গণপিটুনি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীকে লেখা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, অনুরাগ কাশ্যপদের খোলাচিঠির সমর্থনে এ বার কলম ধরলেন আরও এক ঝাঁক বিদ্বজ্জন। নাসিরুদ্দিন শাহ, রোমিলা থাপারের মতো ব্যক্তিত্বরা নতুন একটি খোলা চিঠিতে স্পষ্ট বলেছেন, ‘আমাদের চুপ করিয়ে দেওয়া যাবে না।’যে ভাবে ৪৯ জন বিদ্বজ্জনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চিঠিতে সই করা বিভিন্ন ক্ষেত্রের ১৮০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি।তীব্র নিন্দাও করা হয়েছে চিঠিতে।

নতুন এই চিঠিটি প্রকাশ্যে এসেছে সোমবার। অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপার ছাড়াও হিন্দিতে লেখা ওই চিঠিতে সই করেছেন সিনেমাটোগ্রাফার আনন্দ প্রধান, সমাজকর্মী হর্ষ মান্দার, লেখক অশোক বাজপেয়ী ও জেরি পিন্টো, শিক্ষাবিদ ইরা ভাস্কর, কবি জিৎ ঠাইল, লেখক সামসুল ইসলাম, সুরকার টিএম কৃষ্ণ, পরিচালক-সমাজকর্মী সাবা দেওয়ানের মতো গুণীজনরা। দেশদ্রোহিতার মামলার প্রসঙ্গ টেনে প্রতিবাদী ওই চিঠিতে তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরকে এ ভাবে দমিয়ে রাখা যাবে না। তাঁরা এই ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ করেই যাবেন।

মাস তিনেক আগে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, মণি রত্নম, অনুরাগ কাশ্যপ, শ্যাম বেনেগাল, সঙ্গীতশিল্পী শুভা মুদগলের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। দেশ জুড়ে গণপিটুনির ঘটনা বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লেখা ওই চিঠিতে মোদী সরকারের অস্বস্তি বেড়েছিল। সেই চিঠির ভিত্তিতেই গত ৩ অক্টোবর বিহারের মুজফ্ফরপুরে ৪৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের হয়। সঙ্গে যুক্ত হয় দেশে অশান্তি তৈরির চেষ্টা, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত, শান্তি ভঙ্গে উস্কানির মতো অভিযোগও।

আরও পড়ুন: বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার প্রভাব ‘বেশি প্রকট’ ভারতে, বললেন নয়া আইএমএফ প্রধান

এই নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে নতুন এই চিঠিটি লিখেছেন নাসিরুদ্দিনরা। ১৮০ জন বিদ্দজ্জনের সই করা ওই চিঠির বক্তব্য, ‘‘আমাদের সহকর্মী ৪৯ জন সংস্কৃতিমনস্ক বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে, শুধুমাত্র এই অপরাধে যে তাঁরা সমাজের সম্মাননীয় ব্যক্তি হিসেবে দেশে গণপিটুনির বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।’’ এই এফআইআর-এর তীব্র নিন্দা করে চিঠিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘এটা কি নাগরিকদের চুপ করাতে রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার করে হেনস্থা করা নয়?’

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা সবাই ভারতীয় সংস্কৃতিমনস্ক হিসেবে, বিবেকবান নাগরিক হিসেবে এর তীব্র নিন্দা করি। আরও জানাই, আমাদের সতীর্থরা প্রধানমন্ত্রীকে যে চিঠি লিখেছিলেন, তার প্রতিটি শব্দ আমরা সমর্থন করি। তাই এখানে আরও এক বার শেয়ার করলাম এবং সংস্কৃতিমনস্ক, শিক্ষাবিদ-সহ সবাইকে ওই চিঠি শেয়ার করার আর্জি জানাচ্ছি। এই ভাবেই আরও অনেকে প্রতিদিন প্রতিবাদ করবে। গণপিটুনির বিরুদ্ধে, জনগণের কণ্ঠরোধের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার করে হেনস্থা করার বিরুদ্ধে।’

আরও পডু়ন: পর্যটনে কি ছাড় ভূস্বর্গে? কমবে কড়াকড়ি? খুলবে দোকানপাট? উত্তর সময়ের গর্ভেই

পুলিশের অবশ্য দাবি, ওই এফআইআর নিয়ে চিন্তা করার কোনও কারণ নেই। এফআইআর দায়ের হওয়ার পরেই বিহার পুলিশের ডিজি গুপ্তেশ্বর পাণ্ডে বলেন, ‘‘স্থানীয় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ অনুসারেই এফআইআর দায়ের হয়েছে। আমি আশ্বস্ত করতে পারি, পুরোপুরি নিয়ম মেনে তদন্ত হবে এবং উদ্বিগ্ন বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।’’