Advertisement
E-Paper

ধমনীতে ব্লকেজের নেপথ্যে দায়ী দু’ধরনের প্লাক! কোনটি কী ভাবে হার্টের ক্ষতি করে জানেন?

হার্টে প্লাক জমার ধরন সব ক্ষেত্রে এক রকম হয় না। প্লাক নানা রকমের হতে পারে। চরিত্র ভেদে প্লাক হার্টে বিভিন্ন ভাবে প্রভাব ফেলে। দু’টিকে শনাক্ত করার পদ্ধতিও আলাদা। তাই এই দুই প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া দরকার।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৪৩
হার্টে কত ধরনের প্লাক জমে?

হার্টে কত ধরনের প্লাক জমে? ছবি: সংগৃহীত।

হার্টের রোগ বা হার্ট অ্যাটাকের নেপথ্যে যে কারণগুলি থাকে, তার মধ্যে অন্যতম হল প্লাক। অর্থাৎ ধমনীর রাস্তায় বাধা সৃষ্টি। একেই বলা হয় অ্যাথেরোস্‌ক্লেরোসিস। কিন্তু এই প্লাক আসলে কী? ধমনীর ভিতরের দেওয়ালে চর্বি, কোলেস্টেরল, ক্যালশিয়াম ও অন্যান্য পদার্থ জমে জমে এক ধরনের চটচটে বা আঠালো দানা তৈরি হয়, যা রক্ত চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি করে। তার কারণ প্লাক জমে গিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই ধমনী সরু ও আড়ষ্ট হয়ে যায়। অক্সিজেন-সমৃদ্ধ রক্তচলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও অন্যান্য হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

তবে হার্টে প্লাক জমার ধরন সব ক্ষেত্রে এক রকম হয় না। প্লাক নানা রকমের হতে পারে। চরিত্র ভেদে প্লাক হার্টে বিভিন্ন ভাবে প্রভাব ফেলে। দু’টিকে শনাক্ত করার পদ্ধতিও আলাদা। তাই এই দুই প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া দরকার। আমেরিকাবাসী হার্টের চিকিৎসক (কার্ডিয়োথোরাসিক সার্জন) জেরেমি লন্ডন দু’টি প্লাকের মধ্যে পার্থক্য বোঝালেন সমাজমাধ্যমে।

হার্ট অ্যাটাকের নেপথ্যে ধমনীর দু’ধরনের প্লাক।

হার্ট অ্যাটাকের নেপথ্যে ধমনীর দু’ধরনের প্লাক। ছবি: সংগৃহীত।

প্লাক দুই ধরনের হয়— নরম প্লাক এবং শক্ত প্লাক।

নরম প্লাক: চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘ভালনারেবল প্লাক’ বলা হয়। নরম প্লাক মূলত চর্বি এবং প্রদাহজনক কোষ দিয়ে গঠিত, যার উপরে খুব পাতলা একটি আস্তরণ থাকে। এই পাতলা আস্তরণটি দুর্বল হওয়ায় যে কোনও সময় ফেটেও যেতে পারে। ধমনীতে রক্ত চলাচলের পথ অনেকখানি খোলা থাকা সত্ত্বেও এই ছোট প্লাকগুলি ফেটে গিয়ে বিপদ ডেকে আনে। সাধারণ অনেক পরীক্ষায় এই নরম প্লাকগুলি ধরা পড়ে না। তার মূল কারণ হল, এগুলি ধমনীকে খুব বেশি সঙ্কুচিত করে না। ফলে কোনও পূর্বলক্ষণ ছাড়াই এক জন সুস্থ মানুষেরও হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

শক্ত প্লাক: রক্তনালির দেওয়ালে জমে থাকা চর্বি, কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য উপাদানের ঘনীভূত স্তর দিয়ে শক্ত প্লাক তৈরি হয়। অনেক দিন ধরেই জমা হয় এগুলি। এর উপর প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম জমে সেটি পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ক্যালসিফায়েড প্লাক’ বলা হয়। এই প্লাকটি ধমনীর দেওয়ালকে শক্ত করে ফেলে এবং রক্ত চলাচলের পথকে সরু করে দেয়। যার ফলে হার্টের পেশিতে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছোতে পারে না। নরম প্লাকের মতো এটি সহজে ফেটে যায় না। তবে রক্তনালির স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট করে দীর্ঘমেয়াদী রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

চিকিৎসক বলছেন, শক্ত প্লাক দীর্ঘমেয়াদি রোগের ইঙ্গিত দেয় আর নরম প্লাক ইঙ্গিত ছাড়াই হার্টের ক্ষতি করতে পারে। হার্টের সমস্যার উপসর্গ দেখা দিলে, ডায়াবিটিস থাকলে, উচ্চ মাত্রায় কোলেস্টেরল থাকলে, পরিবারে হার্টের রোগের ইতিহাস থাকলে, সিটি করোনারি অ্যাঞ্জিয়োগ্রাম করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক। তাতে দুই ধরনের প্লাকই শনাক্ত করা যায়। জেরেমির কথায়, ‘‘ভুলবেন না, এটি কেবলই স্ক্রিনিং টেস্ট। শনাক্তকরণের একমাত্র হাতিয়ার নয়। তবে এটি নির্দিষ্ট কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কাজ দিতে পারে। সব সময়ে নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নেবেন।’’

Heart Diseases Artery blockage
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy