Advertisement
E-Paper

চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে ভাঙচুর

ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত এক বালকের মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতালে ভাঙচুর চালাল গ্রামবাসীরা। সোমবার রাতে কেশিয়াড়ি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনা। মৃতের নাম বিষ্ণু যাদব (৬)। উত্তরপ্রদেশের কানপুরের বাসিন্দা বিষ্ণু দিন ছ’য়েক আগে কেশিয়াড়ির কুকাই গ্রামে মামার বাড়িতে বেড়াতে আসে। দিন কয়েক আগে থেকেই জ্বরে ভুগছিল সে। সোমবার সকাল থেকে জ্বর বাড়তে থাকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০০:৪৪

ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত এক বালকের মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতালে ভাঙচুর চালাল গ্রামবাসীরা। সোমবার রাতে কেশিয়াড়ি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনা। মৃতের নাম বিষ্ণু যাদব (৬)। উত্তরপ্রদেশের কানপুরের বাসিন্দা বিষ্ণু দিন ছ’য়েক আগে কেশিয়াড়ির কুকাই গ্রামে মামার বাড়িতে বেড়াতে আসে। দিন কয়েক আগে থেকেই জ্বরে ভুগছিল সে। সোমবার সকাল থেকে জ্বর বাড়তে থাকে। এ দিন বিকেলে বিষ্ণুকে কেশিয়াড়ি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। রক্ত পরীক্ষা করে দেখা যায়, বিষ্ণু ফ্যালসিফেরাম ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত। এরপরেই বিষ্ণুকে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থানান্তরের আগে বিষ্ণুকে একটি ম্যালেরিয়া প্রতিষেধক ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরে অ্যাম্বুল্যান্সে ওঠানোর পরে মৃত্যু হয় তার। ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতাল জুড়ে চলে স্থানীয়দের তাণ্ডব। ভাঙচুর করা হয় ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কোয়ার্টার। হাসপাতালের নার্স ও কর্মীদের হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার সকালে নিরাপত্তার দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নার্সরা। যদিও জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের হস্তক্ষেপে আধঘণ্টা পরেই কর্মবিরতি উঠে যায়।

স্থানীয় ও স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে থেকেই জ্বরে ভুগছিল বিষ্ণু। সোমবার সকাল থেকে বমি শুরু হয় তার। সঙ্গে শ্বাসকষ্টের দরুন অবস্থা আরও জটিল আকার ধারন করে। অবস্থা ক্রমে খারাপ হওয়ায় এ দিন বিকেলে বিষ্ণুকে কেযিয়াড়ি ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রক্ত পরীক্ষা করে দেখা যায় বিষ্ণু ফ্যালসিফেরাম ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত। তারপরেই বিষ্ণুকে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার সময় বিষ্ণুর মৃত্যু হয়। মৃতের মা অর্চনা যাদবের অভিযোগ, “আমাদের আর একদিন পরেই বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। ছেলেটা জ্বরে ভুগছে দেখে হাসপাতালে এনেছিলাম। ওরা দু’টি ইঞ্জেকশন দিয়ে একঘণ্টা ধরে কাগজপত্রে সই করার নামে ছেলেকে ফেলে রাখল। হাসপাতালের লোকেরাই আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে।”

ঘটনার জেরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে গ্রামবাসীরা। হাসপাতালে চলে ভাঙচুর। হেনস্থা করা হয় কর্তব্যরত নার্স পাপিয়া দাস-সহ বেশ কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীকে। পাপিয়াদেবী বলেন, “ওই বালক হাসপাতালে যখন এসেছিল তখন ওর খুব জ্বর। সেই সঙ্গে খিচুনির সমস্যাও ছিল। তাই খড়্গপুরে যাওয়ার আগে নির্দেশ মেনে আমি ইঞ্জেকশন দিয়েছিলাম।’’ তাঁর অভিযোগ, ‘‘ওই বালকের মৃত্যুর পরে হাসপাতালে তাণ্ডব চলে। আমাকে হেনস্থাও করা হয়।” হাসপাতালের বাইরে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক তরণীকান্ত শিটের কোয়ার্টারেও ভাঙচুর চলে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পুলিশকেও বেগ পেতে হয়। মঙ্গলবার সকালে নিরাপত্তার দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন হাসপাতালের নার্সরা। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশচন্দ্র বেরা বলেন, “যে কোনও মৃত্যুই দুর্ভাগ্যজনক। রোগীর আত্মীয়দের কোনও অভিযোগ থাকলে তাঁরা থানায় জানাতে পারেন। কিন্তু এ ভাবে হাসপাতালে ভাঙচুর করা ঠিক নয়। এই নিয়ে কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ছিল। আমরা বোঝানোয় নার্স ও কর্মীরা কর্মবিরতি পালন করেননি।”

মঙ্গলবার দুপুরে কেশিয়াড়ি হাসপাতালের পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান জেলার উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক তথা ম্যালেরিয়ার নোডাল অফিসার রবীন্দ্রনাথ প্রধান। এ দিন তিনি ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পাশাপাশি নার্সদের সঙ্গে কথা বলেন। কর্মীদের কাছে হাসপাতাল চালু রাখার আবেদন জানান তিনি। হাসপাতালে নার্স ও কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশের কাছে লিখিত আবেদনের কথা জানান রবীন্দ্রনাথবাবু।

কুকাই এলাকায় ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ রোধেও স্বাস্থ্যকর্মীদের নজর রাখার নির্দেশ দেন রবীন্দ্রনাথবাবু। তিনি বলেন, ‘‘মৃত বালক উত্তরপ্রদেশ থাকাকালীন ফ্যালসিফেরাম ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। এ ধরনের ম্যালেরিয়া ১০-১২ দিন পরে টের পাওয়া যায়। তাই কুকাই এলাকায় সংক্রমণ ছড়াচ্ছে কি না সে বিষয়ে নজরদারি চালাতে স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy