একটু বৃষ্টি হতেই নোংরা নালার জল উপচে থই থই করে হাসপাতাল। অনিয়মিত সাফাই নিয়ে রোগী, রোগীর পরিজনদের ক্ষোভ লেগেই থাকে। তাল মিলিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যাও অপ্রতুল।
সম্প্রতি কালনা মহকুমা হাসপাতালের এমন বেহাল দশা ঘুরে দেখে গেলেন বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের নতুন সাংসদ সুনীল মণ্ডল। প্রয়োজনের তুলনায় কম নার্স ও গ্রুপ ডি স্টাফের সমস্যা মেটাতে তাঁর আশ্বাস, “চলতি মাসে এলাকার সমস্ত হাসপাতালের সুপার ও নার্সিং সুপারদের নিয়ে যে বৈঠক হবে, সেখানে বিস্তৃত ভাবে সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে।”
প্রায় দশ লক্ষ মানুষ চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। বেহাল দশা নিয়ে অভিযোগ আগেও ছিল, এ দিন ঘুরে দেখা গেল শুধু অপ্রতুল স্বাস্থ্যকর্মীর সমস্যাই নয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার পরিবেশই এখানে নেই। হাসপাতাল চত্বরের মধ্যে নিকাশি নালাগুলি উপচে পড়ছে আবজর্নায়। চিকিৎসকদের দাবি, একটু ভারী বৃষ্টি হলে নালা ভেসে যায়। নোংরা জলে সারা এলাকা থই থই করে। নিয়মিত যে সাফাই হয় না হাসপাতাল চত্বর, সেটা বেশ বোঝা যায়। হাসপাতালের তরফে অবশ্য ব্যাখ্যা, গ্রুপ ডি বিভাগে প্রয়োজনের তুলনায় ২০ জন কর্মী কম রয়েছে। এ সব সমস্যার কথা উপর মহলে জানান বারবার হলেও কোনও ফল হয়নি বলেও তাদের দাবি। হাসপাতাল সূত্রে খবর, এর আগে এই হাসপাতাল পরিদর্শনে এসেছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তাসহ স্বাস্থ্য দফতরের বেশ কিছু উচ্চপদস্থ কর্তা। তাঁরা ফিরে যাওয়ার পরও হাল ফেরেনি।
রবিবার বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ কয়েকজন তৃণমূলকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন সুনীলবাবু। হাসপাতালের তরফে তাঁকে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি ছোট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংবর্ধনা জানান হয়। সুপার অভিরূপ মণ্ডল এ দিন বাইরে ছিলেন। তাঁর দফতরে পৌঁছে, চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করে হাসপাতালের নানা সমস্যা নিয়ে জানতে চান সাসংদ। দীর্ঘ দিন ধরে হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্সের যে সমস্যা, তা সুনীলবাবুকে জানান চিকিৎসকরা। তাঁরা জানান, মাঝে মধ্যেই অ্যাম্বুল্যান্সটি খারাপ হয়ে যাওয়ার কারণে, পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। ক্যাম্প থেকে রক্ত নিয়ে আসার সমস্যা হচ্ছে। একটি জেনারেটরেরও দরকার।
তৃণমূল নেতা তথা, কালনা শহরের একটি থ্যালাসেমিয়া সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত অঞ্জন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “নদিয়া, হুগলি ও বর্ধমান জেলার প্রায় সাড়ে পাঁচশো থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত কর্মী এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। অথচ, এই হাসপাতালে কোনও আয়রন মাপার যন্ত্র নেই।”
এ দিন, সাংসদ ঘুরে দেখেন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডও। কথা বলেন সাধারণ রোগীদের সঙ্গে। পরিদর্শন চলাকালীন, হাসপাতালের নাসিং সুপার অভিযোগ করেন, দিন-রাত নিয়ম না মেনে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ে। সাংসদ কর্তৃপক্ষকে এন আর জি এম পরিকল্পনায়, কাছাকাছি পঞ্চায়েতের সাহায্য নিয়ে হাসপাতাল এলাকা পরিষ্কার রাখার প্রস্তাব দেন। যাবার আগে বলে যান, সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য কোন চিকিৎসক কবে থাকেন, সেই তালিকা প্রকাশ করতে হবে। হাসপাতালেরই এক চিকিৎসক অভিযোগ করেন, অনেকেই নিজের এলাকায় গিয়ে পরিষেবা দেন। সুনীলবাবু জানান, তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য হওয়ার সুবাদে বহু হাসপাতালে ঘোরার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সাসংদ বলেন, “পরিষেবার ব্যাপারে অসহযোগিতা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”