ক্যানসার রোগী চিহ্নিত করতে এ বার মহকুমা স্তরে স্বাস্থ্য শিবির করতে উদ্যোগী হচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দফতর।
ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর হার বাড়ছে বলে চিকিত্সকদের দাবি। ক্যানসার, হৃদরোগ, ডাবায়েটিস-সহ কয়েক’টি রোগ থেকে মুক্তি পেতে কোন পথে চলতে হবে সে ব্যাপারে চিকিত্সক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলের মধ্যেই সচেতনতা জাগাতে শিবির করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার একটি প্রকল্পও নিয়েছিল। যার নাম ‘ন্যাশনাল প্রোগ্রাম এন্ড কন্ট্রোল অব কার্ডিওভাসকুলার ডিজিস: ডায়াবেটিক, ক্যানসার, স্ট্রোক’ এই ধরনের প্রকল্প থাকলেও তা বাস্তবায়িত করতে কাউকেই উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি। এ বার জেলা প্রশাসন তা বাস্তবায়িত করতে পদক্ষেপ করল। তবে প্রথমে ক্যানসার নিয়েই প্রচার ও শিবিরের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। কেন?
জেলা উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেন, “ক্যানসার সম্পর্কে মানুষের মনে এখনও সচেতনতার অভাব রয়েছে। এমনকি গ্রামীণ হাসপাতালগুলিতে থাকা চিকিত্সকদের মধ্যেও এই রোগ ধরার ক্ষেত্রে অনেক সময় উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। তাই এটাতে বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছি।”
কী ভাবে সেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে? স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, ক্যানসার হওয়ার কারণ ও রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়া সম্বন্ধে চিকিত্সকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে জেলায় ৬২ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। রবিবার জেলার আরও ৬০ জন চিকিত্সককে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীকালে নতুন যে সব চিকিত্সক জেলায় আসবেন তাঁদেরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রশিক্ষণ দিয়েছেন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারের আশিস মুখোপাধ্যায়, শিবাশিষ ভট্টাচার্যের মতো বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকেরা। মেয়েদের ক্ষেত্রে মূলত, মুখে, বুকে ও প্রজননতন্ত্রে, আর পুরুষদের ক্ষেত্রে মুখে ও ফুসফুসে ক্যানসার হয়েছে কি না তা বোঝার সহজ উপায়, কী ভাবে তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, তার জন্য ধূমপান, মাংস-সহ কী খাবার খাওয়া বারণ, কী খাওয়া উচিত প্রভৃতি।
প্রাথমিক ভাবে রোগ নির্ণয়ের বিষয়টি দেখার পরেই গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে রোগীকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে পরীক্ষার পর শুরু হবে চিকিত্সা। রবীন্দ্রনাথবাবু বলেন, “প্রথম স্তরেই রোগ ধরা পড়লে সহজেই তা সারানো সম্ভব। নতুবা মৃত্যুর আশঙ্কা থেকেই যায়।” সেই লক্ষ্যেই এ বার মহকুমাস্তরে রোগ নির্ণয় শিবিরেরও আয়োজন করা হবে বলে তিনি জানান। চারটি মহকুমাতেই চারটি শিবির করে রোগ নির্ণয় ও এই ধরনের রোগী পাওয়া গেলে তাঁর চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।