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা অন্তত এক হাজার হতে হবে এবং আপনার পোস্ট করা ভিডিয়োগুলির মোট ‘ভিউড আওয়ার্স’ অন্তত চার হাজার ঘণ্টা হতে হবে। 

• তবে শুধু রোজগারের উদ্দেশ্যেই যদি ইউটিউবে ভিডিয়ো আপলোড করেন, তা হলে জোর দিতে হবে ভিডিয়োর বিষয়ের উপরে। তাই এমন কোনও বিষয়-কেন্দ্রিক চ্যানেল খুলতে পারেন, যেটা ব্যক্তিগত জীবনে আপনি করতে ভালবাসেন। ধরা যাক, আপনি ভাল রান্না করতে পারেন কিংবা বেড়াতে ভালবাসেন— সে ক্ষেত্রে আপনি ভিডিয়ো কিংবা ব্লগ বানিয়ে পোস্ট করতে পারেন। 

• এই প্রসঙ্গে নতুন ইউটিউবার পৌষালী দাশগুপ্ত বলছিলেন, ‘‘দর্শক বোকা নন, এটা মাথায় রেখেই ভিডিয়ো বানাতে হবে। পাশাপাশি জোর দিতে হবে ভিডিয়োর কনটেন্টের উপরে। ভিডিয়োর কনটেন্ট ভাল হলে, ডিসপ্লে-কোয়ালিটি কিছুটা খারাপ হলেও দর্শক আপনার ভিডিয়ো দেখবেন।’’ তাই চ্যানেল শুরু সময় থেকেই ঠিক করে নিন, আপনি প্রাথমিক ভাবে কোন ‘থিম’-এর উপর ভিডিয়ো পোস্ট করতে চান। সেই মতো চ্যানেল সেট-আপ করুন। প্রথমে যদি মোটা টাকা শুটিং গ্যাজেটের পিছনে ব্যয় করতে না চান, তা হলে স্মার্টফোন দিয়েই কাজ শুরু করে দিন। খেয়াল রাখুন, অডিয়ো যেন পরিষ্কার আসে। 

• যেখানেই ভিডিয়ো শুট করুন না কেন, জায়গাটি যেন ছিমছাম এবং সুন্দর হয়। পাশাপাশি জায়গাটিতে যথেষ্ট আলো রয়েছে কি না, সেটাও দেখে নিন। প্রয়োজনে রিফ্লেক্টর কিনে নিতে পারেন। যদি একটু বেশি ভাল ভিডিয়ো করতে চান, সে ক্ষেত্রে ফোর-কে রেজ়লিউশনের ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারেন। তার সঙ্গে কোনও ভাল ব্র্যান্ডের ল্যাপেল লাগিয়ে নিন। ইউটিউবার হিসেবে রোজগার বাড়লে, নয়েজ-ফ্রি সাউন্ড ক্যাচার কিনে নেবেন। ভিডিয়ো তৈরির পর এডিটিং খুব জরুরি। তাই নিজে না পারলে পেশাদার কাউকে দিয়ে ভিডিয়ো এডিট করিয়ে নিন।  

• চেষ্টা করুন, ভিডিয়োয় ‘নিজস্বতা’ বজায় রাখার। যে ভিডিয়োই চ্যানেলে পোস্ট করুন, কখনও নিজেকে ‘ওভার-স্মার্ট’ দেখাতে যাবেন না। ব্যক্তিগত জীবনে আপনি যে রকম, সে ভাবেই নিজেকে পেশ করুন। এতে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। পাশাপাশি আরও বেশি সংখ্যক মানুষ আপনার সঙ্গে একাত্মবোধ করবেন। এই প্রসঙ্গে কলকাতার এক জনপ্রিয় ইউটিউবার বলছিলেন, ‘‘ভিউয়ার্সকে নিজের পরিবর্ধিত পরিবার মনে করতে হবে। আমি যে ভাবে বাবা, মা, ভাইয়ের সঙ্গে মিশি, ঠিক সেই ভাবেই ভিডিয়ো বানাতে হবে।’’

একটু ব্যক্তিগত টাচই কিন্তু আপনার ভিডিয়োকে সর্বজনীন করে তুলতে পারে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন